বাজারের সুদৃশ্য আমকে রসালো ভেবে কিনে বাসায় বিষ নিচ্ছেন নাতো?

Please log in or register to like posts.
News

গ্রীষ্মের অন্যান্য ফলের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় ফল আম মৌসুমের আগেই বাজারে আসতে শুরু করেছে। প্রতিটি আমই এখন অপরিপক্ষ, অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা আমকে রাসায়নিক দিয়ে পাকিয়ে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করে। ভোক্তাদের আগ্রহকে পুঁজি করে মৌসুমের আগে ভাগেই অসাধু ফল ব্যবসায়ীরা সাধারণত ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করে আম পাকায়। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় আমের সঙ্গে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের প্যাকেট রাখলেই শুষ্ক পরিবেশে এ থেকে অ্যাসিটাইলিন গ্যাস তৈরি হয়ে কৃত্রিম উপায়ে আম পেকে যায়।  কার্বাইড এর তৈরি গ্যাস ইথিলিন গ্যাসের মতোই কাজ করে যা কম সময়ে আম পাকতে সাহায্য করে। তবে প্রচলিত কার্বাইড ব্যাবহারের পরিবর্তে অসাধু ব্যাবসায়িরা ইদানীং ধরন পাল্টে এখন ইথোফেন নামের বিষাক্ত হরমোনাল স্প্রে ব্যবহার করে আমকে হলুদ বর্ণে রূপান্তরিত করছে। এ উপায়ে কেবল আম নয়, অন্য ফলও পাকানো সম্ভব। আর এই চাঞ্চল্যকর খবরটি বের হয়ে আসে গতকাল র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত অভিযানে। মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের ফলের আড়ৎ থেকে প্রায় ৪শ’ মণ বিষাক্ত আম জব্দ করা হয়। এতে দেখা যায় প্রায় সবকটি আম বিষাক্ত হরমোনাল স্প্রে করে পাকানো হয়েছে। পরবর্তীতে আমগুলো প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়।

আমাদের সকলের ধারণা মৌসুমি আম সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর। কিন্তু এই ধারনাটি মাঠেই মারা যেতে বসছে বাজার থেকে কিনে আনা বিষাক্ত আমের বিষক্রিয়ায় পড়ে। এরপরও মানুষ বাজার থেকে আম কিনছে কেবল তৃপ্তির মেটাবার বশবর্তী হয়ে। যেহেতু দেশে আমের ব্যাপক চাহিদা তাই মৌসুমের আগেই বেশি লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আগেভাগেই অপরিপক্ষ আম বাজারে নিয়ে আসে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে। আমাদের সচেতনতার অভাবকেই পুঁজি করে তারা হাতিয়ে নেয় কাড়ি কাড়ি টাকা আর ভোক্তাদের ঠেলে দেয় কঠিন রোগ এমনকি মৃত্যু পর্যন্তও! বাজারে এখন দেখা মিলছে সুদৃশ্য হলুদ বর্ণের এক একটি আম। দেখলেই মনে হতে পারে আমগুলো তরতাজা গাছপাকা আর তাতেই খাওয়ার লোভ পেয়ে বসে। কিন্তু দেখা যায় সেসব আমের অধিকাংশই হলুদ পাকা জাতীয় হলেও সেগুলোর ভেতরের আঁটি কাঁচা আমের মতোই।

ঐযে শুরুতে বলেছি ব্যবসায়ীরা তাদের ধরণ ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তন করছে। শুরুতে যে রাসায়নিক ব্যাবহার শুরু করে আম পাকা হত তা হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিন। এই ক্ষতিকর রাসায়নিকগুলো মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে যার ফলে মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, বিভ্রান্তি ও স্মৃতিভ্রংশ ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে বর্তমান বাজারের আমে নতুন আরেকটি বিষাক্ত রাসায়নিক ইথোফেন হরমোন স্প্রের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই রাসায়নিকটি সাধারণত কৃষিজমিতে ব্যবহার করা হয় পোকা মাকড় এর আক্রমণ থেকে শস্য দ্রব্য রক্ষা করতে। রমজানকে সামনে রেখে অপরিপক্ষ কাঁচা আম পাকাতে এখন এই স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এই ইথোফেন হরমোন স্প্রেটি পূর্বের ব্যাবহার করা ফরমালিন ও কার্বাইডের চাইতেও ভয়ানক। যার ফলে মানব দেহে সংক্রমিত হতে পারে ক্যান্সার সহ মারাত্মক ব্যাধির। তাই সকলের প্রয়োজন এ ব্যাপারে যথেষ্ট সাবধানী হওয়ার। হয়ত আম খাওয়া ছেড়ে দেয়া যাবেনা তবে একটু দেখে শুনে আম কিনলে পরিবার পরিজনদের নিরাপদে রাখা যাবে। সরকারের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পরিপক্ক আম বাজারে আসতে শুরু করবে। এই কয়েকটা দিন অন্তত অপেক্ষা করা যায় সুস্থতার নিরিখে

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?