শিশু নিরাপত্তা ও ভবিষ্যত স্বাস্থ্য কথা

আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত “আইওএম” এর রোহিঙ্গা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে যাচ্ছে। তারা ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে কক্সবাজার জেলায় প্রায় ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে। বর্তমানে সংস্থাটি আর্থিক তহবিল সংকটে পড়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে যদি তারা আন্তর্জাতিক কিংবা বহুজাতিক কোম্পানির সহায়তা না পায় তবে তারা এ সেবা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা যদি তারা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় তবে শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুগুলোও ঠেকানো সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করেছে। গত ৬ জুন আইওএম তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব উল্ল্যেখ করেছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ লাখ মানুষ। তারা কক্সবাজারের টেকনাফ ও এর পার্শ্ববর্তী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে আশ্রিত।  এত বিপুল পরিমাণ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর বিপরীতে ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত কক্সবাজারে প্রায় ৪ লাখেরও বেশি পরামর্শসেবা দিয়েছে এই আন্তর্জাতিক শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির সেচ্ছাসেবক ও চিকিৎসাকর্মীরা রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনসাধারণকে এতদিন এসব সেবা বিনামুল্যে দিয়েছেন। বিগত কয়েক মাসের মধ্যে আইওএম এর স্বাস্থ্য কর্মীরা প্রতিদিন গড়ে ৭০০ জন স্থানীয় ও রোহিঙ্গা নারীকে তাদের সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। এমনকি তাদের স্বাস্থ্য সেবার মধ্যে সিজারের মাধম্যে প্রসব ব্যবস্থাও যুক্ত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আইওএম এর অর্থায়নকৃত সার্জিক্যাল ফ্যাসিলিটির আওতায় ১০ জন শিশু সিজারের মাধম্যে জন্ম নিয়েছে। তারা গর্ভাবস্থাজনিত জটিলতা ছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবাও দিয়েছেন তাদের কার্যক্রমে। আইওএম-এর পরিচালিত ক্লিনিকগুলোতে পরামর্শ ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে শিশুদের উপস্থিতি লক্ষণীয়।

এদিকে সাম্প্রতিক বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিজনিত কারণে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রকট হয়েছে। ফলে চিকিৎসাকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, তাদের কার্যক্রম আরো প্রসার করতে হবে। তবে তহবিল সংকটে জরুরিভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা না পেলে শিগগিরই এসব সেবা পুনরায় চালু করা যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান আইওএম। তারা আরো আশঙ্কা করছে যে, আর্থিক সংকটে এ কর্মসূচী বন্ধ হয়ে গেলে আগামীতে লাখো মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে এবং চোখের সামনে তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটবে।

এদিকে কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয়দের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে আইওএম ব্যাপক কাজকর্ম এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতার জন্য আইওএম কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন আরো বলেন, হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করার পাশাপাশি তারা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকেও শক্তিশালী করেছে। আইওএম-এর সহযোগিতা ছাড়া আমরা কক্সবাজারের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এতোটা সফল হতাম না।

তাছাড়া কক্সবাজার ও টেকনাফে আইওএম এর কার্যক্রমে বেশ সন্তুষ্ট সুবিধাভোগী জনসাধারণ। এমতাবস্থা আর্থিক সংকটে যদি এহেন জনপ্রিয় মানবিক সহায়তা প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায় তবে সে ক্ষেত্রে মারাত্মক সংকট দেখা দেবে কক্সবাজার জেলা সহ সকল শরণার্থী শিবিরে।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

হতাশা থেকে মুক্তির উপায়!

Ferdous Sagar zFs

জিমে না গিয়ে বাসায় ব্যায়াম করে শরীর ১০০% ফিটনেস রাখার উপায়

Muhammad Uddin

নিয়ম অনিয়ম ( ১ম পর্ব )

Md.Biplab Hossain

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy