Now Reading
এক্সরসিজম অব অ্যানিলিস মিসেল



এক্সরসিজম অব অ্যানিলিস মিসেল

আপনাদের মাঝে নতুন নিয়ে আসলাম এক বাস্তব সত্য ভূতুরে এক্সরসিজম এর ঘটনা, যার রহস্যভেদ করা আজও সম্ভব হয়নি। তবে এ ঘটনা আমার মত আপনাদের ও অনেকটা অবাক করে দিবে আর বলতে বাধ্য করবে এটা কি করে সম্ভব!

আমরা এমন অনেক ভুত বা জ্বিন মানুষের উপর ভর করার কথা শুনেছি বা আমরা অনেকে দেখেছি আর সেটা কখনো ছারানো সম্ভব হয়েছে আবার কখনো হয়নি, তবে আজকে আমি আপনাদের যে ঘটনা বলতে যাচ্ছি তা আপনার শোনা বা দেখা সকল ঘটনাকে হার মানাবে। এই ঘটনায় আক্রন্ত মহিলা যার উপর এক বা দুই জন নয় ছয় জন আত্মা বা জ্বিন ভর করে। আর এই দুষ্ট আত্মা দের নাম শুনে হয়তো আপনারা শক খেয়ে যেতে পারেন, তো চলুন দেরি না করি শুরু করি আজকের ঘটনা।

অ্যানালিস মিসেল

আজকের ঘটনা না হচ্ছে অ্যানালিস মিসেল নামের এক মেয়ের যার জন্ম ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৫২ সালে জার্মানির একটি ক্যাথোলিক পরিবারে।

অ্যানালিস মিসেল ও তার পরিবার

অ্যানালিসের মা-বাবা খুবই ধার্মিক ছিলেন এবং অ্যানালিস নিজে ও বড় হয়ে ক্যাথলিক ধর্মপ্রচারক হতে চেয়েছিলো, কিন্তু সেটা হয়তো তার নিয়তিতেই ছিলো না।

যখন অ্যানালিস ২৩ বছরের হয় তখন ট্যামপ্লোরাল লোব এপিলেপ্সি নামক এক মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। যার কারনে সে অনেক আজব ধরনের আচরন করতো, ফলে অ্যানালিসের মা-বাবা তাকে মানসিক ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু তারপর ও তার অবস্থার কোন উন্নতি না দেখে তার মা-বাবা কে ডাক্তার ও হাঁসপাতালের দারস্ত হতে হয়। এভাবেই পাঁচ বছর পর্যন্ত ট্রিটমেন্ট চলার পর ও তার অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি, আর এভাবেই অ্যানালিসের অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছিলো।

অসুস্থ অবস্থায় অ্যানালিস

অ্যানালিস এর এই উদ্ভট আচরন দেখে তার মা-বাবা’র মনে হয় তার হয়তো কোন মানসিক সমস্যা না হয়ত কোন প্যারানরমাল কিছু ধারা আক্রান্ত হয়েছে সে আর তখন অ্যানালিসের পরিবার চার্চের সাহায্য নেয়ার কথা ভাবে। সেসময় তার বাবা-মা আর্ন্সট অল্ট নামের এক পাদ্রীকে তাদের বাসায় দকে পাঠান।

আর্ন্সট অল্ট

আর্ন্সট অল্ট দেখেন অ্যানালিস তাদের ঘরের মেঝেতে জর বস্তুর মত পরে ছিলো, আর সেখে প্রসাব করে সেই প্রসাব মাটি থেকে চেটে খাচ্ছিলো আর পাশে পরে থাকা একটি কয়লা নিয়ে খাচ্ছিলো। তার মুখের ভয়ানক হাসি ও এসব দেখে আর্ন্সট অল্ট বুঝে যান তার ভেতর নিশ্চয়ই কোন খারাপ আত্মা বসবাস করছে।আর্ন্সট অল্ট অ্যানালিস এর পরিবারকে বলেন তার উপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এক্সরসিজম সম্পন্ন করা যাতে করে সে জলদি ঠিক হয়ে যায়। আর্ন্সট অল্ট এবং আর এক জন পদ্রি আর্নল্ড রেঞ্জ এর সাথে প্রথম এক্সরসিজম সম্পন্ন করে।

আর্নল্ড রেঞ্জ

আর ঠিক তখন তারা জানতে পারে যে অ্যানালিস এর উপর একজন বা দুইজন না ছয়জন খারাপ আত্মা তার উপর ভর করে। এই প্রথম এক্সরসিজম এর পর তার উপর ভর করা আত্মারা তার পর চরাও হতে থাকে এতে ধিরে ধিরে অ্যানালিস এর অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে যার কারনে অই দুই পাদ্রী দের আরও কয়েকবার এক্সরসিজম করার প্রয়োজন হয়।

অ্যানালিস মিসেল

এক্সরসিজম এর সময় অ্যানালিস এর উগ্র স্বভাবের কারনে তার হাত শিকল বাঃর শক্ত চেইন দিয়ে তার বিছানায় বেধে নিতে হতো। অ্যানালিসের এই এক্সরসিজমে তার উপর ভর করা ছয় আত্মার নাম যখন সবার সামনে আসে তা সবাইকে অবাক করে দেয়। এই ছয় আত্মার নাম ছিলো-

১। নিরোঃ

রোমান সম্রাজ্যের শেষ শাসক নিরো

২। জুডাস ইস্কেরিওটঃ

জুডাস ইস্কেরিওট

খ্রিষ্টধর্ম মতে জুডাস ইস্কেরিওট ছিলেন জিসাস এর শিষ্য এবং বারজন ধর্ম প্রচারকের মধ্যে একজন ছিলো, আর ইনি জিসাস কে ধোঁকা দেয় মাত্র ৩০ টি রুপোর পয়সার জন্য।

৩। কেইনঃ

কেইন এবং এবেল

খ্রিষ্টধর্মমতে এডাম আর ইভের দুই জন ছেলে ছিলেন যার মধ্যে বড় ছেলের নাম ছিলো কেইন এবং ছোট ছেলের নাম এবেল।

৪। হিটলারঃ

হিটলার

হিটলার কে আমরা কে না চিনি যে এক জন জার্মান ডিক্টেটর ছিলেন।

৫। ভ্যালেন্টিন ফ্লেশম্যানঃ

ভ্যালেন্টিন ফ্লেশম্যান

১৬’শ শতকের একজন খারাপ পাদ্রী। যাকে মদ পান করা, মাতাল অবস্থায় মানুষের উপর হামলা করা এবং হত্যার দায়ে রোমান সম্রাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হয়।

৬। লুসিফার (শয়তান)

লুসিফার (শয়তান)

লুসিফার বা শয়তান সম্পর্কে বলার কিছু নেই কারন টা আমরা সবাই জানি।

এই ছিল ছয় জন কি এবার নিশ্চয়ই অবাক লাগছে? যাইহোক চলুন এবার সামনে আগানো যাক।

এই ছয় আত্মা সব একসাথে অ্যানালিসের শরীরে প্রবেশ করে আর এই এক্সরসিজম এর প্রক্রিয়া চলাকালিন দুইজন পাদ্রীকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

দুজন পাদ্রী এক্সরসিজম এর সময় তাদের কথা অডিয় ক্যাসেট এ রেকর্ড করে রাখতেন সবসময়। এই এক্সরসিজম এর সময় অ্যানালিস এতোটাই উগ্র হয়ে যেতো যে সে তার বাবা-মা , ভাই-বোন কে কখনো কামড় বা খামচি দিতো এমনকি নিজেকে ও খুবই খারাপ কামরাতো।

একপর্যায়ে কিছু দিনের জন্য অ্যানালিস ঠিক হলেও একসময় তার অবস্থার আরও বেশী অধঃপতন ঘটে। সে একেবারে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয় এবং সে বলতো তার ভেতরে বাস করা আত্মারা তাকে কিছু খেতে হেয় না যার কারনে দিন দিন অসুস্ত হতে থাকে। ৩০ জুন ১৯৭৬ সালে তার উপর ৬২তম এবং শেষ এক্সরসিজম ক্রিয়া করা হয় আর তখন অ্যানালিস বলে সে এখন ক্লান্ত হয়ে গেছে সে এই শরির থেকে মুক্ত হতে চায়।

অ্যানালিসের মৃত দেহ

১ জুলাই ১৯৭৬ সালে অ্যানালিস শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। কিন্তু অ্যানালিসের মৃত্যুর পর আর এক নতুন মোর সামনে আসে যখন অ্যানালিসের পোষ্ট-মর্টেম রিপোর্ট এ আসে অ্যানালিস ম্যালনিউট্রেশনএর কারনে মারা যায় এবং সে একজন মানসিক রোগী ছিলো সেই সাথে ডাক্তার’রা ঐ দুইজন পাদ্রীর উপর দোষারোপ করে যে তারা অ্যানালিসের মা-বাবা কে উল্টা-পাল্টা বুঝিয়েছে ভালো ভাবে ট্রিটমেন্ট করা হলে আন্যালিস কে বাঁচানো যেত।

এখন এটা মুল হয়ে দাড়ায় আদৌ কি অ্যানালিস ঐ ছয় আত্মার বসে থাকার জন্য মারা গেছে নাকি ডাক্তার দের কথাই ঠিক ছিলো? এটা আজও এক রহস্য হয়ে আছে। আপনাদের কি মনে হয় জানাতে ভুলবেন না কমেন্ট করে। আর লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন।

ধন্যবাদ।

About The Author
obscurejubair
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment