আন্তর্জাতিক আলোচনায় ব্রেকিং নিউজ

ইসরায়েল কর্তৃক ৫৮জন ফিলিস্তিনি হত্যার দায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি এড়াতে পারবেন?

গতকাল সোমবার পবিত্র জেরুজালেম শহরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস খোলাকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ দমনে ইসরায়েলি সৈন্যরা গুলি চালিয়ে ৫৮জন ফিলিস্তিনিকে নির্মম ভাবে হত্যা করে।  বিগত দু’ সপ্তাহ ধরেই গাজা সীমান্তে চলছে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ আর এমনি সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তেলআবিব থেকে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করল জেরুজালেমে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে ফুঁসে উঠেছে ফিলিস্তিনের জনগণ গতকালের বিক্ষোভে তাদের ওপর ইসরায়েল সেনারা গুলি ৫৮জন নিরস্ত্র জনগণকে হত্যা করল। ইসরায়েলের এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে বিশ্ব জুড়ে। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। ইসরায়েলের সৈন্যদের গুলিবর্ষণে  প্রায় আড়াই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে।

পরিসংখ্যান মতে ২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর এক দিনে এত বেশি সংখ্যায় ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনা এ পর্যন্ত ঘটেনি।

এদিকে এই হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনি দূত গাজায় যা ঘটছে তাকে এক বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করেছেন।

তবে ইসরায়েল এর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যারা সীমান্তের দেয়াল টপকানোর চেষ্টা করেছে এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে – শুধু তাদেরকেই তারা চেজ করেছে। আর তাদের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তাদের সেনারা গাজার ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠন হামাসের আক্রমণ ঠেকাতেই কেবল আত্মরক্ষা করেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপটঃ  

১৯৪৮ সালের ১৫ মে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়।  দিনটি স্মরণে প্রতিবছর নাকবা (মহাবিষাদ) দিবস পালন করে ফিলিস্তিনিরা। ফিলিস্তিনি জনগণকে যে অঞ্চল থেকে জোরপূর্বক উৎখাত করা হয়েছিল, সেখানে প্রত্যাবর্তনে গাজার বর্তমান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হামাসের নেতৃত্বে ছয় সপ্তাহব্যাপী আন্দোলন চলমান আর তারই অংশ হিসেবে গতকালও ওই বিক্ষোভ এর আয়োজন করা হয়েছিল। ফিলিস্তিনিদের এই বিক্ষোভ ছিল ইসরায়েলের করায়ত্ত করা সীমানার ভেতরে তাদের হারানো বাড়িঘরে ফিরতে দেবার দাবি। তাছাড়া দিনটি দুই পক্ষের জন্য অনেকটা উত্তেজনাকর ছিল এই কারণে যে, এই দিনেই তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।  প্রাচীন এই জেরুসালেম শহরটি ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি বিরোধের একদম কেন্দ্রে। ফিলিস্তিনিদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের এই দূতাবাস খোলার অর্থ পুরো জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ইসরায়েলকে ওয়াশিংটনের স্বীকৃতি দেওয়া। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ফিলিস্তিনের জনগণ। আর দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের উপর ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায়।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল। অন্যদিকে ইউরোপসহ সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের এই আক্রমণকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। আর এ ঘটনার নিন্দা জানাতে গিয়ে জাতিসংঘ বলছে, ‘ভয়ানক মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হয়েছে।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

আসমারার রাস্তায় দেখা মিলবে না যানজটের

salma akter

আফ্রিকার দেশ মালিতে সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত

salma akter

নতুন করে সামরিক আদালত গঠন করা হয়েছে রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে

salma akter

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy