• Home
  • প্রযুক্তি
  • পৃথিবী বিখ্যাত সেরা কিছু “ব্যাটেল ট্যাংক” যাদের সামনের সব বাধাই নস্যি
প্রযুক্তি

পৃথিবী বিখ্যাত সেরা কিছু “ব্যাটেল ট্যাংক” যাদের সামনের সব বাধাই নস্যি

সম্মুখ স্থল যুদ্ধে সামরিক বাহিনীর অন্যতম নির্ভরতা হচ্ছে ওয়ার ট্যাংক। আজকে থাকছে প্রযুক্তির সেরা আবিস্কার তেমনি কিছু আধুনিক মেইন ব্যাটল ট্যাংক এর বিস্তারিত।

Leopard2A7 (Germany): Leopard সিরিজটি সার্ভিসে আসে ১৯৭৯ সালে। Leopard2A7 হচ্ছে modular upgrade package যা বের হয় ২০১০ সালে যেটা ছিল Leopard2A6 এর উন্নত সংস্করণএটাকে প্রধানত তৈরি করা হয়েছিল urban warfare conventional military operation এর জন্য এবং জার্মান আর্মিকে হস্তান্তর করা হয় ২০১৪সালে120 mm  L55 smoothbore Main Gun সংযুক্ত এই ট্যাংকের ওজন 67.5 ton যেখানে ৪ জন ক্রু বসতে পারে। সাথে আরো ২টা Machine Gun আছে যার একটি 12.7 mm ও অন্যটি 7.62 mm এর 1500 hp এর turbocharged diesel engine বিশিষ্ট এই ট্যাংকটি 72 km/h স্পিডে একটানা 450 km পর্যন্ত যেতে সক্ষম। এই  MBT এর আছে  modular armor, তাই  damaged modules গুলো field condition এ সহজেই replace করা যায়। এই ট্যাংকের front-mounted dozer blade আছে যেটা দিয়ে তার পথের সকল বাধা সরিয়ে এগোতে পারে। ২০১১ সালে সৌদি আরব জার্মানির কাছ থেকে ২০০টি Leopard2A7 কিনে নেয়

K2 Black Panther (South Korea):সাউথ কোরিয়ান বিজ্ঞানীদের গবেষণায় ১৯৯৫ সাল থেকে K সিরিজের ট্যাংক তৈরি হচ্ছে আর তৃতীয় প্রজন্মের ট্যাংক K2 Black Panther তৈরি শুরু হয় ২০১৩সালে যা সার্ভিসে আসে ২০১৪তে চীন বা নর্থ কোরিয়ার যে কোন ট্যাংকের চেয়ে এই K2 অনেক উন্নত । নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থায় এখানে আছে Explosive Reactive Armor(ERA) যা আমেরিকান M1A2 Abrams এর সাথে তুলনীয় । ২ টি machine Gun সহ এখানে Main Gun হিসেবে আছে latest 55 caliber এর 120mm smoothbore gun যা দিয়ে সর্বোচ্চ 4km পর্যন্ত ফায়ারিং করা যায় । Autoloader এবং Advance Fire Controller এর সাহায্যে এই ট্যাংক নিজ থেকেই কাছা কাছি দূরতের যে কোন যানবাহন ও তুলনামূলক নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টারকে খুব সহজেই ভুপাতিত করার সামর্থ্য রাখে। শক্তিশালী 1500hp German 4-cycle, 12-cylinder water-cooled diesel Engine চালিত ট্যাংকটির ওজন ৫৫টন আর এর অপারেশনাল রেঞ্জ হচ্ছে ৪৫০কিঃমিঃ। এই ট্যাংকের টেকনলজি ব্যবহার করে তুরস্ক সেনাবাহিনীতে তৈরি হচ্ছে Altay MBT

Challenger 2 (UK): ব্রিটিশদের তৈরী চ্যালেঞ্জার মেইন ব্যাটল ট্যাংক এই ট্যাংকটি সার্ভিসে আসে ১৯৯৮সালে।  প্রধানত Chieftain MBT এর সাথে কম্বাইন্ড করে ব্রিটিশ আর্মির জন্য ট্যাংকটি তৈরি করা হয়েছিলএটি সম্মুখ যুদ্ধে শত্রুদের বেশ ভাল রকমের প্রতিরোধ করে থাকে। বর্তমান সময়ে এটাকে বিশ্বের অন্যতম ভালো ট্যাংক ও সুরক্ষিত ট্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হয় এছাড়াও এই ট্যাংকগুলোর আর্মার বর্তমান সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ট্যাংক আর্মার হিসেবে বিবেচিত হয় এর ফায়ার পাওয়ারও বেশ শক্তিশালী পুরো ট্যাংকটি highly classified ‘Dorchester’ Composite Armor দিয়ে ঢাকাএখানে আছে 120 mm rifled Main Gun যা দিয়ে 4 km দূর পর্যন্ত নিখুঁত ভাবে লক্ষ্যভেদ করা যায় ব্যাকআপ হিসেবে আছে ২টা Machine GunChallenger 2 এর মেশিনারীজ এর সাথে M1A1 Abrams Leclerc MBT এর মিল রয়েছে৪জন ক্রু নিয়ে এটি সর্বোচ্চ 59 km/h ছুটতে পারে আর এর অপারেশনাল রেঞ্জ হচ্ছে ৫৫০কিঃমিঃ। এটি বিখ্যাত তার যান্ত্রিক নির্ভরতার কারনে, এর আছে 1,200 hp এর CV-12 V12 diesel ইঞ্জিনবর্তমানে এটি UK Oman Army তে কমিশনড আছে।

Merkava MK4 (Israel): এই ট্যাংকটি ব্যাবহার করে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোরস। মারকাভা এমকে-৪ এই মডেলের ট্যাংকটির প্রোডাকশন পুরোদমে শুরু হয় ২০০১ সালে, ট্যাংকটি ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোরসের সাথে অপারেশনাল ট্রেনিং এ যোগ দেয় ২০০৩সালে এবং অফিসিয়ালি সার্ভিসে আসে ২০০৪ সালে। ৬৫টন ওজনের এই ট্যাংকটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর সামনের দিকে ১৫০০হর্স পাওয়ারের v-12 ওয়াটার কুল্ড ফ্রন্ট মাউন্টেড ইঞ্জিন আছে যেখানে অন্যান্য দেশ গুলোর ট্যাংকের ইঞ্জিন থাকে পেছনের দিকেআর ঠিক এই কারনেই এই ট্যাংক ক্রুদের সেফটি বহুগুনে বেড়েছেসকল Merkava সিরিজের ট্যাংক গুলো যুদ্ধাবস্থায় মালামাল ও সৈন্য পরিবহনে সক্ষম।অ্যামুনিশন আনলোড অবস্থায় ৮জন পদাতিক সৈন্য বহন করতে পারে এই ট্যাংকMain Gun হিসেবে 120mm smoothbore ছাড়াও ১টি ATGW (Anti-Tank Guided Missiles Weapons) ও ২ টি ৭.৬২mm Machine Gun দিয়ে এই ট্যাংকটি ফাইট করে। এর প্রোটেকশন স্যুটে একটি এডভান্স ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক হুমকি সনাক্তকরণ এবং সতর্কতা ব্যবস্থা রয়েছে। এর সাসপেন্সনে শক্তিশালী হেলিক্যাল স্প্রিং যার কারনে অফ রোডেও ট্যাংকটি সহজেই চলতে পারে। ঘণ্টায় ৬৪কিঃমিঃ গতিতে ছুটতে পারা ট্যাংকটির অপারেশনাল রেঞ্জ হচ্ছে ৫০০কিঃমিঃ। বর্তমানে ইসারাইল প্রায় ৪০০ টার মত এই মডেলের ট্যাংক নিজস্ব প্রয়োজনে তৈরি করেছে যা অন্য কোন দেশে এর চাহিদা থাকলেও এই পর্যন্ত তারা রপ্তানি করেনি।

T-90 MS Tagil (Russia): এই মডেলের ট্যাংকটি রাশিয়ান T90 ব্যাটেল ট্যাংকের ল্যাটেস্ট ভার্সন।৪৮টন ওজন বিশিষ্ট এই ট্যাংককে Tagil  ও বলা হয় যার first revealed  2011এ  পূর্ববর্তী ভার্সনগুলির তুলনায় এটি এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সবচেয়ে মানসম্মত ট্যাংক যেটা বিশ্ব বাজারে কমার্শিয়ালি বেশ জনপ্রিয়। এই পর্যন্ত ৩২০০টির ও বেশি ট্যাংকটি তৈরি হয়েছে। এটিতে দরকারি সকল প্রকার টেকনোলজির উপস্থিতি আছে এবং এটার খরচ সব দিক দিয়ে কম। এর মেইনগান হিসেবে আছে 125-mm high-accuracy smoothbore gun পাশাপাশি ২টি 7.62mm মেশিনগান ও একটি ATGW(anti-tank guided missiles weapon) আছে যার সাহায্যে ৪-৫ কিঃমিঃ এর মধ্যে যে কোন যানবাহন এমনকি নীচ দিয়ে উড়ে যাওয়া হেলিকপ্টার ধ্বংস করতে পারে অনায়াসেই। ১১৩০হর্স পাওয়ারের new V-92S2F turbocharged diesel engine বিশিষ্ট এই ট্যাংকটির ম্যাক্সিমাম রোড স্পিড ঘণ্টায় ৭২কিঃমিঃ আর রেঞ্জ হচ্ছে ৫৫০কিঃমিঃ। এটি পানির ভেতর দিয়ে ৫ মিটার গভীরতায় খুব সহজে চলাফেরা করতে পারে । বর্তমানে এই ট্যাংক গুলো ব্যাবহার করছে রাশিয়া , ভারত, আলজেরিয়া, আজারবাইন, তুর্কিমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী।

M1A2 Abrams (USA): পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা ট্যাংক গুলোর একটি ।১৯৭৯ সালে তৈরি হওয়া এবং ১৯৮০ সালে সার্ভিসে আসে এই ট্যাংক গুলোর নাম করন করা হয়েছিল General Greigton Abrams আর ট্যাংকটি ১৯৯২সাল থেকে একটিভ । এই ট্যাংক বর্তমানে USA, Kuwait, Saudi Arabia এই তিনটি দেশের সামরিক বাহিনী অপারেট করে এবং বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায় খুব শীঘ্রই আরো কয়েকটি দেশ তাদের সামরিক বহরে ট্যাংকটি যুক্ত করবে। M1A2 সুরক্ষা ব্যবস্থায় ইউরেনিয়াম মেশ ব্যবহার করা হয়েছে যেটা তাকে নিরাপদ করে তুলেছেকিন্তু যেসব M1A2 কুয়েত ও সৌদি সেনা বাহিনীতে রপ্তানি করা হয়েছে সেগুলোতে এই ইউরেনিয়াম মেশ দেওয়া হয়নিহান্টার কিলার সিরিজের এই ট্যাংকটিতে রয়েছে ১টি 120 mm smoothbore Main Gun, ১টি .৫০ক্যালিবারের 12.7mm Machine Gun এবং 7.62mm এর ২টি মেশিনগান 1500 hp multi fuel gas terbain ইঞ্জিনের এই ট্যাংকটির ওজন 62.5 ton ৪ জন ক্রু নিয়ে সর্বোচ্চ 72 km/h স্পিডে একটানা 426 km পর্যন্ত যেতে পারে । কিছু কিছু M1A2 তে লেজার গাইডেড মিসাইল গুলোকে সনাক্ত ও তাদের নেটওয়ার্ককে জ্যাম করার ব্যবস্থা থাকে ।এই ট্যাংক বিখ্যাত তার নিখুঁত লক্ষ্যভেদ,বিধ্বংসী ফায়ার পাওয়ার,নিজস্ব বর্ম ব্যবস্থা আর সহজ ম্যানুভারএবিলিটির জন্য । সবচেয়ে আশ্চর্যের খবর হল যে কোন প্রতিকূল পরিবেশে এই ট্যাংকের ইঞ্জিন রিপ্লেসড করা যায় মাত্র ৩০ মিনিটে।

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

যে ৫ টি অ্যাপস ব্যবহার করতে পারেন এই রোযার মাসে

Samad Sadi

“শাওমি রেডমি নোট 4X”- বেস্ট বাজেট স্মারটফোন?

Nafiz Zaman

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে আর নয় ভুগান্তি

rafi Ahmed

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: