• Home
  • সাধারন জ্ঞান
  • যে ১০টি কারণে আধুনিক ব্রিটেন বিশ্বের সেরা দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম
সাধারন জ্ঞান

যে ১০টি কারণে আধুনিক ব্রিটেন বিশ্বের সেরা দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম

যুক্তরাজ্য নিয়ে অনেকের মাঝে বিভ্রান্তি আছে। তা হলো লন্ডন, ইংল্যান্ড, ব্রিটেন, গ্রেট ব্রিটেন, ইউকে, যুক্তরাজ্য ইত্যাদি নাম নিয়ে। ভৌগলিকভাবে ব্রিটেনের মূল দ্বীপে অবস্থিত তিনটি দেশ ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আর ওয়েলস নিয়ে গ্রেট ব্রিটেন গঠিত. গ্রেট ব্রিটেনের সাথে ইউনাইটেড কিংডম এর পার্থক্য হলো ইউনাইটেড কিংডম এ গ্রেট ব্রিটেনের তিনটি দেশের সাথে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড সংযোজিত। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ছাড়াও আরো ১৪ টি সার্বভৌম রাষ্ট্র আছে রানী এলিজাবেথ এর অধীনে যাদেরকে আলাদাভাবে ব্রিটিশ ওভারসিস টেরিটরি বলা হয়। আসুন সংক্ষেপে জেনে নিই ঠিক কি কি কারণে ব্রিটেন এতটাই আধুনিক এবং অন্যদের চাইতে উত্তম।

উচ্চ শিক্ষার প্রবর্তনঃ ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থা গুণগত উৎকর্ষতার জন্য প্রসিদ্ধ। সারা পৃথিবীর বিশ্ব বিদ্যালয়ের তালিকানুযায়ী, বিশ্ব ব্যাপী প্রায় ২৬০০০ এর মত বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আর তার মধ্যে হাতে গোনা কয়টি সেরা বিশ্ব বিদ্যালয়ের নাম বলতে বলা হলে ২টি ব্রিটেনেরই থাকবে। হ্যাঁ ঠিকই ধরতে পেরেছেন অক্সফোর্ড আর ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই বলছি। এ দুটি বিশ্ব বিদ্যালয়কে বলা হয় উচ্চ শিক্ষার শস্য বুনার স্থান এবং তা কেবলই যে ঐতিহাসিক তা কিন্তু নয়। সমগ্র ব্রিটেন জুড়েই এই উচ্চ শিক্ষার পদ্ধতিটি ক্রমাগতভাবে যোগান দিয়ে যাচ্ছে গ্রহের সর্বোচ্চ ভাল ফলাফল। ভবিষ্যত্-পিয়াসীদের কাছে এমন একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য ব্রিটেন। বিশেষত ব্রিটিশ শাসিত উপনেবেশিক রাষ্ট্রগুলোতে বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ ডিগ্রীধারীদের সমাজে উচ্চ চোখে দেখা হয় ।

আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাঃ বিশ্বের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রবক্তা হিসেবে ধরা হয় ব্রিটেনকে। এখানে যেমন রয়েছে আধুনিক সব চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিক কিভাবে তা প্রয়োগ ঘটাতে হয় তার জন্য রয়েছে বিশ্বখ্যাত সব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ থেকে এখানে চিকিৎসা শাস্ত্রের উপর উচ্চতর ডিগ্রী নিতে প্রতি বছর ভিড় করেন মানুষ।

বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ রাষ্ট্রঃ অস্থায়ী কিংবা স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে মানুষ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। নাগরিকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় পৃথিবীর অন্যতম নিরাপদ রাষ্ট্র হচ্ছে যুক্তরাজ্য। তুলনামুলকভাবে এখানে হত্যা প্রবণতা কম অন্যসব রাষ্ট্র থেকে।

ব্যাক্তি স্বাধীনতা যথেষ্ট শক্তিশালী যেমনটা আমরা চাইঃ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ব্রিটেনে মুক্তবাদ চর্চা বেশ স্বাধীন। এখানে আপনি যদি কোন নিদিষ্ট মতবাদ ধারণ করেন তবে রাষ্ট্র আপনাকে কখনোই বাঁধা দেবে না। কেননা এখানকার রাষ্ট্র ব্যবস্থা এমন একটা ভিত্তির উপর বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত যে ব্যক্তি স্বাধীনতাকে এখানে বেশ সন্মানের দৃষ্টিতে দেখে। তার মানে এই নয় যে আপনি যেমন খুশি তেমন করতে পারেন। আইন, সামাজিক মূল্যবোধ কিংবা জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে এমন স্বাধীনতার সুযোগ এখানে নেই।

জীবন যাত্রার মান খুবই সুন্দরঃ যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি হচ্ছে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি। ফলে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান তুলনামূলক অন্য রাষ্ট্রের চাইতে বেশ উন্নত। এই রাষ্ট্রের প্রত্যেকেই একটা শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন উপভোগ করেন আর এই নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনই তাদের সুখের অন্যতম কারণ। ব্রিটিশরা অপ্রয়োজনীয় এবং লাগামহীন জীবন উপভোগ করতে পছন্দ করেন না। বিলাস জীবনে অভ্যস্ত একজন ব্রিটিশও নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলেন। ফলে সামগ্রিকভাবে ব্রিটিশদের জীবন যাত্রার মান বেশ ঐতিহ্যমণ্ডিত।

শিল্প বিপ্লবের সূচনাকারীঃ আঠারো শতকের শেষার্ধে শিল্পোৎপাদনের ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয় সাধারনভাবে তাই শিল্প বিপ্লব নামে পরিচিত। শিল্প বিপ্লব ইংল্যান্ড তথা পাশ্চাত্য জগতের ইতিহাসে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর ফলে ইংল্যান্ড বিশ্বের প্রথম শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশটির সমৃদ্ধির ভিত্তি রচিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও শিল্প বিপ্লব সদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে। শিল্প বিপ্লব কোন আকস্মিক ঘটনা ছিলনা। দীর্ঘদিন আগে থেকেই শিল্পোৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছিল। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এ অগ্রগতির প্রধান দিকগুলো ছিল অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, কৃষি ও শিল্পখাতে উৎপাদন ক্রমশ বৃদ্ধি, বণিক পুঁজির বিকাশ, বিজ্ঞান চর্চায় উন্নতি ও উৎপাদনের কোন কোন ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্যাংক, বীমা এবং স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠা।

ব্রেক্সিট সত্যিকার অর্থেই ব্রিটিশদের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারেনিঃ সারা দুনিয়ায় এখন আলোচনার বিষয় একটিই। আর সেটি হলো ‘ব্রেক্সিট’। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়াকে সংক্ষেপে ব্রেক্সিট বলা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তথা এক্সিট বোঝাতে ব্রেক্সিট শব্দটি ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের আধিক্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়াতে ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি দেখা দেয়। কেননা ইইউ’র নিয়ম অণুযায়ী ইইউভুক্ত ২৮টি দেশের নাগরিক ভিসা ছাড়াই এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ করার কিংবা বাস করার অধিকার রাখে।  তাই ডেভিড ক্যামেরন সরকার ইইউ থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার উপর অর্থাৎ ব্রেক্সিট নিয়ে ২০১৬ সালের ২৩ জুন এক গণভোটের আয়োজন করেন। যাতে ব্রিটিশরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেন। উক্ত গণভোটে ইইউ এর সাথে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদের রায় পাওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ডেভিড ক্যামেরুন। প্রায় ২বছরে বেক্সিট এর ফলে ব্রিটিশ জনগণের উপর তেমন কোন প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি। উলটো ব্রিটেন ক্রমান্বয়ে নিজেদের সেরা প্রমাণ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ব্রিটিশদের ভেতরকার ঐক্য পূর্বের মতই অটুট রয়েছে। এদিকে ব্রেক্সিট আইন অনুমোদন দিয়েছেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। গতকাল মঙ্গলবার ব্রেক্সিট ইস্যুতে রাজকীয় এই সম্মতি দেন ব্রিটেনের রানি।

ব্রিটিশরা সত্যিকার অর্থেই অসাধারণঃ যদি আপনি কখনো সত্যি সত্যি যুক্তরাজ্যে যান এবং একজন ব্রিটিশ এর সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তবে খেয়াল করবেন তারা অবিশ্বাস্য রকমের ভদ্র, কিছুটা মজার প্রকৃতির, সানন্দেই সাহায্য করার প্রবণতা এবং মার্জিত ব্যক্তিত্ব। এটা সত্যি যে, তারা হয়ত আপনাকে তাদের দেশের আবহাওয়া সম্পর্কে বলতে বাধ্য করবে তবে এটা তাদের ব্যবহারের তুলনায় এমন কিছুই নয়। যদিও তারা খুব সৎ, কিন্তু তাদের মজার অনুচ্ছেদটি কিছুটা অযৌক্তিক। এলকোহল গ্রহণের ফলে ব্রিটিশদের সৃষ্ট সহিংসতা তুলনামুলকভাবে অনেক কমে এসেছে।  পৃথিবীর এমন কোন জাতি নেই যারা সত্যিকার অর্থেই খাঁটি, কোননা কোনভাবে তারা সমস্যায় জর্জরিত, হয়ত তাদের সরকার উন্নতি করছে। কিন্তু আধুনিক ব্রিটেন সত্যিকার অর্থেই বেশ ভাল অবস্থানে আছে যা তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বেশ প্রসার করেছে।

 

ব্রিটিশ সংস্কৃতি দ্বিতীয়টি আর নেইঃ

ব্রিটিশ প্রযুক্তি বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়ঃ

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

মরুভূমিতে জাহাজের সমাধিক্ষেত্র !

Abdullah-Al-Mahmood Showrav

চেরনোবিল – অজানা মৃত্যুর শহর (প্রথম পর্ব)

Abdullah-Al-Mahmood Showrav

বিশ্বের সেরা কয়েকটি Animal Robot

Kongkon KS

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: