সমসাময়িক চিন্তা

আজব দেশ কা গাজাব ইউটিউবার….

আমার এক প্রিয়ভাজন ইউটিউবারকে দেখলাম তার ভিডিওতে লিজেন্ড মাশরাফি বিন মর্তুজার সাক্ষাৎকার নিলো। ১৮ মিনিটের ওই ভিডিওতে ম্যাশ ছিলো মাত্র ৫ মিনিট, বাকি পুরো সময় জুড়েই ছিলো সে নিজে।

অর্থাৎ, তার নতুন গাড়ি, তার অফিসের চেয়ার কি রং এর, তার সাথে কে ঘুরে, সে কি কি খাবার খায় ইত্যাদি। এক কথায় নিজের শো অফ। যে ৫ মিনিট সে ম্যাশের পাশে বসে ছিলো ওই সময়টাতে তাকে ম্যাশকে কোন মৌলিক প্রশ্ন অথবা কথা বলতেও দেখলাম না। আমি শিউর মাশরাফি ভাবেই নি যে তাকে এতটা হেয় ভাবে একটি ভিডিওতে উপস্থাপন করা হবে।

এই ইউটিউবারকেই আমি কিছুদিন আগে কোন এক প্রথম সারির পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে বলতে দেখেছি- “দুর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের অনেক ইউটিউবারই নিজেদেরকে উপস্থাপন করছেন খুব বাজেভাবে”

তার বক্তব্য যে এভাবে তার নিজের কর্মকাণ্ডের সাথে হুবহু মিলে যাবে তা ভাবিনি। আমাদের ইউটিউবারেরা অন্য দেশের ক্রিকেট/ক্রিকেটার নিয়ে ট্রল ভিডিও বানায়, ডাবিং করে। এতে হয়তো কিছুটা বিনোদন পাওয়া যায়। যদিও এটি উচিত নয়। কিন্তু, নিজের দেশের ক্রিকেট লিজেন্ডদের নিয়ে ভিডিও বানাতে গিয়েও এমন দায়িত্ব জ্ঞানহীন কাজ সত্যিই আমাদের হতাশ করে।

একজন ইউটিউব ভিডিও মেকার চাইলেই ৫-১০ মিনিটের একটি ভিডিও দিয়ে সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরতে পারেন, শিক্ষনীয় মেসেজ দিতে পারেন আমাদের ইয়ুথদের। আবার চাইলেই অশ্লীলতার বীজ বপন করতে পারেন খুব সহজে, সমাজে ছড়িয়ে দিতে পারে নোংরামি।

কিছুদিন আগে এক ভদ্রলোকের রাস্তায় দাঁড়িয়ে গান গাওয়া একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছিলো। সেখানে আমাদের কিউট তরুন-তরুনীরা ওই লোকটিকে ‘গাঞ্জাখোর’, ‘পাগল’, ‘তারছেঁড়া’ ইত্যাদি উল্লেখ করে কমেন্ট/শেয়ার করেছিলো।

সেই লোকটিকেই একজন ইউটিউবার তার চ্যানেলে তুলে এনেছিলো, লোকটি তার গানের মাধ্যমে তুলে ধরেছিলো সমাজের কিছু অসংগতি, বজ্র কন্ঠে গেয়েছিলো নজরুলের ‘বল বীর’। অবাক হয়ে খেয়াল করলাম, তখন আর কেউ লোকটিকে পাগল বললো না! সবাই বাহবা দিলো!

এরাও ইউটিউবার। যারা কর্দমা থেকে তুলে এনে প্রতিভার মূল্যায়ন করে। কিছু কিছু ইউটিউবারের ভিডিও আর হেডলাইনেরই কোন মিল থাকেনা। কেউ কেউ এক ধাপ এগিয়ে ‘১৮+’ লাগিয়ে দেয় হেডলাইনে। আবার কিছু অতি উৎসাহী মেয়ে আছে, এরা জামা-কাপড় খুলে মাঝরাতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে LIVE-এ আসে। এদেরকেই আমাদের সমাজের এক শ্রেনীর তরুণ-তরুনীরা আইডল মানে, তাদের কাছ থেকে নাকি কিছু শেখা যায়!

সম্প্রতি কোন এক ইউটিউবারকে দেখলাম মেয়েদের ফেসবুক ওয়াল থেকে তাদের বানানো ফানি ভিডিও কপি করে এনে তা দিয়ে ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়ে দিয়েছে। মেয়ে গুলোর অনুমতি তো নেয়-ই নি উল্টো সেই ইউটিউব ভিডিওর কারণে এখন ওই মেয়ে গুলোর লাইফ হুমকির মুখে। কিন্তু কে ভাবে সেসব, আমাদের কিউট ইউটিউবারদের দরকার ভিউ। আর তাই অন্যর ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে তার অনুমতি ছাড়া ভিডিও কালেক্ট করে সেসব ভিডিও দিয়ে তারা ভিউ আর সাবস্ক্রাইবার উপার্জন করতে মরিয়া।

তারও আগে দেখা গেছে ঢাকার ব্যাস্ততম রাস্তায় জনৈক ইউটিউবার প্লাস্টিকের সাপ দিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে সেই মুহুর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে ইউটিউবে ছেড়ে দিয়েছিলো। এটি নাকি তাদের ভাষায় প্রাংক!

শুধু তা-ই নয়, রাস্তায় প্রকাশ্য মানুষের সামনে হঠাৎ লুঙ্গি খুলে উলঙ্গ হয়ে যাওয়া, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গী করা কিংবা পুলিশ সেজে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেই মুহুর্তের ভিডিও ধারণ করে ইউটিউবে ছেড়ে দেওয়াকে প্রাংক বলে আমাদের ইউটিউবারেরা।

এদের বেশিরভাগেরই প্রাতিষ্ঠানিক তেমন কোনো শিক্ষা নেই, নেই কোনো ধরনের মিডিয়া রিলেটেড জ্ঞান। দুই একটা ক্যামেরা আছে আর একটি কম্পিউটার আছে, ব্যাস এই নিয়েই হয়ে গেল তাদের ইউটিউব উদ্ধার করার যোগ্যতা। এরাই আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যায় মোটিভেশনাল স্পিচ দিতে।

আমাদের কথিত এই সমস্ত ইউটিউবারদের জ্ঞানের পরিধি আর ব্যক্তিত্ব যে কতটা গভীর তা কিছুদিন আগের একটি ইউটিউব রিলেটেড অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া কর্মকান্ড দেখলেই সহজে বুঝা যায়।

উন্নত দেশের ইউটিউবারদের স্টাইল নকল করে বেশিরভাগ ভিডিও বানায় আমাদের দেশের ইউটিউবারেরা। সব থেকে মজার ব্যাপার হলো তাদের স্টাইল নকল করলেও তাদের বেশিরভাগেরই আইডিয়া কেন যেন নকল করতে চায় না আমাদের দেশের ইউটিউবারেরা। কারণ তারা মনেকরে আইডিয়া নকল করলে তাদের ভিউ আর সাবস্ক্রাইবার কমে যাবে। তাই মানহীন আর অশ্লীল ভিডিও বানিয়ে মুখরোচক খাবারের মত টাইটেল দিয়ে তা ইউটিউবে ছেড়ে দেয়।

এই হলো আমাদের দেশের ইউটিউবারদের অবস্থা।

লিজেন্ডদের মূল্যায়ন বুঝেনা…..

শিক্ষনীয় কোন মেসেজ থাকেনা…..

বস্তাপঁচা ভিডিও বানিয়ে নিজেদের শো-অপ করায় ব্যাস্ত…….

এমন ইউটিউবার দ্বয়কে লইয়া এই জাতি কি করিবে!?

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

সেলফি আসক্তিঃ একটি মানসিক ব্যাধি?

Ferdous Sagar zFs

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি জগত ভাবনা

Muhammod Saikot

কিভাবে অলসতা অদূর করবো ?

nayon kobir

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy