শিশু নিরাপত্তা ও ভবিষ্যত

কার ভরসায় রেখে যাচ্ছি শিশু ?

আধুনিক যুগে সমাজের সাথে তাল মিলিয়ে পুরুষের সাথে কাজ করছে নারী , কাজের প্রয়োজনে অনেকটা সময় ঘরের বাইরে কাটাতে হয় তাঁকে। কেউ সকালে গিয়ে বিকেলে ফেরে আবার কেউ বা ফেরে সন্ধ্যায়। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই সন্তান খুবই ছোট। খুব স্বাভাবিক ভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে, কাজ করার সময় কোথায় রেখে যান তাঁরা তাঁদের সন্তানকে ?  বাসায় দাদি নানি থাকলে চিন্তা অনেকটাই কমে যায় কিন্তু, যে সকল পরিবারে দাদি নানি গ্রামে থাকে তাদের মহা বিপদে পড়তে হয়। তাঁরা তাঁদের সন্তানকে রেখে যায় গৃহ পরিচারিকার কাছে। এই গৃহ পরিচারিকাদের কাছে আমাদের সন্তান কতটা নিরাপদ ? এই প্রশ্নের উত্তর এখন খুব সহজে দেওয়া যায় না কারণ চারপাশে প্রতিদিন যা সব দুর্ঘটনার খবর শোনা যায় তাতে মন সংশয়ে ভরে ওঠে। যে কোনও সময় যে কোনও ধরনের বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে তা জেনেও নারীরা তাদের সবচেয়ে প্রিয় সন্তানকে রেখে যাচ্ছে গৃহ পরিচারকের কাছে বাধ্য হয়ে। কারণ এ ছাড়া তাঁদের কাছে আর কোনও পথ খোলা নেই। কিছু দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও খুব বেশি ভাইরাল হয় সেখানে দেখা যায় এক গৃহপরিচারিকা কীভাবে ছোট্ট শিশুর উপর অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছিল শুধুমাত্র কান্না করার কারণে। ছোট্ট দুধের শিশুটিকে গোসল করিয়ে এনে আছাড় দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় সে আবার কাপড় পড়ানোর সময় একই নির্যাতন চালাতে থাকে সে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচণ্ড রকমের আঘাত করে তাতে শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায় এবং সেটি দেখে গৃহ পরিচারিকা আরও জোরে মারতে থাকে।সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজে এই সকল অত্যাচারের দৃশ্য ধারণ হয়ে থাকে। এ ছাড়া আরেকটি ঘটনায় কিছুদিন আগে দেখা যায় যে নেপালে বিমান দুর্ঘটনার পর নেপালের বিমানের কেবিন ক্রু তার সন্তানকে বাড়িতে রেখে যেত এক গৃহ পরিচারিকার কাছে। কিন্তু দুর্ঘটনার পর তাঁর সেই সন্তানকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না এবং একই সাথে এই গৃহ পরিচারিকাকেও । এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা শুনে মানুষের মনে সংশয় জাগে আমরা কার কাছে রেখে যাচ্ছি আমাদের সন্তানকে ? সে কি নিরাপদে থাকতে পারবে আমি ফিরে আসার আগ পর্যন্ত ? এরকম ঘটনা বারংবার আমাদের সমাজে ঘটতে থাকলে মানুষ কার উপরেই বা বিশ্বাস রাখবে ? কীই বা হতে চলেছে এর ভবিষ্যত ? যেখানে ছোট্ট শিশুটিকে গৃহপরিচারিকার উচিত ছিল আদর যত্নে রাখা, তাদের সাথে খেলা করে কিংবা বাইরে ঘুরতে নিয়ে যেয়ে মনটা ভাল করা সেখানে কেন তারা এ রকম বিরূপ আচরণ করছে ? এতে তাদের স্বার্থটাই বা কী ? আবার অনেক সময় শোনা যায় কিছু গৃহ পরিচারিকা শিশুদেরকে কোলে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে পড়ে ভিক্ষা করার জন্য। একটি শিশু দেখলে অনেকেই দয়া পরশ হয়ে তাদেরকে ভিক্ষা দেয়। পৃথিবীতে এখন সবাই তার নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবনায় থাকে। এ জন্যই তাদের নিজের স্বার্থের বাইরে একটুও ভাবতে পারে না, যার কারনে অনেক মানবিকতার অভাব তাদের মধ্যে. এ কারণেই তাঁরা শিশুদের সাথে খারাপ ব্যবহার করার সময় বিন্দুমাত্র চিন্তা ভাবনা করে না। প্রতিনিয়ত এভাবে চলতে থাকলে কখনোই মানুষ অন্য কার ওপর বিশেষ করতে পারবে না। তবুও কর্মজীবী নারীদের কে এভাবেই তাঁদের সন্তানকে গৃহ পরিচারিকার হাতে সমর্পণ করে কাজে বেরতে হয় কারণ তারা যে নিরুপায়। আমরা কি একটা সুষ্ঠু সমাজ আশা করতে পারি না যেখানে কর্মজীবী নারীরা বেরিয়ে যাবে তাঁদের সন্তানকে নিশ্চিন্তে রেখে গৃহ পরিচারিকার হাতে ? আমরা সবাই আশা করি এমন একটি দিন আসুক যে দিন আমাদের সন্তানরা থাকবে নিরাপদ, সুস্থ, বিপদ মুক্ত।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

“ নিরাপত্তাহীনতার বলয়ে শিশুরা ” সমাজের করণীয় কি ?

Rajib Rudra

বুলিং এর কবলে শিশু-কিশোর’রা

MP Comrade

নবজাতকের মৃত্যুতে বেকায়দায় স্কয়ার হাসপাতাল!

MP Comrade

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy