রাজনীতি

প্রত্যাশিত সে বার্গারটি কি খাওয়া হয়েছে দুই শত্রুর!

শেষ পর্যন্ত সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে  মি. ট্রাম্প এবং মি. কিম এর মধ্যে শতাব্দীর আলোচিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকটি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়েই তৈরী হয়েছিল সংশয়। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করে ফেলার বিষয়টির সঙ্গে লিবিয়া বা ইরাকের সরাসরি তুলনা করায় ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ং’এর মধ্যে বাগবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ব্যক্তিগত চিটিতে উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট কিম কে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। পরবর্তীতে মি.কিম ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে চিঠি লিখলে আবারো বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে সিঙ্গাপুরের স্যান্টোসা দ্বীপের ক্যাপেলার বিলাসবহুল হোটেলে দুই দেশের প্রধানদের সাক্ষাৎ পরবর্তী কিছু সময় কেটেছে একান্তই ব্যক্তিগতভাবে। মধ্যাহ্নভোজনের পর ক্যাপেলার বিলাসবহুল হোটেলের বাগানে একসাথে হাঁটতে দেখা যায় মি. কিম ও মি. ট্রাম্পকে। তারা হোটেলটির বাগানে কিছুটা সময় হেঁটে একান্ত আলাপ করেন, আর এই সময়টুকুতে দুই নেতাকে বেশ প্রফুল্ল দেখা যায়। হোটেলটির কর্তৃপক্ষ খাওয়া দাওয়ার বেশ আয়োজন করে। তবে খাওয়ার মেন্যুতে সবেচেয়ে স্পেশাল যে আইটেমটি ছিল তার প্রতি সকলের আগ্রহ ছিল খুব বেশি। আর এই আইটেমটি হচ্ছে বার্গার, কেননা ২০১৬’তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় মি. ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি মি. কিম’এর সাথে বার্গার খেতে চান। তাই অন্যান্য আইটেমের পাশাপাশি রাখা হয়েছে সেই প্রত্যাশিত বার্গার।

হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মি. ট্রাম্প ও মি. কিমের একান্ত বৈঠকটির স্থায়ীত্বকাল ছিল ৩৮ মিনিট। আর উক্ত বৈঠকটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং-আনের মধ্যে ছিল যৌথ স্বাক্ষর করা বিবৃতি। কিন্তু ঐ যৌথ বিবৃতিতে কি ছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে বৈঠক সম্পর্কে মি. ট্রাম্প বলেছেন, “অত্যন্ত ঘটনাবহুল ২৪ ঘন্টা পার করলাম আমরা। সত্যি বলতে ঘটনাবহুল তিনটি মাস পার হলো।”

এদিকে বৈঠকের আলোচনা পরবর্তী এবং বিবৃতির চারটি প্রধান পয়েন্ট হচ্ছেঃ

  1. যুক্তরাষ্ট্র ও গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া নতুনভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হবে ,যাতে দুই দেশের মানুষের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও উন্নতির বিষয়টি প্রতিফলিত হবে।
  2. কোরিয় উপদ্বীপে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ শাসনব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে যৌথভাবে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া।
  3. ২৭শে এপ্রিল ২০১৮’র পানমুনজাম বিবৃতি অনুযায়ী কোরিয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকার রক্ষা করবে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া।
  4. যুক্তরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া যুদ্ধবন্দীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভূমিকা রাখবে এবং এরই মধ্যে যেসব যুদ্ধবন্দী চিহ্নিত হয়েছেন তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অতিস্বত্তর শুরু করবে।

মি. ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন বিবৃতিটি “খুবই গুরুত্বপূর্ণ” এবং “বেশ সুসংহত” ছিল এবং তিনি ও “চেয়ারম্যান কিম” দুজনই এটি স্বাক্ষর করতে পেরে “সম্মানিত” বোধ করেছেন।

অন্যদিকে মি. কিম বলেছেন তাঁরা একটি “ঐতিহাসিক বৈঠক করেছেন এবং অতীতকে পেছনে ফেলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” তিনি “এই বৈঠককে সম্ভবপর” করার জন্য মি. ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।

এই দুই নেতার আলোচিত বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন দুই দেশেরই শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। তবে প্রেসিডেন্ট কিম যেহেতু ইংরেজি ভাল বুঝেন না তাই তার দোভাষী হিসেবে ছিল ক্যাথরিন কিলোগ নামের এক সুন্দরি রমণী। এই মহিলাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল কৌতহল, কেননা তার উপরও নির্ভর করছে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে কিনা। যাই হউক দুই প্রেসিডেন্ট এর ভাষায় আলোচনা বেশ সফল হয়ে বলা যায়।

উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট এর সাথে বৈঠকে আরো ছিল:

কিম ইয়ং-চল (কিমের ‘ডানহাত’ হিসেবে পরিচিত), উত্তর কোরিয়ার এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এমাসের শুরুতে বৈঠকের অগ্রদুত হিসেবে ওয়াশিংটন গিয়েছেন।

রি ইয়ং-হো: তিনি উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এই কূটনীতিক ৯০ এর দশকেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন।

রি সু-ইয়ং: উত্তর কোরিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বর্তমানে পিয়ংইয়ং’এর শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তা।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ছিল:

মাইক পম্পেওঃ যুক্তরাষ্ট্রের নব নিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাবেক সিআইএ প্রধান।  

জন কেলিঃ মার্কিন সেনাপ্রধান ।

জন বোল্টনঃ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তার অযাচিত মন্তব্যের কারণেই প্রায় নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল বৈঠকটি।

 

যৌথ বিবৃতির ব্যপারে বিস্তারিত কিছু জানা সম্ভব না হলেও ঘটনা পর্যবেক্ষণে অনুমান করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কিম জং নিন্মোক্ত বিষয়গুলির সমাধান চেয়েছেনঃ

নিরাপত্তাঃ গত কয়েক দশক ধরেই উত্তর কোরিয়া এই একটি কারনেই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র গড়ে তুলেছে যাতে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবী অনুযায়ী তারা যদি পারমাণবিক কর্মসূচী বাদ দেয় তবে বিনিময়ে চাইবে যেন, যুক্তরাষ্ট্র কোরীয় অঞ্চল থেকে তার সকল যুদ্ধ বিমান ও সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় এবং পুনরায় যেন আর না পাঠায়।

সন্মানঃ কিম জং আন বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চান। তার ইচ্ছা, উত্তর কোরিয়াকে যেন নিপীড়নকারী দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উত্তর কোরিয়া অন্যদের সমান মর্যাদা চায় আমেরিকা, রাশিয়া, চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি।

প্রাচুর্যঃ উত্তর কোরিয়ার মূল বিষয় হচ্ছে অর্থনীতি। তারা চায় আন্তর্জাতিক অবরোধ উঠিয়ে নিয়ে তাদের ব্যবসা বানিজ্যের পথ উন্মুক্ত করা হউক।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

প্রবীণরা নয়, অনলাইন জরিপে তরুণরাই রয়েছেন এগিয়ে

MP Comrade

তিস্তা চুক্তি ও তার পানি বণ্টন প্রশ্ন!

MP Comrade

ছাত্র রাজনীতির অতীত ও বর্তমান

Aunantu Khan

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy