প্রযুক্তি বাংলাদেশ পজিটিভ

মহাকাশে যাচ্ছে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট

দারুণ একটা সুখবর দেশের মানুষের জন্য, আগামী ৭ মে রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যেই বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হতে যাচ্ছে। যদিও উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখ ৪ মে ছিল এখন তা পরিবর্তীত হয়ে ৭ মে নির্ধারণ হয়েছে। আবহাওয়াগত কোনো সমস্যা না থাকলে এবং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেসএক্স’ যদি নতুন করে তারিখ নির্ধারণ না করে তবে আগামী ৭ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশের পথে যাত্রা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড থেকে স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষপণ করা হবে। ফ্রান্সভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষ এবং অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান “থেলেস এলেনিয়া স্পেস” বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে। স্যাটেলাইটটি তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর বিটিআরসির সাথে টার্ন কি পদ্ধতিতে কোম্পানিটির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হল ২৭৬৫ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩১৫ কোটি টাকা এবং বাকি অবশিষ্ট টাকা বিডার্স ফাইনান্সিং এর মাধ্যমে তার ব্যয় সংকুলান হয়েছে, যা দিচ্ছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি। ১৫ বছরের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে অরবিটাল স্লট কেনা হয়েছে বিএস-ওয়ান এর জন্য। তবে বিএস ওয়ানের স্থায়িত্ব হতে পারে ১৮ বছর পর্যন্ত।

বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কম্পানি স্পেসএক্স বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখ ৪ মে এর পরিবর্তে ৭ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বাংলাদেশে সরকারের পক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নিজস্ব স্যাটেলাইটের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসাবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণস্থল ফ্লোরিডায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়সহ সরকারের ৪২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ৮ মে সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এর উদযাপন প্রস্তুতি রয়েছে।মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান হবে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য বাংলাদেশ ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারস্পুটনিক’ এর কাছ থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় (স্লট) কক্ষপথ স্লট ক্রয় করে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বা সংক্ষেপে বিএস-ওয়ান  মূলত একটি যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট। শক্তিশালী কেইউ ও সি ব্যান্ডের মাধ্যমে এটি সবচেয়ে ভালো কাভার করবে গোটা বাংলাদেশ, সার্কভুক্ত দেশসমূহ, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়া।

এই স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি থাকছে কেইউ ব্যান্ডে, যদিও একটা সমস্যা হল এতে এক ফোঁটা বৃষ্টি হলেই ফ্রিকোয়েন্সি ঠিকমত কাজ করে না। তাই বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলো বাকি ১৪টি সি-ব্যান্ডের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কেননা তারা মনে করছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যে অরবিটাল স্লটে স্থাপন করা হবে, তার মাধ্যমে কাজ করা টেলিভিশনগুলোর জন্য হবে একটি চ্যালেঞ্জ। এই স্যাটেলাইট চালু হলে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস সুবিধা পাওয়া যাবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অপটিক কেবল বা সাবমেরিন কেবল পৌছায় নি সেসব জায়গায় এ স্যাটেলাইটের সাহায্যে ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশে এই স্যাটেলাইট স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের যেমন নির্ভরতা কমবে অন্য দেশের ওপর, তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

একটি সুন্দর কাজ আরেকটি সুন্দর কাজের জননী!

Md. Harunur Rashid

যদি বাংলাদেশের ড্রোন বিমান থাকতো!

Ferdous Sagar zFs

অবশেষে সমাধান মিলেছে কঠিন ভাইরাসের ! ! !

Ashraful Kabir

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy