Now Reading
প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করা কিংবা ঘুষ খাওয়া অামাদের বিড়াল প্রজাতির কাছে অপরাধ না তবে প্রেমিকাকে অালিঙ্গন করা অপরাধ!



প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করা কিংবা ঘুষ খাওয়া অামাদের বিড়াল প্রজাতির কাছে অপরাধ না তবে প্রেমিকাকে অালিঙ্গন করা অপরাধ!

কলকাতার দমদমের মেট্রো রেলওয়ে ষ্টেশনে আলিঙ্গনরত একজোড়া যুবক যুবতীকে প্রহার করেছে জনতা। বয়সে যারা প্রবীন তারা শুরু করেছেন আর বয়সে যারা নবীন তারা তাল মিলিয়েছেন।খবরটা শুনে আমি চোখ বন্ধ করে ঘটনাটি বাংলাদেশে ঘটেছে এমন কল্পনা করলাম। দেখলাম একইতো। বরং বাংলাদেশে হলে প্রহারের পরিমানটা আরও বেশী হয়ে যেতো। নরমালি এলাকায় কোনো মেয়ে কোনো ছেলের সাথে রাস্তা দিয়ে দুই দিন হাত ধরা ধরি করে হাসাহাসি করতে গেলেই ছেলে বুড়ো সবাই চোখ পাকিয়ে তাকায়। কেউ কেউ চেহারায় অতিমাত্রায় রাগ ও গাম্ভীর্য এনে বলে,’হুমম, চোখের সামনে এই সব নোংরামি করা যাবেনা। এলাকা থেকে উঠায়া দিবো। এইসব নষ্টামী নোংরামী এইখানে চলবেনা।’ আরও কত কি! যারা এই বয়ান দেয় তাদের বলতে ইচ্ছে করে, আপনারা নষ্টামী নোংরামী বরদাশত করবেননা ভালো কথা, দেশজুড়ে যে জাতীয় থেকে তৃনমূল পর্যায়ে আরও কত শত নোংরামি চলছে,নষ্টামী চলছে (এই যেমন সুদ,ঘুষ,ছিনতাই, রাহাজানি, খুন-গুম)তারা সেগুলো বন্ধ করতে এইরকম ভাবে মুরুব্বী টাইপের ঝাড়ি মারেননা কেনো? নাকি শুধু নারী পুরুষের চুমু আলিঙ্গনকেই আপনাদের নষ্টামী মনে হয়? আর কিছুকে আপনাদের নষ্টামী মনে হয়না? নাকি ঐসব নষ্টামীর বিরুদ্ধে এরাম ঝাড়ি দিলে সেরাম প্যাদানী খেয়ে চাঙারীতে করে ঘরে ফেরার বদলে হাসপাতালের ফিরতে হবে বলে ঝাড়ি মারেননা?’ আমারতো মনে হয় পরেরটাই ঠিক। বিড়াল কুকুরের সাথে পারেনা, আবার ইদুরের ওপর যেয়ে হুদাই ঝাপিয়ে পড়ে। ঠিকই ইদুরকে দৌড়িয়ে মেরেই ফেলে। আপনারা হচ্ছেন ঐ বিড়াল টাইপের একটা প্রজাতি। যে মানুষগুলো সর্বস্তরের গায়ে কাটা দেয়ার মতো নিন্দনীয় নষ্টামী, নোংরামিগুলো করে বেড়াচ্ছে তার প্রতিবাদ করাতো দূরে থাক, ঐ মানুষগুলো আপনার বাড়ি এলে আরও নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করে কোথায় বসাবেন কি আপ্যায়ন করবেন সেই টেনশনেই আপনি দৌড়াদোড়ি শুরু করেন।কারন ঐ মানুষগুলোরতো পাওয়ার আছে। তাদের কিছু বলতে গেলেতো আপনার নিজেরই চাট্টিবাটি গোল হয়ে যাবে। আর যে ছেলে মেয়েগুলো একটু আধটু প্রেম করে একটু আধটু একে অপরকে গভীর আবেগে কড়িয়ে ধরে আপনারা তাদের ওপর ভয়ংকর হুংকার দিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে তাদের চাট্টিবাটি গোল করার ব্যাবস্থা করেন। কেননা হিসাবতো সোজা!ঐ ছেলে মেয়েগুলোতো আপনাদের ঠ্যাঙাইতে বা চাট্টি গোল করতে পারবেনা।তাদেরতো আর পওয়ার টাওয়ার নেই। কারন তারা সাধারন মানুষ। আর যায় কই। আপনারা বিড়ালগুলো তাদের ইদুর করে নিজেরাই হাকিম হুকুম হয়ে ইচ্ছামতো নাস্তানাবুদ করতে থাকেন। নীতি কথা শুরু করেন। নষ্টামি ফষ্টামি চলবেনা বলে ডায়লগ মারা আরম্ভ করেন। এগুলো কিছুইনারে বিড়াল ভাইয়েরা। কারন আপনারা এত বিবেকবান হন নাই যে আপনাদের চোখে নষ্টামী ধরা পড়বে। মেইন কথা হচ্ছে অাপনারা শক্তের ভক্ত, নরমের যম। শক্তের কাছে লাথি খাওয়ার ভয়ে তার পিছনে লাগেননা অার নরমকে পান থেকে চুন খসার অাগেই লাথি মারতে রেডী হয়ে যান অার লাথি মেরে ফাকা বুলি মারেন।

অামারতো অারেকটা সন্দেহ শুরু হয়েছে। অচ্ছা রাস্তায় প্রকাশ্যে প্রস্রাব করাওতো অন্যায়।কই অাপনারাতো তারও প্রতিবাদ করেননা। যত দোষ শুধু ঐ চুমু ও অালিঙ্গনেই।নাকি অাপনারা নিজেরা যেটা করার সাহস করেন নাই তা এ খ্যাপাটে যুগল করেছে দেখে অাপনাদের সহ্য হয়নি? নিজেদের ব্যর্থতার জ্বালা মেটালেন এভাবে? অদ্ভুত অাপনাদের মানসিকতা! প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করা কিংবা ঘুষ খাওয়া অামাদের বিড়াল প্রজাতির কাছে অপরাধ না তবে প্রেমিকাকে অালিঙ্গন করা অপরাধ!

 

About The Author
rafiuzzaman
i am a writer
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment