সাফল্যের গল্প

বিশ্বের সর্ববৃহৎ আভিজাত্য জাহাজের দখলে শীর্ষে ‘রয়েল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল’

ওয়েসিস অফ দ্য সিসঃ ‘ওয়েসিস অফ দ্য সিস’কে বাংলায় অর্থ দাড় করালে হয় ‘সমুদ্রের বুকে একটুকরো মরূদ্যান’। ২ লক্ষ ২৫ হাজার ২৮২ টনের এই জাহাজটি দৈর্ঘ্যে ১১৮৭ ফুট, প্রস্থে ২০৮ ফুট ও উচ্চতায় ২৩৬.২২ ফুট এবং জলের নীচেও জাহাজটির প্রায় ৩০ ফুট কাঠামো থাকে। প্রায় সাড়ে ছয় হাজার জন যাত্রী নিয়ে প্রতি ঘণ্টায় ২২.৬ নটিকেল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম ‘ওয়েসিস অফ দ্য সিজ’। যাত্রী পরিষেবায় ও জাহাজ রক্ষনা বেক্ষনে রয়েছে জাহাজের ২,১০০ জন ক্রু। ২০০৭ সালের ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হয় জাহাজটির তৈরির কাজ। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ২০০৯ সালের ১ নভেম্বর জাহাজটিকে প্রথম সমুদ্রে নামানো হয় এবং যাত্রীবহনে সমর্থ হয়।  জাহাজটি তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জাহাজটি তৈরি করেছে এসটিএক্স ইউরোপ এবং মালিকানা রয়েছে রয়্যাল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনালের হাতে। আভিজাত্য ও আকারের দিক থেকে টাইটানিক বেশ পেছনে ফেলে দিয়েছে ‘ওয়েসিস অফ দ্য সিজ’। ২২ তলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল এই জাহাজটিতে রয়েছে মোট ১৬টি ডেক এবং ২,৭০০ টি আধুনিক বিলাসবহুল রুম। এছাড়াও জাহাজের প্রায় প্রতিটি অংশেই রয়েছে অসংখ্য পানশালা, চারটি বিশালাকৃতির সুইমিং পুল, বাস্কেটবল কোর্ট, ভলিবল কোর্ট, পুল খেলার সুব্যবস্থা, ব্র্যান্ডেড শপিং মল, আধুনিক রেস্টুরেন্ট, থ্রিডি মুভি থিয়েটার, সুদৃশ্য বাগান, ইয়ুথ জোন, কম্পিউটার গেমিং ও গবেষণাগারসহ থিম পার্ক সহ কত কি। বলা চলে প্রায় পাঁচটা টাইটানিক ঢুকে যাবে ওয়েসিস অফ দ্য সিজ এর ভেতর। প্রায় চারটি ফুটবল মাঠকে জড়ো করলেও এই বিলাসবহুল জাহাজের সমান হয়না।   এই জাহাজে করে ক্যারিবিয়ান সাগরে ঘুরে বেড়াতে হলে ২ বছর আগে হতেই বুকিং দিয়ে রাখতে হয়। মোট ৯রাত, ৯দিন উত্তর ক্যারিবিয়ান সাগরে ভ্রমণ পিপাসু অভিজাত মানুষের জন্য এই জাহাজে ক্রুজ পরিচালিত হয়। এর জন্য প্রতিজন যাত্রীকে কেবিন ভাড়া বাবদ গুণতে হবে ১৪৫৮ মার্কিন ডলার, আর ভিআইপি দুতলা স্যুটের জন্য গুণতে হবে ৩২০০ মার্কিন ডলার যেটি থাকবে সমুদ্র মুখী। আয়তনে মাত্র ২ ইঞ্চি পার্থক্য রয়েছে একই কোম্পানির অন্য আরেকটি জাহাজ অ্যালুর অফ দ্যা সিস থেকে।

অ্যালুর অফ দ্যা সিস

অ্যালুর অফ দ্যা সিসঃ অ্যালুর অফ দ্যা সিস  বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। জাহাজটির নির্মাণে রয়েল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল খরচ করেছে ১২০ কোটি ডলার, যা পূর্বের সব বাজেটকে ছাড়িয়ে যায়। এটি দৈর্ঘ্যে ১,১৮৭ ফুট ও উচ্চতায় ২৩৬.২২ ফুট। ৬,৭৮০ জন যাত্রী নিয়ে এটি প্রতি ঘণ্টায় ২২.৬ নটিকেল মাইল গতিতে চলতে পারে। ১৬টি আধুনিক প্যাসেঞ্জার ডেক রয়েছে জাহাজটিতে। আধুনিক সব রেস্টুরেন্ট, শপিং মল, খেলাধুলার স্থান ও অন্যান্য সব ধরনের আধুনিক সুবিধার পাশাপাশি এতে রয়েছে ছোট-বড় এমনকি বয়স্কদের জন্য বয়সভেদে বিভিন্ন ক্লাব। জাহাজটিতে ঘুরতে পয়সা খরচ করলে বিফলে যাবেনা এইটুকু বলা যায়।

হারমোনি অব দ্য সিস

হারমোনি অফ দ্যা সিসঃ রয়েল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল নৌবহরের ২৫তম জাহাজ হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘হারমোনি অব দ্য সিস’। এটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সাতশো মিলিয়ন পাউন্ড। জাহাজটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে এবং এটির নির্মাণে নিযুক্ত ছিলেন মোট দুই হাজার পাঁচশো শ্রমিক। এর বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি অধিক পরিমাণ যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিশেষায়িত জাহাজ। ৬,৬৮৭ জন যাত্রী নিয়ে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলা জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১১৮৮.১ ফুট এবং উচ্চতা ২৩০ ফুট। যাত্রী পরিষেবায় ও জাহাজ রক্ষনা বেক্ষনে বিভিন্ন দেশ থেকে এই জাহাজে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২,১০০ জন ক্রু। জাহাজটিতে রয়েছে মোট ১৮টি ডেক, যার ১৬টিতে রয়েছে দুই হাজার সাতশো ৪৭টি কেবিন। দু’টি তলা নিয়ে বিস্তৃত জাহাজের সিগনেচার রুমটি রয়েল লফট স্যুট বলে পরিচিত। রয়েল লফট স্যুটের প্রথম তলায় রয়েছে এক হাজার ছয়শো স্কয়ার ফুটের একটি লিভিং স্পেস। অন্যদিকে আটশো ৭৪ স্কয়ার ফুটের দ্বিতীয় তলাটি শহরের বড় কোনো অ্যাপার্টমেন্টের চেয়েও অনেক বড়। এক্সক্লুসিভ কেবিনের যাত্রীদের সেবায় ও মালপত্র খুলতে এবং গোছাতে নিয়োজিত থাকবে রয়েল জেনিস উপাধির খানসামা। বলা হয় হারমনি অব দ্য সিস যেনো সমুদ্রের মধ্যে আরেক পৃথিবী। এখানে রয়েছে ২০টি আধুনিক ডাইনিং অপশন ও বার, রয়েছে সেলিব্রেটি শেফ জেমি অলিভ‍ারের রেস্টুরেন্ট জেমি’স ইতালিয়ান। সবচেয়ে আকর্ষণের বিষয় হচ্ছে, এখানে একটি বায়োনিক বার আছে যেখানে রোবটরাই ককটেল বানিয়ে কাস্টমারদের পরিবেশন করে। চিত্তবিনোদনের জন্য রয়েছে কমেডি ও জ্যাজ ক্ল‍াব, রয়েছে খেলার মাঠ, স্পোর্টস জোন, সি স্পা ও ফিটনেস সেন্টার, ইয়োথ জোন, ২৩টি সুইমিংপুল ও বুটিক শপ।  জাহাজের ঠিক মধ্যখানে রয়েছে একটি সুবিশাল সেন্ট্রাল পার্ক যেখানে রক্ষিত আছে সাড়ে দশ হাজারের বেশি উদ্ভিদ যার মধ্যে ২০ ফুট উচ্চতার ৫২টি বড় গাছও দেখা মেলে। যাত্রীরা যাতে হারিয়ে না যায় তার জন্য এখানে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ব্যবহার করা হয়। এককথায় ভূমধ্যসাগর বা ক্যারিবিয়ানে সর্বোচ্চ বিনোদন দিতে জাহাজটি অ‍ায়োজনের কোনো কার্পণ্য করেনি। এই ক্রুজে চড়ে বেড়াতে প্রতি সপ্তাহে মাথাপিছু গুণতে হবে ৭৫২৫ পাউন্ড।

সিম্ফনি অব দ্য সিস

সিম্ফনি অব দ্য সিসঃ বলা হয় এটিই এখন পর্যন্ত নির্মিত বিশ্বের সর্ব বৃহৎ জাহাজ যেটি অপারেট করছে রয়েল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল। যদিও এর পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তর্ক থাকতে পারে! জাহাজটির ওজনের দিকটি বিবেচনা করে বিশ্বের বড় যাত্রীবাহী জাহাজ হিসেবে মুল্যায়ন করা হয়। ১.৩৫ বিলিয়ন ডলার ব্যায়ে নির্মিত এই জাহাজটির যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৬,৬৮০ জন আর  জাহাজটির রক্ষনা বেক্ষনে নিয়োজিত ২,২০০ জন কেবিন ক্রু।  দৈর্ঘ্যে ১১৮৮ ফুট লম্বা এবং উচ্চতায় ২৩৮ফুটের এই জাহাজটি ২২নটিক্যাল মাইলে ছুটে চলতে পারে। এখানে রয়েছে ১৮টি ডেক এবং বাচ্চাদের জন্য রয়েছে ওয়াটার পার্ক, আইচ স্কেটিং রিঙ্ক, বেশ বড় সাইজের বাস্কেট বল মাঠ, দুইটি ৪৩ফুট উচ্চতার রক ক্লাইম্বিং ওয়াল। রয়েছে সেন্ট্রাল পার্ক যেখানে আছে সাড়ে বিশ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ। আর বাকী অন্যান্য সকল বড় জাহাজের মত সকল সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে জাহাজটিতে। বিশ্বের যে কোন উচ্চ বিলাসী ভ্রমণ পিপাসুদের প্রথম পছন্দ থাকে এই জাহাজে ভ্রমণ করার।

 

সহায়তা পেতেঃ http://www.royalcaribbeanpresscenter.com/media_home.php.

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবি’র ২৮শে পদার্পণ

MP Comrade

হাঙ্গরের সাথে প্রতিযোগিতায় নামবেন যে খ্যাপাটে সাঁতারু!

Anika Tasnim Biva

যাঁর অদম্য ইচ্ছা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিশ্বে প্রতিষ্ঠা পেল স্কাউটিং (পর্ব-২)

MP Comrade

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy