পরিবেশ সমসাময়িক চিন্তা

হুমকির মুখে বিশ্ব পরিবেশ, প্রতি চারজনের মধ্যেই পটল তুলছেন একজন!

পরিবেশগত সমস্যা একুশ শতকে এসে বড় ধরণের সমস্যা হিসেবে দেখা দিলেও মূলত বিংশ শতাব্দীর শেষদিক থেকেই এই সমস্যাটি বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে ভাবিয়ে তোলে। নানাবিদ কারণে বিশ্ব পরিবেশ আজ হুমকির মুখে। একটা বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে। ২০০৭ এর নভেম্বরে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ‘সিডরের’ আঘাতে বড় ধরণের পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। বলা হচ্ছে, বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারনেই এমনটা ঘটেছে। ১৯৯২ সালের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম ধরিত্রি সম্মেলন। ঐ সম্মেলনের মধ্য দিয়েই পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়।  এরপর পর্যায়ক্রমে শতাব্দী শেষ হবার আগেই একাধিক পরিবেশগত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি সম্মেলনেই যে বিশ্ব বড় ধরণের পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, সে ব্যাপারে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয় এবং পরিবেশ বিপর্যয় রোধে করনীয় নির্ধারণ করা হয়। ইতোমধ্যে জাতি সংঘের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আইপিসিসি এর সাথে জড়িত। ২০০৭ এর নভেম্বরে আইপিসিসি এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বিশ্বে অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে।  এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে পরিণতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। মহাসচিব বান কি মুন স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া থেকে এ রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছিলেন।

রিপোর্টে বলা হয়েছিল, এক দশক আগে যে হারে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ হতো, এখন তার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে যে পরিমাণ গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ হয় তার ৯০ভাগই মানুষের সৃষ্টি। এর প্রভাবে উভয় মেরুর বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং বহু প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যদি দেড় থেকে আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায় তাহলে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে পড়বে। পৃথিবীতে বিশুদ্ধ পানির সংকটও বাড়বে। সংকট বর্তমানের তুলনায় ৭৫ থেকে আড়াইশ গুণ বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সমুদ্রে যেসব প্রবাল প্রাচীর রয়েছে সেগুলোও এর ফলে ধ্বংসের মুখে পড়বে। একইসাথে এন্টার্কটিকায় প্রাগৈতিহাসিক কালের বরফ স্তর গলতে শুরু করেছে এবং বর্তমান পৃথিবীর অন্য যেকোন এলাকা থেকে দ্রুতগতিতে উষ্ণ হচ্ছে এন্টার্কটিকা। এখানকার বর্তমান তাপমাত্রা গত ১৮০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ৮০হাজার অস্থায়ী বাসিন্দার এই মহাদেশের আয়তন ইউরোপের চেয়ে ২৫ গুণ বড়। আর এখানকার বরফে জমে আছে ভূস্তরের ৯০শতাংশ বিশুদ্ধ পানি। এন্টার্কটিকার বরফ স্তর এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার পুরু থাকলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। সুতরাং বিশ্বের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি এখন আর ধারণাগত কোন বিষয় নয় বরং এটি বাস্তব।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বিশ্বে প্রতি চারজনের মধ্যে অন্তত একজনের মৃত্যু হয় পরিবেশগত কারণে৷ আর বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ এবং সেই সঙ্গে অনিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও রাস্তাই মূলত এমন মৃত্যুর জন্য দায়ী৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) সমীক্ষা করে দেখেছে, বিগত ২০১২ সালে সারা বিশ্বে মোট যতজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে অন্তত এক চতুর্থাংশেরই মৃত্যুর কারণ ছিল বায়ু, পানি ও মাটির দূষণ পাশাপাশি অনিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও রাস্তাসহ আরো কিছু পরিবেশগত সমস্যা৷ ঐ প্রতিবেদন আরো বলছে, ২০১২ সালে আনুমানিক ১ কোটি ২৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে খারাপ পরিবেশে বসবাস ও কাজ করার কারণে৷ এটা সে বছরের মোট মৃত্যুর শতকরা ২৩ ভাগ৷ পরিবেশগত কারণে এত মানুষের মৃত্যুতে ডাব্লিউএইচও শঙ্কিত৷

 

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ

MasudRana

চলচিত্র কেন দেখবো এবং কি ধরনের চলচিত্র দেখবো ?

Saif Mahmud

সেলফি আসক্তিঃ একটি মানসিক ব্যাধি?

Ferdous Sagar zFs

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: