আন্তর্জাতিক রাজনীতি

রাশিয়াকে মোকাবেলায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের বিশাল সামরিক প্রস্তুতি

রাশিয়া প্রশ্নে হটাতই দিশেহারা হয়ে পড়ল যুক্তরাষ্ট্র, তাদের মধ্যে কিসের জানি অজানা আতংক বিরাজ করছে। এজন্য প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা রাশিয়াকেই অধিক বিবেচনা করে থাকে। রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোকে অব্যাহত চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রাসেলসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ন্যাটোর সাথে চুক্তির পরিকল্পনা করছেন যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে ৩০ দিনের মধ্যে ন্যাটো জোটের ৩০ ব্যাটেলিয়ন স্থল সেনা, ৩০টি যুদ্ধ জাহাজ ও ৩০টি যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করা যায়।  আজ ৭জুন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে তিনি এই চাপ দেয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। অবশ্য আগামী জুলাইতে ন্যাটোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পরিকল্পনা আছে। এদিকে এই পরিকল্পনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে রাশিয়া, তারা পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা হুমকির জন্য ন্যাটোকেই দায়ী করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি কোন দ্বন্ধ না থাকলেও এই দুই দেশ পরস্পর বিরোধী হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে এই দ্বন্ধ প্রকাশ্যে আশে যখন ২০১৪ সালে রাশিয়া যখন অন্য সকলের মতামত উপেক্ষা করে একক কর্তৃত্বে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় এবং ২০১৫ সালে সিরিয়া যুদ্ধে আসাদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। এসব বিষয় ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। মূলত এরপর থেকে সৃষ্টি হয়েছে দূরত্ব ফলশ্রুতিতে রাশিয়ার প্রকাশ্য কোণ বার্তাকেই আর গ্রাহ্য কিংবা বিশ্বাসে নিচ্ছেনা ওয়াশিংটন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক নীতিতে রাশিয়াকে বরাবরই গণ্য করে এসেছে। চলতি বছরের পেন্টাগনের যে প্রতিরক্ষা নীতি ঘোষণা হয়েছে সেখানে মস্কোকে সবচেয়ে বড় হুমকি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আর ঘোষিত সেই নীতিতে স্পষ্টই বলা আছে ন্যাটো জোটকে ধ্বংসের চেষ্টায় রাশিয়া তৎপর।

তাই আজ ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় যুদ্ধ প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে চাপ বাড়াতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই পরিকল্পনায় কি পরিমাণ সেনা এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে তা স্পষ্ট নয়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া সবসময় যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে থাকে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে রনাঙ্গনে দ্রুত সেনা পাঠাতেও সক্ষম। সেই জায়গায় ন্যাটো ও অন্যান্য দেশের অনেকটাই ব্যাবধান, তারা দ্রুত চাইলেও তেমনটা পারেনা। আর এই বিষয়টি বিবেচনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে পূর্ব থেকেই যেন সেনা মোতায়েন রাখা যায়। পরিসংখ্যান বলছে ন্যাটো জোটের প্রতি ব্যাটেলিয়ন সৈন্য সংখ্যা অবস্থাভেদে বিভিন্ন রকম হয়। প্রতি ব্যাটেলিয়ন কমকরে প্রায় ৬০০ থেকে এক হাজার সেনা থাকে। এদিকে নতুন এই মার্কিন পরিকল্পনাকে নাম দেয়া হয়েছে ৩০-৩০-৩০ নামে। এখন দেখার পালা আদৌ মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট কি পারবে রাশিয়াকে রুখতে!

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পার্লামেন্ট শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত কপিরাইট আইনটি পাস করেছে

MD BILLAL HOSSAIN

ফায়ার সার্ভিসের উন্নত মানের কোন যন্ত্রপাতি নেই, ব্যবস্থাপনাও নেই মানুষ বাঁচানোর জন্য: রিজভী

Md Meheraj

আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি

Syed Asraful

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy