Now Reading
পৃথিবীর সেরা ১০টি দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইওভার



পৃথিবীর সেরা ১০টি দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইওভার

ফ্লাইওভার ছাড়া একটি আধুনিক শহর কল্পনা করা বর্তমানে প্রায় অসাধ্য। পৃথিবীর ছোট বড় প্রায় প্রতিটি আধুনিক শহরে ফ্লাইওভার আছে। চলুন জেনে নিই পৃথিবীর সেরা ১০টি দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইওভার সম্পর্কে।

 

 ১০. ফ্লাইওভার ইন ফ্লোরিডাঃ আধুনিক ফ্লাইওভার এর কথা উঠলে সামনে চলে আসে আমেরিকার নাম, কেননা পৃথিবীর প্রায় বড় সবকটি ফ্লাইওভারই এখানে। ফ্লোরিডা হচ্ছে আমেরিকার সবচেয়ে বড় শহর। এখানকার ফ্লাইওভারটি শহরের যানবাহন চলাচলের ভারী নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করছে।

০৯. ডালাস ফ্লাইওভারঃ বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে প্যাঁচানো ফ্লাইওভারটি টেক্সাসে। ১০টি হাইওয়ে এসে নিজেদের মাঝে ইন্টারচেঞ্জ করেছে এই প্যাচানো ফ্লাই ওভারের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ফ্লাইওভার এর মধ্যে টেক্সাসের ডালাস ফ্লাইওভারটি অন্যতম। এই ফ্লাইওভার তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র সকারের খরচ হয়েছে প্রায় ২৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৫ সালে এটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ফ্লাইওভারটি এতো বড় যে এটির ওপর দিয়ে একশাথে প্রায় ৫ লক্ষের মতো গাড়ি চলাচল করতে পারে। অবাক করা হলেও সত্য যে এই সেতুটি ১২ তলার মতো উঁচু যা আলাদা আলাদা ৩৭ টি সেতু একত্র করে তৈরি হয়েছে। এটি এতো আধুনিক রুপে তৈরি করা হয়েছে যে,  যে কেউ এই সেতুর কাছে আসলে অবাক নয়নে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য।

 

০৮. লস এঞ্জেল ফ্লাইওভারঃ লস এঞ্জেল ফ্লাইওভারটি ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান শহর লস অ্যাঞ্জেলসে অবস্থিত, যেখানে সমতল ও পাহাড় উভয়ের সম্মিলন ঘটেছে। আর এখানেই শহরের উথাল ট্রাফিক চাপ সামলাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে এই ফ্লাইওভারটি। এই সিটির সবচেয়ে উঁচু পয়েন্টটির উচ্চতা ৫,০৮০ফিট  যা সান ফার্নান্দো ভ্যালির উত্তরপূর্বাঞ্চলের শেষের দিকে।

০৭. সাংহাই ফ্লাইওভারঃ পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর এবং বৃহত্তম ফ্লাইওভার হচ্ছে চিনের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সাংহাই শহরের সাংহাই ফ্লাইওভার। পৃথিবীর ব্যস্ততম এই শহরের যানজট নিরসনে পর্যায়ক্রমে এটি তৈরি করা হয়েছে। ফ্লাইওভারটি এতোটাই বড় যে এর ওপর দিয়ে একই সময়ে প্রায় ৫০ হাজারের মতো গাড়ি চলতে পারে। সাংহাই শহরের নিত্য-নৈমিত্য যানজটের চিত্র এবং শহরের সৌন্দর্য এই দুই-ই পরিবর্তন করে দিয়েছে এই ফ্লাইওভারটি। যদিও নির্মাণের শুরুতে পৃথিবীর অন্যতম ব্যাস্ত এই ফ্লাইওভারটি তৈরিতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। পরবর্তীতে অনেকগুলি উড়াল সেতু একত্র করে তৈরি করা হয় এই ফ্লাইওভার।

০৬. হেব্বাল ফ্লাইওভারঃ যানজটের কবলে নাকাল ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলি যা সত্যিই করুন। এই যানজট নিরসনে ভারত অনেক ফ্লাইওভার বানিয়েছে, এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেঙ্গালুরুর হেব্বাল ফ্লাইওভার। ফ্লাইওভারটির দৈর্ঘ্য ৫.১৫ কিলোমিটার এবং এটি তৈরি করতে প্রাই ২০ একরের মতো জমি দরকার হয়েছে। এই ফ্লাইওভারটি বিশ্বের সেরা ১০ টি ফ্লাইওভারের মধ্যে একটি হিসেবে স্থান পেয়েছে। এটির মোট বাঁকের সংখ্যা ৫টি এবং লেন হচ্ছে মোট ৬টি। এই ৬টি লেন দিয়ে একসঙ্গে গাড়ি চলতে পারে। বহিরবিশ্বে এটির ডাবল লেন ফ্লাইওভার হিসেবেও অনেক সুনাম রয়েছে। সর্বোপরি ফ্লাইওভারটি অনেকই সুন্দর।

০৫. মিল্লাউ ভিয়াডাক্টঃ ফ্রান্সের ৪ লেন বিশিষ্ট এই ফ্লাইওভারটি পৃথিবীর টলেস্ট ফ্লাইওভারগুলির মধ্যে অন্যতম। রাস্তা ও রেলপথ উভয় মাধ্যমে দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি দিয়ে প্যারিস থেকে Béziers এবং Montpellier এর সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। ফ্লাইওভারটির নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০০মিলিয়ন ইউরো। এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ২০০৪ সালের ১৪ডিসেম্বর এবং যান চলাচলে উন্মুক্ত হয় তারও দুইদিন পর।

 

০৪. আল ওয়াজেল ফ্লাইওভারঃ ৪লেন বিশিষ্ট মাল্টি টায়ার এই ফ্লাইওভারটি দুবাইতে অবস্থিত। ব্যাস্ততম এই ফ্লাইওভারটি দুবাই এর ট্রাফিক ব্যাবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে।

 

০৩. এয়ারপোর্ট ফ্লাইওভার, ব্রিসবেনঃ ব্রিসবেন বিমানবন্দর টার্মিনাল থেকে সরাসরি এই ফ্লাইওভারের লিংকটি যুক্ত। ২০১০ সালের নভেম্বরের ১ম সপ্তাহে এর পূর্ব লেনটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং পশ্চিম লেনটি উন্মুক্ত করা হয় ২০১১সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি। এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৯ সালের এপ্রিলে আর তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩২৭মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

০২. ব্যাংকক এক্সপ্রেসওয়েঃ এটি থাইল্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইন্তারচেঞ্জ এক্সপ্রেসওয়ে। ফ্লাইওভারটি দিনের চেয়ে রাতেই বেশি সুন্দর হয়ে উঠে এর আলোকসজ্জার কারনে। এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ১৯৮১সালে।

কুরিল ফ্লাইওভার (ছবি কৃতজ্ঞতাঃ সাব্বির আহমেদ)

০১. কুড়িল ফ্লাইওভারঃ ঢাকার কুড়িল মোড়ে, এয়ারপোর্ট সড়ক ও প্রগতি সরণির সংযোগস্থলে,  বাংলাদেশের বৃহত্তম ফ্লাইওভারগুলির মধ্যে অন্যতম। সরকারিভাবে এটি অবশ্য কুড়িল বহুমুখী ফ্লাইওভার নামে পরিচিত। ঢাকার সঙ্গে পূর্বাচল নতুন শহরের সংযোগ স্থাপন, বিমানবন্দর সড়ক ও প্রগতি সরণি সংযোগস্থলের যানজট হ্রাস এবং নগরীর উত্তর-পশ্চিম অংশের পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রথমে এর নির্মাণ ব্যয় ২৫৪ কোটি টাকা ধরা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৩০৬ কোটি টাকা করা হয়। প্রকল্পের পুরো অর্থ রাজউকের নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হয়েছে। ২০১০ সালের ২ মে এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা , ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৪ আগস্ট জনগণের ব্যবহারের জন্য ফ্লাইওভারটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

 

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment