• Home
  • আন্তর্জাতিক
  • চীন-রাশিয়া মোকাবেলায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বিলুপ্ত মার্কিন দ্বিতীয় নৌবহর
আন্তর্জাতিক

চীন-রাশিয়া মোকাবেলায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বিলুপ্ত মার্কিন দ্বিতীয় নৌবহর

চীন আর রাশিয়াকে মোকাবেলা করতে এবার যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিলুপ্ত দ্বিতীয় নৌবহর ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চীফ অব নেভাল অপারেশন এডমির‍্যাল জন রিচার্ডসন বলেছেন, ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের যে দ্বিতীয় নৌবহরটি বিলুপ্ত করা হয়েছে তা আবার পুনরায় গঠন করা সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় নৌবহরটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল খরচ কমানো এবং অন্যান্য কাঠামোগত বিষয় চিন্তা করে। এটি ফিরিয়ে আনা হলে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকুল এবং উত্তর আটলান্টিকে মোতায়েন করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। মূলত রাশিয়া এবং চীনকে মোকাবেলার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত আবার পুনর্বিবেচনা হচ্ছে বলে তার বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।

জন রিচার্ডসন আরও বলেছেন, এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের যে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল প্রকাশ করেছে তাতে এটা পরিস্কার যে পৃথিবীতে বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রতীয়মান।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধম্যে প্রকাশ পেয়েছে যে, দ্বিতীয় নৌবহরকে ফিরিয়ে আনার এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ মনে করা হচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক দশকগুলিতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশে আভ্যন্তরীণ বিদ্রোহীদের তৎপরতা দমনের উপর বেশি মনোযোগী ছিল। তবে এখন তারা তাদের মনোযোগ গভীরভাবে নিবেশ করেছে বিশ্বের বড় বড় শক্তিধর দেশগুলোর উপর, বিশেষত  রাশিয়ার প্রতি তাদের মনোযোগটি প্রাধান্য পেয়েছে।

সম্প্রতি রাশিয়া তাদের নৌশক্তি বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছে। রুশ সামরিক বাহিনী বাল্টিক সাগর, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর এবং আর্কটিক অঞ্চলে তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে। আর এতেই ঘুম হারাম হয়ে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। বিশ্ব কর্তৃত্ব তাদের হাত থেকে ফস্কানোর আগেই কোমর বেঁধে যুদ্ধংদেহী অবস্থায় নেমে পরেছে ময়দানে।

বহু বছর ধরেই রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্রমশ বেড়েই চলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার নাক গলানো বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তাছাড়া সিরিয়ায় বাশার-আল-আসাদের প্রতি সমর্থন এবং ব্রিটেনে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপলের ওপর বিষ প্রয়োগের ঘটনা নিয়ে রাশিয়ার উপর বেঝায় চটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে।

এমতাবস্থায় মার্কিন প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে বিলুপ্ত করা দ্বিতীয় নৌবহরটি তারা পুনরায় ফিরিয়ে আনবে। যার উদ্দেশ্য রাশিয়া ও তার মিত্রদের কোণঠাসা করা। এদিকে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিলেও কে এই দ্বিতীয় নৌবহরের কমান্ডার হবেন এবং এই বহরে কি কি যুক্ত থাকবে সে বিষয়ে পরিস্কার করেনি মার্কিন প্রশাসন।

খরচ কমানো এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায করে ২০১১ সালে দ্বিতীয় নৌবহরটি বিলুপ্ত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ডিকমিশন্ড কালে দ্বিতীয় নৌবহরে যুক্ত ছিল প্রায় ১২৫ টি জাহাজ, প্রায় সাড়ে চার হাজার বিমান। তাছাড়া উক্ত নৌবহরে কাজ নিযুক্ত ছিল ৯০ হাজার নৌ সেনা ও অন্যান্য কারিগরি কর্মীগণ। দ্বিতীয় নৌবহরটির কাভারেজ এরিয়া ছিল আটলান্টিক মহাসাগর, উত্তর মেরু ও ক্যারিবীয় সাগর যেখানে সে টহল দিতো প্রায় ৬৭ লাখ মাইল।

এদিকে যে কারণে এই নৌবহরটি ফিরে আসছে সে রাশিয়া তাদের নৌশক্তি বাড়ানোর প্রচেষ্টা ক্রমাগত জোরদার করেছে। তারা বাল্টিক সাগর, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর এবং আর্কটিক অঞ্চলে রুশ সামরিক তৎপরতা বাড়তে বদ্ধপরিকর। পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে যে মার্কিন দ্বিতীয় নৌবহর ফিরে আসলে, মহা সাগরগুলোতে মার্কিন আধিপত্য কয়েকগুণ বাড়বে সেই সাথে শক্তিধর দেশগুলোতেও সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হবে।

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

পরস্পর বিরোধী তিন দেশের প্রত্যেকেই চীনের পরম মিত্র

MP Comrade

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ বৈঠক নিয়ে মার্কিন এবং উত্তর কোরিয়া প্রশাসনের ধোঁয়াশা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

MP Comrade

মিয়ানমারের কেন এই লুকোচুরি?

MP Comrade

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: