আলোচনায় ব্রেকিং নিউজ খাবার দাবার

প্রায়ই খাচ্ছেন পোকা-মাকড় অথচ জানেন না!

ভাবতেই গা শিউরে উঠার কথা, নিজেদের অজান্তেই আপনি আমি খেয়ে বসছি পোকামাকড়! হয়ত ভাবছেন কিভাবে তা সম্ভব? কিন্তু এটাই বাস্তবতা আপনি অনেক দিন ধরেই অজান্তে সেগুলো খেয়ে আসছেন, আর এসব তথ্য সবটাই আপনার অজানা। লাল রঙের প্রতি প্রত্যেকেরই আলাদা একটা আকর্ষণ রয়েছে। প্রায় সবকিছুতেই ব্যাবহার করা হয় এই লাল রঙ বিশেষ করে খাবারের রঙে। আর খাবারের এই লাল রঙ করতে কারমাইন নামক একটি বিশেষ পদার্থ ব্যবহৃত হয়। কিন্তু চমকে উঠার মত কথা হল বিশেষ এই পদার্থ কারমাইন তৈরি হয় পোকামাকড় শুকিয়ে চূর্ণ করেই। আর এসব পোকামাকড় এর জন্মস্থান দক্ষিণ আমেরিকায় যেখানে ক্যাকটাসের উপর ছত্রাকের মত কোকোহিনেল নামের এক ধরণের পোকা থাকে। আর সেই পোকাগুলোকে অটোমেশিনে চূর্ণ করেই তৈরি করা হয় খাবারের লাল রঙের উপকরণ কারমাইন। তবে দক্ষিণ আমেরিকায় মূল জন্মস্থান হলেও ব্যাপক চাহিদার কারণে পৃথিবীর আরো বহুদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিবছর ক্ষুদ্রাকৃতির এরকম কোটি কোটির পোকার চাষ করা হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম পেরু, তারা বিশ্বে কারমাইন উৎপাদনের ৯৫ শতাংশই দখল করে আছে। পেরুর বেশিরভাগ মানুষজনই দরিদ্র, তারা বেঁচে থাকার জন্য কারমাইনের ওপর নির্ভর করে আছে। তবে কারমাইনের জন্য উৎকৃষ্ট হল স্ত্রীলিঙ্গের পোকাগুলোই,  কারণ এগুলোর ডানা থাকে না, ফলে উড়তেও পারে না।

তৈরিকৃত কোন খাদ্যে কারমাইন এর ব্যাবহার নেই, প্রায় প্রতিটিতেই ব্যাপকভাবে ব্যাবহার হচ্ছে কারমাইন। আইসক্রিম, দধি. ফলের পাই কিংবা কোমল পানীয়তে ব্যবহৃত হচ্ছে কারমাইন। কোন খাবারের প্যাকেট কিংবা কোমল পানীয় এর বোতলে খাদ্য উপাদান তালিকায়  চোখ বোলালে হয়ত কারমাইন নামটি সরাসরি দেখতে পাওয়া যাবে না। এর পরিবর্তে হয়তো লেখা রয়েছে, প্রাকৃতিক লাল রঙ অথবা ক্রিমসন লেক। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কারমাইনকে ই১২০ নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করেছে, এটাও কারমাইনের সংক্ষিপ্ত রুপ হিসেবে খাদ্য উপকরণ তালিকায় উল্ল্যেখ থাকে। যার ফলে কারমাইন সম্পর্কে মানুষের ধারণা অগোচরে থাকে। আর কারমাইন যে পোকা মাকড় দ্বারাই তৈরি হয় এটার স্পষ্ট উল্ল্যেখ কোথাও রাখা হয়না।

খাবারে রঙ করার জন্য কোকোহিনেল পোকার চূর্ণ  কারমাইন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের খাদ্য শিল্পে। আশার কথা হচ্ছে কারমাইনের এই ব্যবহার নিরাপদ আর দীর্ঘস্থায়ী, যা তাপ বা আলোতেও নষ্ট হয়না। খুব কম মানুষেরই এই খাদ্য উপাদানে সমস্যা হয়। অতীত ইতিহাসে খাবারের উপাদান হিসাবে কারমাইন এর ভালো কিছু উদাহরণ আছে। পাঁচশো বছর পূর্বেও দক্ষিণ আমেরিকান মায়া নৃগোষ্ঠী এবং পরবর্তী অ্যাজটেক জনগোষ্ঠীতে এই পোকার চূর্ণ ব্যবহারের প্রচলন ছিল। বর্তমান সময়ে খাবারে এই উপাদান ব্যাবহারের ব্যাপক চাহিদায় এর প্রভাব পড়ছে এর দামেও। বিগত চার বছরে কারমাইনের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ শতাংশ।

বর্তমানেও কৃত্রিম উপায়ে তৈরি খাবারের রঙের তুলনায় কারমাইন এর তৈরি রঙ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অধিকতর ভালো বলে অনেকের যুক্তি। এখন প্রাকৃতিক অন্য অনেক উপাদান থেকেও লাল রঙ তৈরি হচ্ছে, কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞের দাবী সেসবের তুলনায় পোকামাকড় দ্বারা তৈরি কারমাইন এর রঙ নিরাপদ। অনেকের প্রশ্ন উঠেছে নিরাপদ হউক আর অনিরাপদ হউক,  খাদ্য পণ্যের প্যাকেট কিংবা বোতলের গায়ে এই পণ্যটির ব্যবহারের কথা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। কেউ যদি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করতে চায় সেটা তার সিদ্ধান্ত, কিন্তু তথ্য গোপন রেখে মানুষকে তা গ্রহণ করতে বাধ্য করা অযৌক্তিক।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

বিধ্বস্ত বিমান, স্তব্ধ জাতি!

MP Comrade

ইসরায়েল কর্তৃক ৫৮জন ফিলিস্তিনি হত্যার দায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি এড়াতে পারবেন?

MP Comrade

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বহু কাঙ্ক্ষিত তফসিল ঘোষণা।

MP Comrade

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy