Now Reading
সভ্যতার ক্রমবিকাশে চট্টগ্রাম বন্দরের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা- প্রধানমন্ত্রী



সভ্যতার ক্রমবিকাশে চট্টগ্রাম বন্দরের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা- প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। আধুনিক ব্যবস্থাপনায় ১৩১ বছর পার করছে চট্টগ্রাম বন্দর।  বন্দরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য দিনটি উৎসব ও আনন্দের। এইদিনে তাই বন্দরের সর্বত্র বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। এদিকে প্রতি বছরের ন্যায় বন্দর দিবসের অনুষ্ঠানে বন্দরের সব স্টেকহোল্ডারসহ বিশ্বের নানা দেশ থেকে বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বন্দরের যন্ত্রপাতি সরবরাহকারীরা অংশ নেবেন। ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনার গঠিত হওয়ার পর  ১৮৮৮ সালের ২৫ এপ্রিল তা কার্যকরের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। তাই এই দিনটিকে বন্দর দিবস হিসেবে পালন করা হয়। যদিও আনুষ্ঠানিক যাত্রার অনেক পূর্ব থেকেই জাতীয় উন্নয়নে এ বন্দর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় এ বন্দরের গুরুত্ব আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। প্রাচীনকাল হতেই বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

১৩১তম বন্দর দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ বাণী দিয়েছেন নিন্মে তা হুবহু তুলে ধরা হল:

“চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ১৩১তম বন্দর দিবস পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের সকল বন্দরের শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সম্প্রতি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০১৫ সালে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশের এই অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি তথা বৈদেশিক বাণিজ্য। বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সমুদ্রবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রামবন্দর শিল্প-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নয়, এ অঞ্চলে সভ্যতার ক্রমবিকাশে এ বন্দরের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। আওয়ামী লীগ সরকার এ বন্দরকে একটি বিশ্বমানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। স্বয়ংক্রিয় কন্টেইনার অপারেশন নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সিটিএসএস এবং বন্দরে নিরাপদে জাহাজ যাতায়াত ও বহিঃনোঙ্গরে অবস্থানকালে জাহাজসমূহকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার জন্য আধুনিক ভিটিএমআইএস চালু করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিককার্যক্রম ডিজিটাল করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে এ বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহকে ব্যবহারের সুবিধা প্রদানের জন্য এটিকে আরো আধুনিক ও আকর্ষণীয় বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো লাভবান হবে।

আমি আশা করি, সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চট্টগ্রামবন্দর আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আমি ১৩১ তম বন্দর দিবস উপলক্ষে গৃৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদে চিরজীবী হোক।”

 

চট্টগ্রাম সামুদ্রিক বন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ  বা চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটি। এটি সরকারী স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হিসেবে একজন চেয়ারম্যান ও চার জন সদস্যের সমন্বয়ে  গঠিত বোর্ড দ্বারা বন্দরের সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করে। সময়ের সাথে বেড়েছে বন্দরের পরিধি আধুনিক হয়েছে এর যন্ত্রপাতি। বর্তমানে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির ৯২ভাগই পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে। বিশ্বব্যাপী কন্টেইনার পোর্ট ব্যাবস্থাপনায় অভিজাত লয়েডস লিস্টে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৬নাম্বারে। বে টার্মিনালের মত দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি বন্দরে নেয়া হয়েছে বেশ কিছু মধ্য ও স্বল্পমেয়াদী উদ্যোগ। নাব্যতা সংকট, আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, বে টার্মিনাল নির্মাণ ইত্যাদি সংকট দূর হলে এই বন্দর বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অনন্য উচ্চতায়। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ ও আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক চট্টগ্রাম বন্দর।

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment