কেইস স্টাডি খাবার দাবার

সুস্থতার চাবিকাঠি “খাদ্যাভাস পরিবর্তন”

অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অসুস্থ হবার প্রবণতা বাড়ছে দিন দিন। মূলত রাস্তা ঘাটের খোলা খাবারের প্রতিই আসক্তি বেশি মানুষের, আর এসব খাবারই হয়ে উঠছে তার অসুস্থ হবার প্রধান কারণ। এছাড়াও বিভিন্ন হোটেলের খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ লক্ষণীয় যার অধিকাংশতেই তৈলাক্ত, চর্বিযুক্ত, মাত্রাতিরিক্ত লবণ-চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত অস্বাস্থ্যকর খাবারের আধিক্য লক্ষনীয়।

ফলে মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, স্থুলতা সহ ইত্যাদি অসংক্রামক রোগ এর প্রকোপ বাড়ছে। মূলত এসব খাবারে অভ্যস্থ হওয়ার পেছনে বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে, তার মধ্যে জনসচেতনতার অভাবে, স্বাস্থ্যকর খাবারের সীমিত যোগান, অস্বাস্থ্যকর খাবারের আগ্রাসী প্রচারণা এবং তার সহজ প্রাপ্যতা।  গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি মস্তিষ্কের আকর্ষণ রয়েছে। এ কারণেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ে। যেকোন খাবার গ্রহণে মুখের মধ্যে বিশেষ অনুভুতি সৃষ্টি করে যা ডাক্তারি ভাষায় ‘অরোসেনসেশন’ বলা হয়, আর এটাই হল অস্বাস্থ্যকর খাবার বা ‘জাঙ্ক ফুড’য়ের প্রতি অদম্য আগ্রহের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আবার অন্যদিকে খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ আমাদের খাদ্য গ্রহণের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। সব খাবারেই কমবেশি আমিষ, চর্বি ও কার্বোহাইড্রেইটের মিশ্রণ থাকে। তবে জাঙ্ক ফুডের ক্ষেত্রে লবণ, চিনি ও চর্বি এর অধিক মিশ্রণ থাকে। ফলে এই মিশ্রণ আমাদের মস্তিষ্কে উত্তেজনা সৃষ্টিতে সহায়তা করে এবং এ ধরনের খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জ্ঞান আহরণের জন্য নিয়োজিত। আর এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশতেই তাদের ক্যান্টিনগুলোতে স্বাস্থ্যকর খাবার সহজপ্রাপ্য নয়। উল্টো এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফাস্টফুড, জাঙ্কফুড, কোমল পানীয়, এনার্জি ডিঙ্কসসহ অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হয়। এ খাবারগুলো সাময়িক ক্ষুধা নিবারণ করলেও কিন্তু অপরদিকে শরীরে দীর্ঘমেয়াদী রোগের বীজ বুনে যাচ্ছে। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৬০% অসংক্রামক রোগ দ্বারাই হয়। আর এসব অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস। মানুষ তার স্বাস্থ্যকর জীবন সম্পর্কে সচেতন হয়ে তার আচরণগত কিছু পরিবর্তন আনলে এসব জটিল ও ভয়াবহ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

তাই বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিনগুলোতে এবং হোটেলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। এসব জায়গায় যদি স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা কিংবা যোগান নিশ্চিত করা থাকে তবে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাবে। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে সুস্থ্য থাকে শরীর ও মন যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরো আনন্দদায়ক করে দেয়।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

প্রায়ই খাচ্ছেন পোকা-মাকড় অথচ জানেন না!

MP Comrade

আনারস এবং দুধ একসাথে খেলে কি মৃত্যু হয় ? নিছক কুসংস্কার নাকি বাস্তবতা ??

Rysulislam

জেনে নিন খাদ্যে ভেজাল চিহ্নিত করার ঘরোয়া উপায়!

AH Arman

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: