অন্যান্য (U P) সাধারন জ্ঞান

‘প্যানগায়া’ রহস্য অতঃপর ৭টি মহাদেশের জন্ম

সৌরজগৎ সৃষ্টির প্রায় ১০০ মিলিয়ন বছর পর প্রাচীন এই পৃথিবীর আবির্ভাব। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আজ থেকে সাড়ে ৪শ কোটি বছর বছর আগে পৃথিবী নামের গ্রহটি আকৃতি পায়, পায় লৌহের একটি কেন্দ্র এবং একটি বায়ুমণ্ডল। পৃথিবীতে মানুষ আসার আগেই গ্রহটির সৃষ্টি। এই গ্রহের প্রথম মহাদেশ তৈরি হওয়ার প্রায় এক বিলিয়ন বছর পৃথিবীতে তেমন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি। প্রাণের তেমন কোন উন্নতিও ঘটেনি এ সময়ে। প্রাচীন সেই পৃথিবী তখন ছিল মাত্র একটি সুপারকন্টিনেন্ট বা একক বৃহৎ মহাদেশ। যেখানে প্রাচীন পৃথিবীর প্রায় সবভূমি একত্র হয়েছিল একই জায়গায়। আর এমনই বৃহৎ কয়েকটি মহাদেশ পৃথিবীতে উদ্ভব হয়েছে কালের পরিক্রমায় যার একেকটি টিকে ছিল প্রায় ১০ কোটি বছর। ঠিক তেমনি আজ থেকে প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে গঠিত হয়েছিল পৃথিবীর সর্বশেষ সুপারকন্টিনেন্ট। সেই সময়ে বিষুবরেখা বরাবর পাশাপাশি জড়ো হয়েছিল পৃথিবীর সকল ভূমি। বর্তমান পশ্চিম আফ্রিকার কাছাকাছি অংশে ছিল সেই সুপারকন্টিনেন্ট এর অবস্থান। পরবর্তীতে সেই সুপারকন্টিনেন্ট ‘প্যানগায়া’ নামেই পরিচিতি লাভ করে। প্যানগায়ায় পরে ডায়নোসরের আবির্ভাব ঘটে।  

প্যানগায়া নামের রহস্যঃ প্যানগায়া শব্দটি একটি অদ্ভুত এবং প্রতীকী নাম। ১৯১২ সালে, জার্মান ভূ-তত্ত্ববিদ, আবহাওয়াবিদ ও মেরু বিষয়ক গবেষক আলফ্রেড লোথার ওয়েগনার প্রস্তাব করেন যে, বর্তমানে যে সকল মহাদেশ দৃশ্যমান রয়েছে, ৩০ কোটি বছর পূর্বে অর্থাৎ নিকট কার্বনিফেরাস যুগ পর্যন্ত তার সবকটি অবিচ্ছিন্ন মহাদেশ ছিলো। এই অবিচ্ছিন্ন মহাদেশের নাম তিনি দেন প্যানগায়া। কেন তিনি এত নাম থাকতে এই নাম দেন? প্যানগায়া গ্রিক শব্দ পঙ্গিয়া থেকে উদ্ভূত হয়, যার অর্থ “সমস্ত পৃথিবী”। আর এই নামটি এতটাই সার্থক ছিল কারণ পৃথিবীর সমস্ত ভুমি এক জায়গায় ছিল। ওয়েগনার আমাদের সামনে তুলে ধরেন প্যানগায়ার মূল রহস্য। তিনি মূলত মহাদেশীয় প্রবাহ নিয়ে গবেষণা করতেন, আর পৃথিবীর মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে এক সময় পৃথিবীর মহাদেশগুলো একত্রে ছিল যা ধীরে ধীরে একে অপরের থেকে দূরে সরে গেছে। কালের বিবর্তনে এসবের মধ্যে দূরত্বের ফারাক ক্রমে বাড়তে থাকে। এভাবেই কালক্রমে প্যানগায়া বিচ্ছিন্ন হয়ে আজকের সাতটি মহাদেশের উদ্ভব ঘটিয়েছে। তিনি এর স্বপক্ষে দেখান যে, উত্তর আমেরিকার পূর্ব তীর ও ইউরোপের পশ্চিম তীর কাছাকাছি এনে মিলালে পুরোপুরি খাপ মিলে যায়। একইভাবে সাউথ আমেরিকার সাথে আফ্রিকা এবং মাদাগাস্কার এর সাথে ভারতকে মেলালেও একই বিষয় পরিলক্ষিত হয়। ওয়েগনারের এই তত্ত্বকে বলা হয় ‘কন্টিনেন্টাল ড্রিফ্ট’ বা ‘ভাসমান ভূ-ভাগ তত্ত্ব’। যদিও তার সময়ে এই তত্ত্ব আলোর মুখ দেখেনি কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তাঁর এই “ভাসমান ভূ-ভাগ তত্ত্বের” জন্যই বিখ্যাত হয়েছেন।  এ তত্ত্বের আলোকে, পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো অনমনীয় প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত যাদেরকে বলা হচ্ছে টেকটনিক প্লেট। আর এইসব টেকটনিক প্লেট একএকটি মূলত পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গলিত পদার্থের বহিঃ আবরণ দ্বারা পাথরের স্তরে রুপান্তর হয়েছে। ভূস্তরের অভ্যন্তরে যা কিছুই রয়েছে তা এই প্লেটগুলোর ওপরে অবস্থিত বা নির্ভরশীল। টেকটনিক প্লেটগুলো একে অপরের সাথে পাশাপাশি লেগে রয়েছে। আবার প্রতিটি স্তর একাধিক প্লেটে বিভক্ত যা প্রায়ই নিজেদের মাঝে ধাক্কায় জড়িয়ে পড়ে। এই ধাক্কা কখনো মৃদু কিংবা সজোরে আঘাত প্রাপ্ত হয়। প্লেটগুলো শিলা দ্বারা গঠিত বলে মাঝে মাঝে ধাক্কায় তাদের মাঝে ঘর্ষণের সৃষ্টি হয় এবং এই ঘর্ষণের মাত্রা অধিক হয়ে গেলে এক ধরনের শক্তি নির্গত হয় যা ভূস্তরকে প্রকম্পিত করে তুলে। এসব বিশাল আকারের টেকটনিক প্লেটগুলো যখন একের সঙ্গে অপরে ধাক্কা খায় তখন কেঁপে ওঠে মাটির নিচের তলদেশ, আর তখনি আমরা ভূপৃষ্ঠের ওপর ভূকম্পন অনুভব করি। গবেষণায় প্রমাণিত হয়, যেখানেই দুটো প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে সেখানেই ঘর্ষণ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এই সংযোগস্থলকে বলা হচ্ছে প্লেট বর্ডার। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন একটা সময় আসবে যখন পৃথিবীর ভেতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বর্তমান মহাদেশগুলো পুনরায় একত্রিত হয়ে যাবে। অবশ্য সেক্ষেত্রে তা দ্রুত ঘটার সম্ভাবনা ক্ষীণ, এ ধরনের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে সময় লাগবে নুন্ন্যতম পাঁচ থেকে ২০ কোটি বছর। তখন পুনরায় গঠিত হবে একটি একক বৃহৎ মহাদেশ বা সুপারকন্টিনেন্ট। গবেষকরা এর নাম দিয়ে রেখেছেন ‘এ্যামেশিয়া’ নামে। আর নতুন এই মহাদেশটি সংগঠিত হবে পৃথিবীর উত্তর মেরুতে অথবা পৃথিবীর উল্টো পাশে বর্তমান প্রশান্ত মহাসাগরের ঠিক মধ্যখানে।  

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

আবেগ বিষাদের কথাকার লেখক কাজুওর নোবেল জয়

Maksuda Akter

জামাল মিয়ার কস্টো।

Mohammad Abubakker Mollah

এসেছে উবুন্টু ১৭.১০ ,রিভিউ

Rezwanul joy

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: