Now Reading
কপিরাইট নিয়ে ধোঁয়াশা?



কপিরাইট নিয়ে ধোঁয়াশা?

কপিরাইট বিষয়টা নিয়ে অনেকের মাঝেই ধোঁয়াশা কাজ করে। অনেকেই জানেনই না কপিরাইট সত্যিকার অর্থে কি বা এর প্রকৃত ব্যবহার। কপিরাইট বলতে বুঝানো হচ্ছে মেধার মালিকানা। অনেকেই ভাবেন কপিরাইট শুধু বইয়ের ক্ষেত্রে হয় তা কিন্তু নয় আরও কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে কপিরাইট দাবি করা যায়। যেমন চলচ্চিত্র, স্থির চিত্র, সংগীত কিংবা নাটক, সফটওয়্যার প্রভৃতি। বর্তমানে যেকোনো আর্কাইভ কিংবা রেকর্ড কর্মের জন্যও কপিরাইট নিবন্ধন এর ব্যাবস্থা আছে। যেকোনো সৃজনশীল ও মৌলিক কাজের ওপর প্রণেতার যে একচ্ছত্র অধিকার জন্মে তা-ই হচ্ছে কপিরাইট। ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই যুগে ছবির কপিরাইট নিয়ে মুশকিলে পড়ছেন অনেক পেশার মানুষজন। তবে সবচেয়ে হুমকির মুখে পড়েছেন আলোকচিত্রীরা। তাদের ছাপা হওয়া ছবি অনেকেই ফেইসবুকে শেয়ার করছে অনুমতি ছাড়াই, আর এমন নজির রয়েছে প্রচুর। ছবি স্বত্বাধিকারীর অনুমতি ছাড়াই এর ব্যবহার ঠেকানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। তবে নিবন্ধন না থাকলে কপিরাইট এর দাবী কোনভাবেই টিকবে না। কপিরাইট সুরক্ষার জন্য প্রণেতার উচিত তাঁর সৃষ্টকর্মটির সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নিবন্ধন করিয়ে নেওয়া। নিবন্ধন করা থাকলে কপিরাইট ভঙ্গ করে কেউ নকল করলে, তার আইনি প্রতিকার পেতে সুবিধা হয়। বাংলাদেশে কপিরাইটের নিবন্ধনের জন্য ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত কপিরাইট কার্যালয় থেকে নির্ধারিত আবেদনপত্র সংগ্রহ করে কপিরাইট করা যাবে ।

অনুমতি ছাড়া কেউ স্থির চিত্রের বাণিজ্যিক ব্যবহার করলে ছবির মূল্যের তিনগুণ অর্থ জরমানা হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, “একটি ছবির মূল্য ৫০০০ হাজার টাকা, উক্ত ছবির মালিকের অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের জন্য মুল্যের সমপরিমাণ জরিমানা এবং ক্রেডিট লাইন না দেয়ার জন্য আরেকটি জরিমানাসহ তিনগুণ অর্থ মিলে দিতে হবে ১৫০০০টাকা। কেউ যদি কোনো লেখক বা প্রণেতার বই অথবা কোনো সৃষ্টকর্ম নকল করে, তবে শাস্তি হিসেবে কপিরাইট ভঙ্গকারীর চার বছরের জেল ও সর্বনিম্ন ছয় মাসের জেল হতে পারে। আর্থিক জরিমানার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ও সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। চলচ্চিত্রের বেলায় এ শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ও সর্বনিম্ন এক বছর এবং আর্থিক জরিমানার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ও সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। 

কপিরাইট দাবীকারী ব্যাক্তি দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় ক্ষেত্রে প্রতিকার চাইতে পারবেন। ফৌজদারি বিচার হয় দায়রা জজ আদালতে, এছাড়াও জেলা জজ আদালতে ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞার প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে।

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment