Now Reading
ভুলবশত আবিস্কার প্রথম সারির ৫টি জনপ্রিয় খাদ্য



ভুলবশত আবিস্কার প্রথম সারির ৫টি জনপ্রিয় খাদ্য

আপনি কি জানেন আপনার পছন্দের খাবারটি কবে এবং কিভাবে প্রথম আবিস্কার হয়েছিল? তার মধ্যে এমনও অনেক পছন্দের খাবার আছে যেটি দুর্ঘটনাবশত বা ভুলবশত তৈরি হয়েছে যা পরবর্তীতে ব্যপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এমন কিছু জনপ্রিয় খাদ্য আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলো আসলে আবিষ্কার করার কথা কল্পনাই করেননি খাদ্যটির আবিস্কারক। এমন ৫টি খাবারের উৎস নিয়েই আজকের আয়োজন।

০৫. পপসিক্যালসঃ ১৯০৫সালে ফ্র্যাংক ইপারসন আবিস্কার করেছিলেন পপসিক্যালস। ফলের তৈরি খাবারটি এতটাই মজাদার যে প্রায় প্রত্যেকেই তার স্বাদ একবারের জন্য হলেও নিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রীষ্মের সময় ফ্রিজে সংরক্ষণের পর এই খাবারটি পরিবেশন করলে প্রত্যেককেই বেশ স্বস্তি দেয়। ফ্র্যাংক যখন ১১বছরের বালক ছিলেন তখন তিনি এই বরফের তৈরি পপটি উদ্ভাবন করেছিলেন। তিনি কিছু সোডার সাথে খাদ্যের কিছু উপাদান মিশিয়ে বেশ নাড়তে থাকেন। হটাত তিনি মিশ্রণটি ঐ অবস্থায় রেখে স্থানটি ত্যাগ করলেন সারারাতের জন্য। রাতটি ছিল বেশ ঠাণ্ডার। পরের দিন সকালে তিনি দেখলেন যে কাঠিটি দিয়ে তিনি সোডা ও অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে ছিলেন তা ঐ মিশ্রণের সাথে ঠাণ্ডা ও শক্ত হয়ে লেগে আছে। সেই কিশোর উদ্ভাবক কাঠিটির মধ্যে লেগে থাকা ঠাণ্ডা মিশ্রণটি চেটে খেতে লাগলেন এবং বেশ তৃপ্ত অনুভব করলেন। শুরুতেই তিনি এর নাম দেন ‘এপসিক্যাল’। এবং তিনি তা তৈরি করে স্থানীয় প্রতিবেশী ও বন্ধুদের কাছে বিক্রি করতে লাগলেন। প্রত্যেকেই বেশ তৃপ্তি ভরেই এর স্বাদ নিতে লাগলেন এবং দিন দিন তা জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল। ১৯২৪ সালে মি. ফ্রাংক জনপ্রিয় এই আইস পপটির নাম পরিবর্তন করেই ‘পপসিক্যাল’ নামেই প্যাটেন্ট করে নেন।

[penci_related_posts taxonomies=”undefined” title=”আরো কিছু পোস্ট ” background=”” border=”” thumbright=”no” number=”4″ style=”list” align=”none” displayby=”recent_posts” orderby=”random”]

০৪. চকোলেট চিপ কুকিসঃ ১৯৩০ সালে রুথ ওয়েকফিল্ড আবিস্কার করেন চকোলেট চিপ কুকির। আপনি কল্পনাই করতে পারবেন যে এমন এক ভুলের কারনে আবিস্কার হল এই চকোলেট চিপ কুকিজ। রুথ প্রতিদিনকার নিয়মমাফিক চকোলেট কুকি বানাচ্ছিলেন। একদিন কুকির ডো বানাতে গিয়ে একটা সময় খেয়াল করলেন বেক করার চকোলেট শেষ, তাছাড়া তাৎক্ষণিক যে বাজার থেকে নিয়ে আসবেন সেই সুযোগ আর ছিলনা। তাই তিনি একটা বুদ্ধি বের করলেন, কিভাবে ভিন্ন চকোলেট ব্যবহার করে ক্রেতাদের চোখে ধুলো দেয়া যায়। তিনি সাধারণ মিল্ক চকোলেটকে ছোট ছোট টুকরো করে ডো-এর সঙ্গে মিশিয়ে দিলেন, ভেবেছেন তাপ লেগে চকোলেট গলে ডো-এর সঙ্গে মিশে যাবে। কিন্তু পরে দেখলেন সেই টুকরো করা চকলেট অবিকৃত রয়ে গেল, ক্রেতারাও বেশ সাছন্দে এটি গ্রহণ করলেন। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল এর খ্যাতি, আর এভাবেই আবিষ্কার হল চকোলেট চিপ কুকিজ।

০৩. স্যাকারিনঃ এই নাম শোনে নাই এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুস্কর। চিনির প্রধান বিকল্প হিসেবেই মূলত স্যাকারিন কে আমরা জানি। এই স্যাকারিনের আবিষ্কারের গল্পটাও বেশ মজার বিজ্ঞানীর অজান্তেই আবিষ্কারহয়ে গেল জনপ্রিয় এই স্যাকারিন। বিজ্ঞানী কনস্টাইন ফাহলবার্গ ১৮৭৯ সালে ল্যাবরেটরিতে কিছু রাসায়নিক পদার্থের সংশ্লেষণের উপর গবেষণা করছিলেন।কাজের প্রচুর চাপ থাকায় তিনি অবসরটুকু কাজে লাগানোর মানসে গবেষণাগার থেকে হাতে করে কিছু সামগ্রী বাসায় সঙ্গে নিয়ে এলেন। খাওয়ার সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোন ভ্রূক্ষেপ নেই! প্রচণ্ড খিদা অনুভব করাতে ফাহলবার্গ কিছু খাবার নিয়ে খেতে বসলেন। খাবার মুখে দেয়ার পর খেয়াল করলেন খাবারে চিনি বা মিষ্টি জাতীয় কিছু মেশাতে তিনি ভুলে গেছেন কিন্তু তারপরেও হাতের খাবারটি তার বেশ মিষ্টি লাগছে। ফাহলবার্গ বুঝতে পারলেন আসলে এই মিষ্টতা আসছে তার  হাতের আঙ্গুল হতেই! কিন্তু কিভাবে বা কেন? পরে তিনি বুজলেনযে একটু আগেই গবেষণাগারে যে রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে তিনি কাজ করছেন সেগুলো আঙ্গুলে লেগে থাকার কারনে এই মিষ্টতা এসেছে।  পরে তিনি সেই সূত্র ধরে এই মিষ্টি জাতীয় পদার্থের উপর অধিক গবেষণা করে আবিষ্কার করলেন স্যাকারিন।

০২. পটেটো চিপসঃ পটেটো চিপস পছন্দ নয় এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ছেলে হতে বুড়ো পর্যন্ত সবারই পছন্দ পটেটো চিপস। মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্র  নিউইয়র্কের জর্জ ক্রাম নামের এক শেফ প্রথম তৈরি  করেছিলেন পটেটো চিপস।  জর্জ  কাজ করতেন মুন’স লেক হাউস নামের স্থানীয় এক রেস্তোরাঁয়, আর সেই রেস্তোরাঁর জনপ্রিয় একটি খাবার ছিল ফ্রেঞ্চফ্রাই বেশ যা গ্রাহকদের কাছে বেশ পছন্দের আইটেম ছিল।  সেই ১৮৫৩ সালের কোন একসময়, এক ক্রেতা জর্জ এর রেস্তোরাঁয় এসে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের অর্ডার দিলেন। অন্য সময়ের মত জর্জ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই প্রস্তুত করে পাঠালেন, কিন্তু সেই গ্রাহক ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের আলুগুলোকে  খুব মোটা বলে অভিযোগ করেন এবং তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি আলুগুলোকে আরো পাতলা করে আনার জন্য ক্রামক বার বার তাগাদা দিচ্ছিলেন। এদিকে বিরক্ত জর্জ ক্রাম আলুর টুকরোগুলোকে এক প্রকার রাগ করে একদম পাতলা কাগজের মতো কেটে ফেললেন! তারপর সেগুলোকে অতিরিক্ত তেলে মচমচে করে ভেজে এবং তাতে বেশি করে লবণ মাখিয়ে সেই ক্রেতার সামনে পুনরায় পরিবেশন  করলেন। জর্জ ক্রাম অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলেন গ্রাহক সেগুলো খুব পছন্দ করে খাচ্ছেন। এরপর থেকে তিনি রেস্তোরাঁয় ফ্রেঞ্চফ্রাই এর পাশাপাশি আলুর পাতলা করা আইটেমটি মচমচে ভেজে পরিবেশন করতে লাগলেন। নাম রাখলেন চিপস, ব্যস! এভাবেই আবিষ্কার হয়ে গেল আমাদের প্রিয় পটেটো চিপস! যুক্তরাষ্ট্রে পটেটো চিপস এতোটা জনপ্রিয় যে সেখানকার মানুষের মোটা হয়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ এটিই।

০১. কোকা-কোলাঃ পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়’র মধ্যে বিশ্বখ্যাত কোকা-কোলা একদম প্রথম সারিতেই। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এই কোকা-কোলাকে পরিকল্পিতভাবে আবিষ্কার করা হয়নি। জন স্মিথ পেমবার্টন নামের একজন রসায়নবিদ কোকা-কোলা আবিষ্কার করেন। তিনি তাঁর রসায়নাগারে তৈরি করা ওষুধ ফেরি করে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আর অবসর পেলেই টুকিটাকি আবিষ্কারের নেশায় মেতে থাকতেন। ১৮৮৬ সালে তিনি একদিন রসায়নাগারে কাজ করতে করতে আবিস্কার করে বসেন এক ধরনের সিরাপ। সিরাপটির স্বপক্ষে তখন তাঁর দাবি ছিল এটি মাথা ব্যথার টনিক হিসেবে  চমৎকার  কাজ করে। এটি প্রচারের পর প্রথমদিকে তিনি সিরাপটির সাথে ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে প্রতি গ্লাস ৫ সেন্ট করে বিক্রয় করা শুরু করলেন। ব্যবসার প্রসার বাড়তে লাগলো আর মানুষজনও তাঁর কথায় বিশ্বাস রেখে তা গ্রহণ করতে লাগলেন। হটাৎ একদিন দোকানে এক লোক দ্রুত বেগে এসে জানাল তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা আর জন স্মিথের কাছে চাইলেন তার প্রস্তুত করা এক গ্লাস সিরাপ। এদিকে স্মিথ তড়িৎ গতিতে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত ঠাণ্ডা পানির পরিবর্তে সিরাপে মিশিয়ে দিলেন কার্বোনেটেড মেশানো পানি। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, সেই লোকটি স্মিথের এই বিচিত্র সিরাপ খেয়ে দারুণ উপভোগ করলেন এবং তৃপ্তি পেলেন। স্মিথ বিষয়টি বুজতে পারার পর তার উপর আরো গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নিলেন পানীয়টি বাজারজাত করার। নতুন এই ব্যবসা শুরুর বছরে তিনি আয় করলেন ৫০ ডলার কিন্তু বিপরীতে ব্যয় হয়ে যায় ৭০ ডলার। ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিমর্ষ স্মিথ তার পানীয় এর প্যাটেন্টটি বিক্রি করে দেন। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ২০০টি দেশে কোকা-কোলা বাজারজাত করা হয় যেখানে পানীয়টি বেশ জনপ্রিয়। আর প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০ বোতল কোকা-কোলা পান করছে বিশ্ববাসী। তাহলে বুজুন আবিস্কারকের ভুলের মাশুল কিভাবে গুনছে বিশ্ববাসী!

চলবে…

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment