ধর্ষক রনিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে কিছু ফেসবুক প্রোফাইল!!

Please log in or register to like posts.
News

আমাদের দেশে আছে দুই টাইপের মানুষ। একদল খারাপ নির্মূলের জন্য লড়াই করে, অন্যদল খারাপকে ইন্ধন যোগায়।
বিশিষ্ট মাতাল ধর্ষক রনির বেলাতেও ঘটেছে সেম ঘটনা।

দিনে দুপুরে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে পাবলিকের হাতে গণপিটুনি খাওয়া রনির জন্য একদলের আছে অপরিসীম ঘৃণা, তারা গণপিটুনি দিয়েছে, এবং সমর্থন করেছে।

অপরদিকে অন্য এক দল আছে, যারা মেয়েটার দোষ খুঁজে বেড়াচ্ছে।

কিছু অন্ধ বিকৃত মস্তিষ্কের লোক কীভাবে রনিকে সাপোর্ট করছে ব্যাপারটা আমার বোধগম্য নয়। হঠাত করে নানা “সামাজিক সংস্থার” নাম করে গজে ওঠা কিছু ফেসবুক একাউন্ট এখন রীতিমত এই রনিকে বাচানোর চেষ্টা করছে। নিজেদের এরা আবার সাইবার ক্রাইম এক্সপার্ট বলে কিন্তু আদপে ভন্ড ছাড়া আর কিছু না। যেকোন ভাইরাল টপিক নিয়ে আসব আলোচনা করে নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইলে ফলোয়ার বাড়ানোর আশায় এসব লোক এধরনের টপিক নিয়ে নিজেদের প্রোফাইল থেকে লাইভে আসে আর এবার এসে ধর্ষক রনিকে বাচানোর চেষ্টা করছে। এদেরকে কি টাকা দিয়ে ভাড়া করা হয় নাকি – ফেসবুকীয় এসব দালালকে? হলেও হতে পারে। এদের ফেসবুক প্রোফাইল দেখলে মনে হবে এরা রীতিমত বাংলাদেশ কিনে ফেলেছে – এমন সব কোয়ালিফিকেশন কিন্তু বাস্তবে একটু ঘেটে দেখলে বুঝা যাবে – এরা অন্ত সার শূন্য – কিছুই না – মানুষকে শুধু ঠকিয়ে যাচ্ছে। এরকমই একটি ফেসবুক প্রোফাইল Mahabubur Rahman (লিঙ্ক দিচ্ছিনা, কারন আমরা চাইনা এসব পাপীদের আরও জনপ্রিয় করতে), যে কিনে “সাইবার মাহাবুব” নামে নিজেকে পরিচয় দেয়, সে এখন রীতিমত আন্দোলন শুরু করে ফেসবুক লাইভে এসে – রনির মত ধর্ষনকারীদের বাঁচানোর আকুল চেষ্টা। মাত্র ১১ হাজার ফলোয়ার থাকায় খুব বেশী দুবিধা হয়তো করতে পারছে না, কিন্তু মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য যথেষ্ট। আসলে এদের মত মানুষের কারনে সমাজে ধর্ষকদের সাহস আরও বাড়ে।

রোজার মাসে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে বাসায় বউ বাচ্চা রেখে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করা ঠিক কতটা সভ্য সমাজের ব্যাপার, তা আমার বোধগোম্য নয়। পাবলিকের হাতে মাইর খাওয়ার পরও তার শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে কি না তাও জানি না। যখন রনিকে উলঙ্গ করে পিটানি দেয়া হল, আমরা বাহবা দিলাম। কিছু ধর্ষকের মনেও ভয় ঢুকে গেল। কথায় আছে, পাবলিকের মাইর, দুনিয়ার বাইর।

কিন্তু, হঠাৎ করেই একদল এসে বলা শুরু করলো, মেয়েটা পতিতা। সাথে কিছু মিস্টির রস খোজা মৌসুমী ধর্ষক উতলা হয়ে উঠলো। এইসব ফেসবুক ধর্ষক ধর্ষণ করলো আরো একবার সেই মেয়েটিকে। সে নাকি পতিতা!!!

এ সমাজে ঘুণে ধরেছে প্রকটভাবে। ধর্ষকদের চকচকে জিহবা আর চোখ সব মেয়েদের দিকে। ফেসবুকে ধর্ষকদের সাপোর্টারে ভরে গেছে নিউজফিড। আমার মানবিক মনে ভাবতে পারে না, কীভাবে তারা সেই মেয়েটিকে দোষ দেয় পতিতা বলে?? পতিতা বলেই তাকে ধর্ষণ করার পারমিট কে দিয়েছে? তারা কী মানুষ নয়? কোথায় আমাদের মানবিকতা!

আমাদের এলাকায় একজন মহিলা ছিল। যার স্বামী ছিল একজন বহুগামী। তিনি ছিলেন সেই পুরুষের তৃতীয় স্ত্রী। সেই পুরুষটি যখন সেই মহিলাকে ছেড়ে চলে যায় তখন সেই মহিলার কোলে ছোটো দুই শিশু।

বাবা ছেড়ে গেলেও মা শিশুদের ফেলে দিতে পারে নাই। সেই মেয়ের যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না বিধায় অভাবের তাড়নায় বাধ্য হয়েই বাচ্চা দুটা শিশুর মুখে খাবার তুলে দেয়ার জন্য পতিতাবৃত্তিতে যেতে হয়েছিল।

মেয়েদের পতিতাবৃত্তিতে আসার পেছনে অভাব, দারিদ্র কিংবা প্রতারণার স্বীকার হওয়াই মূল কারণ।

পতিতাবৃত্তি একটা পেশা। সে তার দেহকে বিক্রি করে পয়সা উপার্জন করে। এটাও কোনো সহজ পেশা নয়। আপনার দেড়মণের শরীরের ভাড় সহ্য করে, আপনার কুকুরবৃত্তীয় কামুকতা দাতে দাত চেপে সহ্য সে উপার্জন করে তার আয়। এদিয়েই হয়তো তার সন্তান, অসুস্থ বাবা মা ভাই বোনদের মুখে খাবার তুলে দেয়।

ধর্ষণ হচ্ছে এমন একটা ব্যাপার, কারো অনিচ্ছায় জোড় করে শারীরিক সম্পর্ক করা। এতে হতে পারে বিবাহিত স্ত্রীর সাথেও বিবাহোত্তর ধর্ষণ।

তাই, পতিতাকে ধর্ষণ করার সার্টিফিকেট যারা দেয়, তারা বিকৃত মানসিকতার স্ত্রী ধর্ষণকারীও বটে।

সম্প্রতি বাসে যে পুরুষ ধর্ষকটির পক্ষে সাফাই গাচ্ছেন যারা মেয়ে পতিতা বলে, তাদের মন মানসিকতা কোন লেভেলের নিচু, এটা আমি ভেবেই পাই না।

ঘরে স্ত্রী সন্তান রেখে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে রাস্তা থেকে পতিতা তুলে নিয়ে ধর্ষণ করলে তাকে পুরুষ বলে না। তাকে বলে কুকুর। কুকুর যেমন দিনে দুপুরে জোর করে তার সাথীকে সবার সামনে সহবাস করতে কার্পণ্য করে না, সেই পুরুষগুলাও ঠিক তেমনি।

তবে আশার কথা, জনগণ এখন বেশ সোচ্চার হচ্ছে। পাবলিকের গণপিটুনি খেয়ে যদি দুই চারটা ধর্ষক মরে যায়, তাহলে আরও ভালো হবে। কিছু ধর্ষক একটূ হলেও ভয় পাবে। বাসে, সিএনজিতে, শপিং মলে, ধর্ষণ করতে একটু হলেও কুন্ঠাবোধ করবে।

জনগণ যদি চায়, তাহলে একটা ধর্ষকও সমাজে বেচে থাকার সাহস পাবে না।

বাসায় বউ ছেলে রেখে উলংগ হয়ে মার খাওয়া ধর্ষকের জন্য যেসব ছেলেদের সহানুভুতি জাগে, তারা নিশ্চই সেই সময়ে বাসে উপস্থিত থেকে কেন তাদের নুনুভুতি প্রকাশ করতে পারলো না, সেই দু:খে কাতর। তাই তাদের কাছে পতিতা হোক, এইডস রোগী হোক, কিংবা অচেনা মেয়েই হোক, ধর্ষণের সার্টিফিকেট দেয়া একেকটা পার্ভাট তারা।

পাবলিকের মাইরের ভয় একজন মাফিয়া সন্তাসীরও আছে। কারণ, গণপিটুনির কোনো বিচার নাই। তাই পাবলিক যদি এইসব ধর্ষকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়, তাহলে অবশ্যই এদেশে ধর্ষণ করবে। কিন্ত, খুব অবাক হয়ে যাই, বাংলাদেশের ফেসবুকে এসব ধর্ষকের সাপোর্টার দেখে। কীরকম বিকৃত মানসিকতার হলে এই ন্যাংটা হয়ে মাইর খাওয়া ছেলের জন্য সহানুভুতি জাগে, আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই।

এতে করে ধর্ষকদের আরও উৎসাহিত করা হয়ে গেলো।

আমি সেই বাংলাদেশ আশা করি, যেই বাংলাদেশে একজন ধর্ষকও থাকবে না। সেই বাংলাদেশ, যেই বাংলাদেশে সব মা বোন এমনকি পতিতারাও নির্ভয়ে পথ চলবে। সেই বাংলাদেশ, যেই বাংলাদেশে ফেসবুকের ধর্ষক সাপোর্টারদের গণধোলাই দিয়ে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে রাখবে তাদের বিকৃত মানসিকতার চিকিৎসা করাবে।

আশা করি, খুব শীঘ্রই আমরা এমন বাংলাদেশকে পাবো

Reactions

3
0
0
0
1
0
Already reacted for this post.

Reactions

3
1
Who liked your post?