• Home
  • প্রযুক্তি
  • যে ১০টি সাধারণ মানের অস্ত্র যা সময়ে প্রাণঘাতী হয়ে উঠে
প্রযুক্তি

যে ১০টি সাধারণ মানের অস্ত্র যা সময়ে প্রাণঘাতী হয়ে উঠে

আইন শৃঙ্খলার কাজে ব্যবহারের নিমিত্তে এ পর্যন্ত উদ্ভাবিত সাধারণ মানের অস্ত্রগুলোকে ভয়ংকর কিংবা মরণঘাতী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এর পরও কখনো কখনো এসব সাধারণ মানের অস্ত্রগুলি অসাধারন হয়ে উঠে তাদের তড়িৎ কার্যকারিতায়। অস্ত্র উদ্ভাবক ও সমালোচকদের মধ্যে কম মারাত্মক ও অমারাত্মক অস্ত্রের বিষয় নিয়ে প্রবল বিতর্ক আছে। এসব কম মারাত্মক (less-lethal) ও অমারাত্মক (non-lethal) অস্ত্র তৈরি করা হয় এর মানুষ হত্যা করার ক্ষমতাকে অক্ষম করে রেখে। চলুন জেনে নিই এমন কিছু অস্ত্র সম্পর্কে যেগুলো প্রাণঘাতী না হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।

সাউন্ড গ্রানেডঃ সাউন্ড গ্রেনেড বর্তমান সময়ে আলোচিত বিষয় যা গ্রেনেড দাঙ্গা দমনের সবচেয়ে কার্যকর ও কাঙ্ক্ষিত বস্তু। এটিকে ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেডও বলা হয়। যুদ্ধ ক্ষেত্রে বিপদের সময় প্রতিপক্ষকে আচমকা হতভম্ব করে দিতেই এই গ্রেনেড টি লঞ্চ করা হয়েছিল। বিকট শব্দে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য সাউন্ড গ্রেনেড বেশ কার্যকরী। সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দকে অনেকে বড় ধরনের ভারী অস্ত্রের ব্যবহার মনে করে। সাউণ্ড গ্রেনেড ব্যবহারে প্রাণহানির নুন্যতম সম্ভাবনাও নেই। সাউন্ড গ্রেনেডে ধোঁয়াও তেমন হয় না এবং ব্যবহারও সহজ। কেবল গ্রেনেডের মুখে থাকা পিন খুলে ছুড়ে মারলেই হয়। মুহূর্তেই উক্ত এলাকা প্রবল শব্দে প্রকম্পিত হয়। সাউন্ড গ্রেনেডে কোন ধাতব টুকরা ব্যবহার করা হয়না, তাই নিকটবর্তী স্থানে তা বিস্ফোরিত হলেও প্রাণঘাতীর কোন সম্ভাবনা থাকেনা। এটি দেখতে একটি আসল গ্রেনেডের মতই যাতে সকল উপকরণ থাকে কেবল প্রাণঘাতী ধাতব পদার্থ ছাড়া। মূলত এটি ব্যবহার করা হয় ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং নিরাপত্তার জন্য, কাউকে আহত কিংবা নিহত করার উদ্দেশ্যে নয়। তবে বিকট শব্দের কারণে কানে বধিরতা দেখা দিতে পারে এবং দীর্ঘ মেয়াদে শরীরেও ক্ষতিসাধন হতে পারে। তাছাড়া  বিস্ফোরণ কালে এই শক্ত পাতটি যদি কোন পলায়ন পর ব্যক্তির চোখে, কানে, মাথায়, অণ্ডকোষ কিংবা হৃৎপিণ্ডের উপরে আঘাত করে তবে সে ক্ষেত্রে তার মৃত্যু ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

ওয়াটার ক্যাননঃ ওয়াটার ক্যানন বলতে এখানে আমরা পুলিশ রায়টের ব্যাবহত জল যানের কথা বুজাচ্ছি। এই জলযানে যুক্ত থাকে বিশাল আকারের পানির ট্যাংক এবং বেশ শক্তিশালী পাম্প ও পাইপ। দেখতে সাদামাঠা হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি হয়ে উঠে আতংকের কারণ। বিশেষ করে এটি ব্যবহার করা হয় অনাকাঙ্কিত জটলা, সভা-সমাবেশ এবং মানব ব্যরিকেড ছত্রভঙ্গ করতে। এই রায়ট থেকে উচ্চ ক্ষমতার জল কামান এর মাধ্যমে যখন মানুষের গায়ে পানি ছিটানো হয় তখন তার সামনে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক কিংবা শক্তিশালী মানুষ ও ধরাশায়ী হয়ে পড়ে।  অষ্ট্রিয়া ভিত্তিক রোজেন বাওয়ার গ্রুপ পৃথিবীর ৩টি বড় কোম্পানির একটা যারা ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশের জন্য জলযান তৈরি করে থাকে। কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৬৬সালে, শুরুতে কেবল ফায়ার সার্ভিস এর জন্য বিভিন্ন বাহন তৈরি করলেও বর্তমানে পুলিশের জন্য তারা আধুনিক জল যান তৈরি করছে। এদিকে সময়ের সাথে সাথে এসব জলযান তৈরিতে এসেছে নতুনত্ব, এমনও অনেক জলযান আছে যেগুলো থেকে গরম পানি কিংবা রঙ মেশানো ছিটানো হয়। আর এসব জল যানের পানি ছিটানোর ক্ষমতা এতই শক্তিশালী যে অনেক ক্ষেত্রে পানির গতিতে টিকে থাকতে না পেরে অনেক মানুষই মৃত্যুবরণ করেছেন।

টিয়ার গ্যাসঃ এই জিনিসটির সাথে পরিচিত নন কিংবা নাম আগে শুনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সাধারণত দাঙ্গা পুলিশ এবং পুলিশের বিশেষ শাখা এই টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন। দাঙ্গা দমন কিংবা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ পণ্ড করতে পুলিশ এই গ্যাস ব্যবহার করে থাকে। মূলত এই গ্যাস শেল আকারে থাকে এবং যখন তা বিশেষ গান দিয়ে ছোড়া হয় তখন তা থেকে নির্গত গ্যাস ধোঁয়া আকারে বের হয়ে তার কার্যকারিতা শুরু করে দেয়। টিয়ার গ্যাস এর অপর নাম কাঁদানো গ্যাস যার প্রচলন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে আগে শুরু হয়। সর্বপ্রথম ১৯২৮ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী বেন করসন এবং রজার স্টাউটন CS গ্যাসের সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন। একটি নির্দিষ্ট গ্যাসের নাম টিয়ার গ্যাস নয়, বরং কয়েকটি গ্যাসের একত্রিত রূপ হচ্ছে এই টিয়ার গ্যাস। এই টিয়ার গ্যাস তৈরি হয় অনেকগুলো মিহি গুঁড়া পাউডার (এতে ক্ষার জাতীয় পদার্থের উপস্থিতি থাকে) এবং তরল রাসায়নিক পদার্থের সমন্বয়ে। এই টিয়ার গ্যাস ব্যাবহারের ফলে মানুষের চোখের স্নায়ুগুলোকে সাময়িক সময়ের জন্যে, সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিটের জন্যে অক্ষম করে দিতে পারে। এর প্রভাবে চোখে প্রচণ্ড জ্বালা যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়। রাসায়নিক পদার্থ ওসি, সিএস, সিআর, সিএন বা ফিনাসিল ক্লোরাইড, ননিভ্যামাইড, ব্রোমোয়াসিটন, জাইলিল ব্রোমাইড, পেঁয়াজ থেকে সংগৃহীত সাইন-প্রোপ্যানেথিয়াল-এস-অক্সাইড যৌগের সমন্বয়ে টিয়ার গ্যাস তৈরী করা হয়। টিয়ার গ্যাসের কার্যক্ষমতার উপর নির্ভর করে এর কয়েকটি ভাগ করা যায়। এগুলো হচ্ছেঃ CS, CS1, CS2।  CS থেকে CS1 এবং CS2 অধিক ঘন হয়। এই গ্যাসের প্রভাবে সাময়িক সময়ের জন্যে চোখ, নাক, মুক, ফুসফুস সহ কিছু অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। অনেক সময় এসবের কারণে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই সাধারণত এটিকে প্রাণঘাতী মনে না হলেও কার্যক্ষেত্রে তা প্রাণ বিনাশে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ট্যাশারসঃ এটি দেখতে অনেকটাই গান প্রকৃতির যা থেকে ছোড়া তারের মাধ্যমে একটি ইলেকট্রিক শক সৃষ্টি করে। এর অন্য আরেক নাম স্টানগান।  “প্রোটেক্ট লাইফ” মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত টেসার কোম্পানি প্রথম বাজারে নিয়ে আসে এই যন্ত্র। এই যন্ত্র মূলত দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, ১০০ মিটার পর্যন্ত নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে শকওয়েভ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গাড়িতে লাগিয়েও এই যন্ত্র ব্যবহার করা যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা ঠেকাতে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর লোকেরা ব্যাপকভাবে এই ট্যাশার গান ব্যবহার ব্যবহার করে থাকে। দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়িয়ে পড়া লোকজনকে ঘায়েল করতে পুলিশ এই ট্যাশার গানের মাধ্যমে ভয়াবহ ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে থাকে যাতে ঐ ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়তে খুব একটা সময় নেয়না। এমনকি বিশাল এলাকা ঘিরে ইলেক্ট্রিক ওয়েভ পাঠিয়ে দিয়ে একজায়গায় জড়ো হওয়া লোকজনদের সবাইকেই শক দেওয়া সম্ভব হয়। সাম্প্রতিক সময়ে টেসার কোম্পানি বিভিন্ন ধরণের স্টান গান, শটগান বাজারে নিয়ে এসেছে, যার সাহায্যে সহজেই শত্রুকে ভূপাতিত করা যায়। লোকজনকে মৃত্যুর স্বাদ দিতে না পারলেও বেশ বড়সড় একটি ধাক্কা দিতে এই যন্ত্রের জুড়ি মেলা ভার।

দ্য অ্যাকটিভ ডিনায়েল সিস্টেমঃ মার্কিন সেনাবাহিনীই উদ্ভাবন করেছে ‘অ্যাক্টিভ ডিনায়েল সিস্টেম’ যাকে সংক্ষেপে ADS বলা হয়ে থাকে। এর অপর নাম people zapper। যুক্তরাষ্ট্রের “রে গান” হিসেবে পরিচিত এই এডিএস কোনো মারণাস্ত্র নয়, তবে কার্যক্ষেত্রে তা মরণের চেয়েও ভয়ংকর কিছু। রাডার অ্যারে আর মাইক্রোওয়েভের কম্বিনেশনে তৈরি এই যন্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিশেষ ব্যবহারের জন্য তৈরি করে রেথিওন কোম্পানি। এই ADS বা পিপল জেপার মানুষের ওপর এক ধরনের মাইক্রোওয়েভ বিম বা ক্ষুদ্র তরঙ্গের রশ্মি ফেলে শরীরের কোনো ক্ষতিসাধন না করেই ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। এডিএস শত্রুর দিকে তাক করা অবস্থায় মাইক্রোওয়েভের চেয়ে সামান্য কম তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ ছুড়ে মাড়লে শত্রু পক্ষের শরীরের ত্বকের উপরের স্তর শুষে নিয়ে তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে। মনে হবে যেন চামড়ার উপরে কেউ জ্বলন্ত টিউবলাইট চেপে ধরে রেখেছে। ৭০০ মিটার দূর থেকে এই তরঙ্গ ছোড়া গেলেও এটি যদি ৫ সেকেন্ডের বেশি কার্যকর হয় তবে ক্রিয়ার ফলে শরীরের চামড়া পুড়ে যেতে পারে। ফলে এটিকে অনেকেই “দ্য গুডবাই ওয়েপন” বলেও আখ্যায়িত করে! এটি ব্যবহারে যে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয় তা সাধারণ মানুষের উপর প্রয়োগে ইতিমধ্যে ব্যপক সমালোচিত হয়েছে মার্কিন সামরিকবাহিনী। আফগানিস্তানের যুদ্ধে তালেবান ও আলকায়েদার বিরুদ্ধে এর ব্যবহার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

থান্ডার জেনারেটরঃ নামেই বোঝা যায় এটি “বজ্র উৎপাদনকারী” কোন যন্ত্র হবে। এই যন্ত্রটি মূলত বজ্রপাতের মত কানফাটানো শব্দ উৎপাদন করে। শুরুতে পাখি তাড়ানোর জন্য আবিষ্কার করা হলেও যন্ত্রটি বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে মানুষ তাড়ানোর কাজে। তরল পেট্রোলিয়াম, জ্বালানি গ্যাস এবং বাতাসের সাহায্যে তৈরি এই যন্ত্র দেখতে অসাধারণ কিছু মনে না হলেও শত্রুকে নিজ এলাকা বা সীমানা থেকে দূরে রাখতে যথেষ্ট কার্যকরী। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় এটি ব্যবহার করছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সীমান্ত রক্ষাকারীবাহিনী। ইজরাইল ব্যাপক হারে এই যন্ত্রটি ব্যবহার করে তাদের সীমান্তবর্তী এলাকায়। তাদের সীমান্তে এই যন্ত্রটির দেখা মিলবে খুব সহজেই। দূর নিয়ন্ত্রিত এই যন্ত্রটি ব্যবহারে ৫০ মিটার এলাকা পর্যন্ত কাভার করতে পারে। যন্ত্রটির ব্যবহারে তার আওতায় যদি কেউ থাকে তবে সে বধির হয়ে যেতে পারে এমনকি ১০ মিটার দূরুত্বে থাকলে তার মৃত্যুও পর্যন্ত ঘটতে পারে!

পিপার স্প্রেঃ আন্তর্জাতিকভাবে পিপার স্প্রেকে ওলেওরেসিন ক্যাপসিকাম বা সংক্ষেপে ওসি গ্যাস বলা হয়। ‘পেনাসাইল ক্লোরাইড’ নামক এক জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ থেকেই তৈরি হয় এই পিপার স্প্রে। এটি চোখের সংস্পর্শে আসলে মুহূর্তের মধ্যেই চোখে জ্বালাপোড়া শুরু করবে এবং চোখ দিয়ে পানি ঝরবে সঙ্গে গোটা শরীরেই এর প্রভাব পড়বে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ তরল ব্যবহার করে থাকলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মেডিকেল গবেষণায় পিপার স্প্রেকে ক্ষতিকর আত্মরক্ষার অস্ত্র হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। সে সব গবেষণায় উঠে এসেছে এই তরল ব্যবহারে মৃত্যু ঝুঁকির বিষয়টিও। ফলে বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত পিপার স্প্রের বোতলের গায়ে থাকা নির্দেশিকায় উল্লেখ করা থাকে ‘পাগলা কুকুর ও ভয়ঙ্কর জীবজন্তু থেকে আত্মরক্ষার জন্যই এটি ব্যবহার করা যাবে’। সুতরাং যে কেউ চাইলেই তা কিনতে পারবেন না।  কেমিক্যাল ওয়েপন কনভেনশনের ১.৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যুদ্ধে প্রতিপক্ষ দমনেও এই পিপার সেপ্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদিও অনেক ক্ষেত্রে সে নিষেধাজ্ঞার ব্যত্তয় ঘটিয়ে তার প্রয়োগ ঘটে। বর্তমান সময়ে সভা-সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যপকভাবে এই পিপার স্প্রে ব্যবহার করছেন।

রাবার বুলেটঃ রাবার বুলেটকে প্রাণঘাতী বলা না হলেও সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে এই অস্ত্রটি তার এই সুনাম হারিয়ে ফেলেছে। সাধারণত দাঙ্গা দমন ও সভা-সমাবেশ ভণ্ডুল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাবার বুলেট ব্যবহার করে থাকে। এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করার কারণ হচ্ছে এটি প্রাণঘাতী নয়। যদিও অপরাধী কিংবা যার উপর এটি প্রয়োগ করা হয় সে যথেষ্ট আক্রান্ত হয় কিন্তু মৃত্যুবরণ করেনা। রাবার বুলেট ব্যবহার হয়েছে এমন কিছু ঘটনার দিকে তাকালে আমরা দেখি যে, এটির দ্বারা মানুষ বেশ আক্রান্ত হয়। পিট ঝাঁজরা হয়ে যায় কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশ মারাত্মক জখম প্রাপ্ত হয়। রাবার বুলেটের আঘাতে মৃত্যুর ঘটনাও নেহায়েত কম নয়। সুতরাং বিভিন্ন সহিংসতা দমনে যে হারে পুলিশ কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক হারে রাবার বুলেট ব্যাবহার করছে তাতে এটি এখন প্রাণঘাতী হিসেবে রুপ ধারণ করেছে।

ব্যাটনঃ পুলিশের ব্যবহার করা লাঠিকে ব্যাটন বলা হয় আর তা তৈরি হয় বিশেষ পদ্ধতিতে।পুলিশের এখন উন্নতমানের বাটন ব্যবহার করছে যা রাবার ও ফাইবারের সংমিশ্রণে তৈরি। এসব ব্যাটনগুলো আবার বিভিন ধরণের হয়ে থাকে যার মধ্যে আছে, টেলিস্কোপিক ব্যাটন, নাইলন ব্যাটন, থ্রিটিয়ার্ড ব্যাটন, স্পাইক ব্যাটন, সাইড হ্যান্ডেল ব্যাটন ও এক্সপান্ডেবল ব্যাটন। এসব ব্যাটনগুলো টেকসই, ওজনে হালকা, বহনে ও ব্যবহারে সুবিধাজনক ফলে পুলিশের জন্য বেশ কার্যকর। পুলিশবাহিনীর সর্বাধিক ব্যবহৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে এই ব্যাটনও। রিমান্ডের আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ, বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিচার্জসহ নানা ধরনের নাশকতা দমাতে আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ব্যাটন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পুলিশের সর্বস্তরের সদস্যের জন্য ব্যাটন বরাদ্ধ থাকে। এটা পুলিশের ক্ষেত্রে এক ধরনের ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির এই ব্যাটন  ব্যবহারে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এরপরও ব্যাটনের আঘাতে মৃত্যুর হার পৃথিবীতে কম নয়। অপরাধী ও আইন ভঙ্গকারীদের জন্য ব্যাটন একটি আতঙ্কের বস্তু। যা অনেক ক্ষেত্রে আগ্নেয়ান্ত্র ব্যবহারের চেয়েও দাঙ্গা দমনে ব্যাটন অধিক কার্যকর হয়ে ওঠে।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

“শাওমি রেডমি নোট 4X”- বেস্ট বাজেট স্মারটফোন?

Nafiz Zaman

চার্জ নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর করবে ডায়মন্ড ব্যাটারি

SRA

Wi-Fi কে হটিয়ে যখন Li-Fi

Abid Pritom

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: