Now Reading
অপরূপ সৌন্দর্যের ভূস্বর্গ কাশ্মীর



অপরূপ সৌন্দর্যের ভূস্বর্গ কাশ্মীর

সৌন্দর্যের লীলাভূমি ভূস্বর্গ কাশ্মীর সম্পর্কে জানা ও দেখার ইচ্ছে সেই স্কুল জীবন থেকেই। বইয়ের পাতায় কাশ্মীরের দৃষ্টিনন্দন নৈসর্গিক নয়নাভিরাম শোভার বর্ণনা পড়ে মুগ্ধ হতাম আর মনে মনে স্বপ্ন পোষণ করতাম আহ্ যদি চোখে দেখতে পারতাম অপরূপ কাশ্মীর তা হলে জীবনটা সার্থক হত। আমার সেই লালিত স্বপ্নের প্রথম বাস্তবায়ন হয়েছিল ২০১২ সালে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে। এবং গত ২৬ মে ২০১৮ তা রূপ নিয়েছে ৭ম তম’তে।

কাশ্মীর অনেকগুলি নামে পরিচিত। যেমন- ঋষিভূমি, যোগীস্থান, শারদাপীঠ বা শারদাস্থান ইত্যাদি। সম্রাট জাহাঙ্গীরের দেয়া “ভূস্বর্গ” নামটিই সর্বাপেক্ষা সমাদর লাভ করেছে। কাশ্মীরকে বলা হয় সুখী উপত‍্যকা।

পুরাকাল থেকেই কাশ্মীরের কাহিনি শুনে আসছে জনগণ। মহাভারতে কাশ্মীরের আখ্যান মেলে। নানান কিংবদন্তী আছে কাশ্মীরকে ঘিরে। হিন্দু পুরাণে বর্ণনা আছে, প্রজাপতি কশ‍্যপ ব্রক্ষা, বিষ্ণু ও শিবের সাহায্য নিয়ে জলোদ্ভাব অসুরকে বধ করে কাশ্মীরে রাজ‍্য গড়েন। ধারণা করা হয় অতীতে কাশ্মীর ছিল জলমগ্ন। নাম ছিল সতীসর অর্থাৎ সতীর (পার্ব্বতী) সরোবর। সতীসর ছিল দৈত্যপুরী।

দৈত‍্যদের হাত থেকে নিষ্পেষিত মানবসন্তানদের দুর্দশা মোচনে এগিয়ে এলেন ভগবতীর বরপুষ্ট ব্রক্ষার মানসপুত্র মরীচি ও কলার পুত্র মহামুনি কশ‍্যপ। সকল দৈত‍্যকে হত্যা করে গড়ে তোলেন লোকালয়। কশ্যপ মার বা কশ‍্যপ মীর (পাহাড়) থেকেই নাকি কাশ্মীর নামকরণ। মহামুনি কশ‍্যপ নাগরাজ তক্ষকের হাতে কাশ্মীর সমর্পণ করে ফিরে যান অযোধ্যাপুররীতে। মহাভারত থেকে জানা যায়, রামের অনুজ ভরত এবং শত্রুঘ্ন কাশ্মীরে এসেছিলেন। সম্রাট অশোক কাশ্মীর করায়ত্ত করেছিলেন। সে কারণেই এখানে সেকালে কাশ্মীরে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব ছিল। কুষাণরাজ কণিষ্কও কাশ্মীরে রাজত্ব করেন।

শিবলিঙ্গ পর্বতমালা আপন জটিল জটারশিতে বিস্তার করে রেখেছে প্রাচীন গান্ধারভূমিকে। এই এলায়িত বিলম্বিত জটারাশির দুর্গম পথ চলে গেছে হিমালয়ের প্রান্তসীমায়। গৌতমবুদ্ধের সঙ্ঘমিত্রদল এই পথ দিয়েই ভারতীয় সংস্কৃতির নিত‍্যকালের বাণী বহন করে নিয়ে গেছেন মধ‍্যপ্রাচ‍্যের নানা স্থানে। চোখ তুললেই দেখা যায়, হিমালয়ের চীরবাসা জটাধারী সন্ন‍্যাসীর ললাটে যেন কনককান্ত রাজমুকুটের মত রৌদ্রদীপ্ত তুষারচূড়া!

কাশ্মীরের অরণ্যঅটবীর ধ‍্যানগম্ভীর শোভা মানুষের দুই চক্ষুকে বিহবল বিস্ময়ে বিমূঢ় করে রাখে। চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সুন্দর মসৃণ পথ চলে গেছে দূর-দূরান্তে। পথের দুই পাশে অধিত‍্যকার সৌন্দর্যে যেন মহাকাব‍্যের আভাস উচ্ছ্বসিত হচ্ছে!

কাশ্মীরের বড় অংশ (দুই-তৃতীয়াংশ) ভারতের অধিভুক্ত। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৫৭ পর্যন্ত কাশ্মীরে ছিল স্বায়ত্তশাসন। ১৯৫৭-এ ভারতের সঙ্গে একীভূত হয় কাশ্মীর। এই অংশের নাম জম্মূ ও কাশ্মীর। পাকিস্তানের অংশে আজাদ কাশ্মীর (নামে ‘আজাদ’ হলেও প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন নয়) জম্মু ও কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর। প্রধান ভাষা উর্দু, ডোগরি, লাডাকি, বালতি, পাঞ্জাবি, হিন্দি, কাশ্মীরি এবং ইংরেজি। এখানে গুজর, পাঠান, শিখ প্রভৃতি নানা জাতির বসতি থাকলেও মুসলমানদের সংখ্যাধিক‍্য।

কাশ্মীরে বেড়ানোর জন্য ভাল সময় মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। তাপমাত্রা মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকেই বাড়তে থাকে। ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বেড়ে ২৭ ডিগ্রিতে ওঠে। মে-জুনে কাশ্মীরে সাধারণ সোয়েটার হলেই চলে তবে শীতে ভারী উলেনের সঙ্গে ওভারকোট দরকার হয়। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শীতকাল। একারণেই এই সময় পর্যটনের অফ সিজন। এসময় হোটেল বা আবাসে ভাড়াও কম। (চলবে)

About The Author
Arif Rahman
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment