• Home
  • খেলাধূলা
  • ১০৯তম আসরে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা
খেলাধূলা চট্টগ্রাম বাংলাদেশ পরিচিতি

১০৯তম আসরে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলি খেলা এখন বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে। বলি খেলা শব্দটি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা,  যার আভিধানিক রুপ হলো মল্লযুদ্ধ বা কুস্তি প্রতিযোগিতা। চাঁটগা ভাষার “বলি” শব্দটি এসেছে বলবান থেকে। কুস্তিখেলায় জয়ীদের বলা হত বলী। বর্তমানে পেশাদার কুস্তিগীর আর লক্ষ্য করা যায় না কিন্তু প্রাচীন এই কুস্তি খেলার ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে চট্টগ্রামের জব্বারের বলী খেলা। বলি খেলার স্বর্ণযুগ ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল পর্যন্ত। আর চট্টগ্রাম জেলার সর্বত্র চৈত্র থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত বলি খেলা হতো সে সময়কালে। এ অঞ্চলের মিয়ানমারের অনেক প্রবাসী ছিলেন যারা মূলত বলি খেলার পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। পরবর্তীকালে এ দেশের প্রথিতযশা অনেকেই বলি খেলার পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করেন। সে সুত্রে চট্টগ্রামের প্রচলিত বলি খেলার প্রবর্তন করেন আব্দুল জব্বার মিয়া নামের এক সওদাগর। ১৯০৯ সালে অর্থাৎ বাংলা ১৩১৫ সনের ১২ বৈশাখ আবদুল জব্বারের বলি খেলার প্রথম আসরটি বসে, শুরু থেকেই এ আয়োজনের সভাপতি থাকতেন আব্দুল জব্বার নিজেই। আর এভাবেই তার নামানুসারেই বলী খেলার এই আয়োজনটি জব্বারের বলি খেলা নামে পরিচিত হয়ে উঠে। আবদুল জব্বার মিয়া ছিলেন বন্দর নগরীর বদরপাতি এলাকার তৎকালীন প্রভাবশালী সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। স্বাধীন ব্যবসায়ী এই জব্বার বৃটিশ শাসনকে প্রচণ্ডভাবে ঘৃণা করতেন। মূলত তার উৎসাহ অনুপ্রেরণায় দেশের যুব সমাজকে তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অধিক সংগঠিত করতে, প্রেরণা দিতে এবং সংগ্রামী হয়ে উঠার লক্ষ্যে এই খেলাটির প্রচলন করেন। ভিন্নধর্মী এই বলী খেলা আয়োজনের স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটিশ সরকার জব্বার মিয়াকে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করেন। কিন্তু নিজের আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখতে জব্বার সেই উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন। বৃটিশ ও পাকিস্তানি আমলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও তৎকালীন বার্মার আরাকান রাজ্য থেকেও বলী কিংবা কুস্তিগিররা আসত এই খেলায় অংশ নিতে। বলি খেলা শুরুর আগে ঢোল বাজিয়ে প্রচার প্রচারনা চালানো হয়। আর খেলার মঞ্চে সঙ্গী সমর্থকদের নিয়ে ঢোল বাজিয়েও বলিদের প্রবেশ করার রীতি সুদীর্ঘকাল ধরেই হয়ে আসছে। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্বে যাচাই বাছাই শেষে একজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

শত বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে বলী খেলার এই ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে। বলী খেলা উপলক্ষে লালদীঘি ও এর আশে পাশের রাস্তা সমুহে যান চলাচল সম্পূর্ণ রুপে বন্ধ রাখা হয়, তাছাড়া প্রতি বছর মেলার ব্যাপ্তি সম্প্রসারিত হওয়ায় সড়কের উপড়ই ব্যাবসায়িরা বসছে তাদের পসরা সাজিয়ে। বলি খেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য, স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামীণ লোকজ মেলা যা খেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘির আসে পাশে ৩দিন ধরেই চলতে থাকে। বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় লোকজ উৎসব হিসেবে প্রসিদ্ধ এই মেলা। বলি খেলা শুরুর প্রায় সপ্তাহখানেক আগে হতেই বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের বিক্রির সামগ্রী নিয়ে হাজির হন লালদীঘি মাঠে। মাটির তৈজষপত্র, মুড়ি-মুড়কি, বেত বাঁশের জৈতষপত্র, শীতলপাটি, ছোট ছোট হাতের তৈরি খেলনা, রঙিন হাতপাখায় সাজে মেলা প্রাঙ্গন। চট্টগ্রামের মানুষের মুখে প্রচলিত আছে, এমন কোন জিনিস নেই যা এই মেলায় পাওয়া যায় না। তাই সারাবছর গৃহস্থ নর নারী মুখিয়ে থাকে এ মেলার অপেক্ষায়। সারা বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মেলায় যোগ দেয় সর্বস্তরের মানুুষ। এই মেলার স্থায়িত্বকাল ৩দিন হলেও স্থানীয়ভাবে এর প্রভাব থেকে যায় গোটা মাস ধরেই। 

শতবর্ষী আব্দুল জব্বারের বলিখেলাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর কাছে আবেদন করতে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে না রেখে বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে দিতে এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।  শত বছর পূর্ব থেকেই তার ধারাবাহিকতা ঠিক রেখে উৎসব মুখর পরিবেশে প্রতি বছরের ১২ বৈশাখ অর্থাৎ ২৫এপ্রিল চট্টগ্রামের নগরীর লালদীঘি ময়দানে এ ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এবার ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলি খেলার ১০৯তম আসর বসতে যাচ্ছে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায়। জব্বার মিয়ার বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অহংকারে পরিণত আজ।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

হারজিৎ চিরদিন থাকবে, তবুও সামনে এগিয়ে যেতে হবে

Engr. Mohammad Nizamuddin

বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনঃ নান্দনিক সৌন্দর্যের মসজিদ

MasudRana

চিটাগং টু চাট্টগ্রাম

MP Comrade

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: