আন্তর্জাতিক

নয়া বিশ্বব্যবস্থার স্বরূপ

দ্বি-মেরুভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থা ভেঙ্গে যাবার ফলে, এখন কোন ধরণের বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে উঠছে এ ব্যপারে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে বিশ্ব রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে এবং দ্বিতীয় কোন বৃহৎ শক্তি না থাকায় বিশ্ব রাজনীতিকে নিজের ইচ্ছানুযায়ী পরিচালনা করবে। সাময়িকভাবে হয়তো এর পেছনে সত্যতা আছে। কিন্তু গভীরভাবে দেখলে দেখা যাবে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন আর এককভাবে বিশ্বরাজনীতির নিয়ন্ত্রক নয়। বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রভাব বিস্তার করছে সত্য, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি, ইউ, জাপান, রাশিয়া এবং চীনের ভূমিকাও বাড়ছে। ১৯৯৪ সাল থেকে ইউরোপে অভিন্ন ইউরোপের ধারণা কার্যকর হতে শুরু করেছে। ম্যাসট্রিষ্ট চুক্তির ফলে ১৯৯৭সালে ইউরোপ রাজনৈতিকভাবে এক হয়েছে। ১৯৯৯ সালের ১জানুয়ারি থেকে একক ইউরোপীয় মুদ্রা চালু হয়েছে। এক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থনৈতিক একটা শক্তি হিসেবে বিশ্ব রাজনীতিতে আবির্ভূত হচ্ছে।

তবে একটা বিষয় লক্ষনীয় যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিবর্তন ঘটলে, তা ইউরোপের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে। এদিকে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থান এবং তার ঘোষিত নীতি যদি তিনি কার্যকর করার উদ্যোগ নেন, তা বিশ্বে এক বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সম্পর্কের ব্যাপারে তিনি যেসব প্রস্তাব করেছেন বা দিয়েছেন, তা যদি তিনি কার্যকর করেন, তাহলে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে। এদিকে বদলাতে শুরু করেছে ইউরোপের রাজনীতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় সেখানে এক ধরনের শ্বেতাঙ্গ উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্ম দিয়েছিল। আর এখন তার ঢেউ এসে লেগেছে ইউরোপে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় ইউরোপের উন্নয়নের দায়িত্বভার ইউরোপীয়দের হাতেই থেকে যাবে। এমনকি রাশিয়ার উন্নয়নে এরা একটা গ্রহণযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। যার অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু উত্তর আমেরিকায় ও ল্যাতিন আমেরিকায় তার ভূমিকাকে সীমাবদ্ধ করে রাখবে। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতেও ইউরোপ তথা যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা হবে সীমিত। এক্ষেত্রে এ অঞ্চলে জাপান ও চীনের ভূমিকা বাড়বে। জাপান এখন বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি। বিভিন্ন দেশে জাপানি পুঁজি বিনিয়োগ হয়েছে। জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে জাপানের ভূমিকা বাড়ছে। জাপান নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হতেও চায়। ফলে নয়া বিশ্ব ব্যবস্থায় জাপান হবে অন্যতম একটি শক্তি। অন্যদিকে চীন আগামী শতাব্দীর আগেই অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। তাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার এখন অনেক বেশি। উপরন্তু জনবলের কারণে চীন একটি বৃহৎ শক্তি হিসেবেই গণ্য হবে। তবে বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের অভিজ্ঞতা কম। চীন যে ধ্রুপদী সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে থাকছেনা, এ ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত নেই। চীনে যতদিন সেনাবাহিনী কমিউনিস্ট পার্টির পেছনে তাদের সমর্থন অব্যহত রাখবে ততদিন পার্টি ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে। সেনাবাহিনী সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে চীনের অবস্থা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মতোও হতে পারে। তবে চীন একটা উঠতি শক্তি, বিশ্ব ব্যবস্থায় তাদের অস্বীকার করার সুযোগ নেই। চীনের পরে আসে ভারতের প্রশ্ন। ভারত এ অঞ্চলের অন্যতম আঞ্চলিক শক্তি। উপরন্তু ভারত পারমাণবিক শক্তির অধিকারী। শিল্প উৎপাদনের দিক দিয়ে ভারতের অবস্থান সপ্তম। প্রযুক্তির দিক দিয়েও ভারত অনেকটাই এগিয়েছে। এক ধরণের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও রয়েছে সেখানে। ভারত আগামী দিনে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর উপরে তার প্রভাব অব্যাহত রাখবে। ভারত নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের জন্যও দাবী করেছে। ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার ভুমিকাও আগামী দিনে লক্ষ্য করার মতো। একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে যা যা দরকার এর সবি দক্ষিণ আফ্রিকার রয়েছে। দীর্ঘদিন দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল বিশ্ব রাজনীতিতে একরকম বহিষ্কৃত। এখন বর্ণবাদের সেখানে অবসান হয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ কারীরা দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ দেখিয়েছে। ইতিমধ্যে চীন ব্যাপকভাবে এ অঞ্চলে তার বিনিয়োগ করছে। সুতরাং অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব ব্যবস্থার পরিবর্তন যে অবিসম্ভ্যাবি তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

রাশিয়া ব্যর্থ আমেরিকাকে থামাতে

MP Comrade

তিস্তা চুক্তি ও তার পানি বণ্টন প্রশ্ন!

MP Comrade

চীন সুপার পাওয়ারে পরিণত হলে ১০টি উপায়ে ঘটবে বিশ্বের পরিবর্তন

MP Comrade

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: