• Home
  • সাধারন জ্ঞান
  • কিভাবে পরিচালিত হয় বিশ্ব স্কাউট সংস্থা ও বাংলাদেশ স্কাউটস? (পর্ব-৩)
সাধারন জ্ঞান

কিভাবে পরিচালিত হয় বিশ্ব স্কাউট সংস্থা ও বাংলাদেশ স্কাউটস? (পর্ব-৩)

স্কাউটিং কোনো পেশা নয় আবার নেশাও নয়, স্কাউটিং মানবতার প্রতীক। আজকের পর্ব- বিশ্ব স্কাউট সংস্থা ও বাংলাদেশ স্কাউটস এর কার্যক্রম সম্পর্কে। চলুন শুরুতেই বিশ্ব স্কাউট সংস্থা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা লাভ করি।

WOSM

বিশ্ব স্কাউট সংস্থা বা WORLD ORGANIZATION OF SCOUT MOVEMENT সংক্ষেপে WOSM। এটি হচ্ছে সারা বিশ্বে স্কাউটিং এর নীতি নির্ধারণে সর্বচ্চ সংগঠন। বিশ্ব স্কাউট সংস্থা একটি স্বাধীন, অরাজনৈতিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই সংস্থা ওয়ার্ল্ড স্কাউট কনফারেন্স, ওয়ার্ল্ড স্কাউট কমিটি ও ওয়ার্ল্ড স্কাউট ব্যুরো এই ৩টি সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে সারা বিশ্বে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিশ্ব স্কাউট সংস্থার সচিবালয় অর্থাৎ বিশ্ব স্কাউট ব্যুরো কিছুদিন আগ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় থাকলেও বর্তমানে এর হেড কোয়াটার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। যদিও জেনেভায় বিশ্ব স্কাউট সংস্থার লিয়াজো অফিস এখনো আছে। বিশ্বের প্রায় সারে তিন কোটি মানুষ WOSM এর নির্ধারিত স্কাউটিং কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত। WOSM এর বর্তমান সদস্য দেশের সংখ্যা ১৬১টি।  এ সদস্য দেশগুলো নিয়ে গঠিত ৬টি অঞ্চল এর মাধ্যমে বিশ্ব স্কাউট সংস্থা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অঞ্চলগুলি হল- আফ্রিকা রিজিওন, আরব রিজিওন, এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওন, ইউরেশিয়া রিজিওন, ইউরোপ রিজিওন ও ইন্টার-আমেরিকা রিজিওন।

Asia Pacific Scout Region and Bangladesh Scouts

বাংলাদেশ স্কাউটস এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওন এর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ স্কাউটস বাংলাদেশের জাতীয় স্কাউটিং সংস্থা। ১৯৭২ সালের ৮ ও ৯ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশের স্কাউট নেতৃবৃন্দ ঢাকায় সম্মিলিতভাবে গঠন করেন বাংলাদেশ স্কাউট সমিতি। একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ১১১ নং অধ্যাদেশ বলে  উক্ত সমিতি সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৭৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশ স্কাউট সমিতি ১০৫ তম সদস্য হিসেবে বিশ্ব স্কাউট সংস্থার স্বীকৃতি পায়। ১৯৭৮ সালের ১৮ জুন পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল সভায় সমিতির নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ স্কাউটস নামে রাখা হয়। মাত্র ৫৬,৩২৫ জন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ স্কাউটস তার কার্যক্রম শুরু করেছিলো । ১৯৭৮ সালে এর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে সকল স্তরে বিভিন্ন ট্রেনিং ও কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে ১৯৮৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫ লাখে উন্নীত হয়। এরপর বাংলাদেশ স্কাউটস ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে গ্রহণ করে স্ট্রাটেজিক প্ল্যান- 2013। এ প্ল্যানে স্কাউটদের শুধু সংখ্যাবৃদ্ধিই নয়, গুণগত মান অর্জনেরও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়। ৬টি অগ্রাধিকার ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভলেন্টিয়ার লিডার ও স্কাউটারবৃন্দ সমন্বিতভাবে ২০১৩ সালের মধ্যে ১৫ লক্ষ স্কাউট তৈরির চেষ্টা করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে ২০১৩ সালের মধ্যে স্কাউটের সংখ্যা দাড়ায় ১২,৮৫,৬০৭ জন যা বাংলাদেশকে বিশ্ব স্কাউট সংস্থায় ৫ম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

Chief Scout of Bangladesh

বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পরিষদ হচ্ছে জাতীয় স্কাউট কাউন্সিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও চিফ স্কাউট এ কাউন্সিলের প্রধান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বর্তমানে এই পদে আসীন। জাতীয় স্কাউট কাউন্সিলের সভা প্রতিবছর তার সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয় আর প্রতি তৃতীয় বছর অন্তর অন্তর এই সভার মধ্য দিয়ে প্রধান জাতীয় কমিশনার ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। প্রধান জাতীয় কমিশনার হচ্ছেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান নির্বাহী, তিনি ছাড়াও রয়েছেন ১৫ জন জাতীয় কমিশনার এবং ৩০ জন জাতীয় উপ-কমিশনার।

এছাড়াও দেশব্যাপি স্কাউট আন্দোলনের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত প্রায় ৫০ জন স্কাউট এক্সিকিউটিভ রয়েছেন। বাংলাদেশ স্কাউটসের যাবতীয় কার্যক্রম, যথা: নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, মনিটরিং, মূল্যায়ন, যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইত্যাদি কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় সদর দফতর, স্কাউট ভবন থেকে পরিচালিত হয়। অবশ্য দেশব্যাপি সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো সুষ্ঠ পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্কাউসকে ১২টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। তারমধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট মিলে ৬টি। শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক কুমিল্লা ও দিনাজপুরে ২টি এবং রোভার, রেলওয়ে, নৌ এবং এয়ার  এই বিশেষ ৪অঞ্চলের দফতর রয়েছে ঢাকায়।

প্রায় ৯০ একর জায়গা নিয়ে গাজীপুরের মৌচাকে গড়ে উঠেছে একটি আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা সম্বলিত জাতীয় স্কাউটস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বাংলাদেশে স্কাউট আন্দোলন কাব, স্কাউট ও রোভার এই তিনটি শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সরকার কাব স্কাউট এবং স্কাউট সম্প্রসারণ প্রকল্পে বাংলাদেশ স্কাউটসকে যথেষ্ট অর্থনৈতিক সমর্থন দিয়ে থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ছাড়াও রেলওয়ে, নৌ এবং এয়ার অঞ্চলের চাকরিজীবিদের জন্য বয়সসীমা ৩০ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে মুক্তদল গঠনের মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। উৎসাহী বয়স্করা বিভিন্ন ট্রেনিং নিয়ে ইউনিট লিডার বা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এছাড়া দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকমন্ডলী বাংলাদেশ স্কাউটসের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট রয়েছেন।

স্কাউট কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ স্কাউটসের রয়েছে প্রায় ৩০টির মতো প্রকাশনা। প্রকাশনাগুলি ব্যাডেন পাওয়েলের বিভিন্ন লেখার ওপর ভিত্তি করেই রচিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: পি.আর.ও, কাবস্কাউট হ্যান্ডবুক, ট্রেনিং ম্যানুয়াল, প্রোগ্রাম বই, স্কাউট রেকর্ড, প্যাট্রল লিডার্স হ্যান্ডবুক, প্রোগ্রাম বুলেটিন ইত্যাদি। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চল বিপির লেখা রোভারিং টু সাকসেস বইটির অনুবাদসহ প্রায় ডজন খানেক বই প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ স্কাউটসের মাসিক মুখপত্র অগ্রদূত নামে একটি পত্রিকা রয়েছে।

বাংলাদেশ স্কাউটস জাতীয়ভাবে কমডেকা এবং বড় সমাবেশ যথা ক্যাম্পুরি , জাম্বুরি ও মুট আয়োজন করে থাকে যেখানে সারা বাংলাদেশের স্কাউটগন আনন্দঘন পরিবেশে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। বর্তমানে বাংলাদেশে স্কাউটের সদস্য সংখ্যা ১৩ লক্ষের ও অধিক। স্ট্রাটেজিক একশন প্ল্যান অনুযায়ী স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালে এই সংখ্যা ২১লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাংলাদেশ স্কাউটস গ্রহণ করেছে।  

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

চেরনোবিল – অজানা মৃত্যুর শহর (পঞ্চম পর্ব)

Abdullah-Al-Mahmood Showrav

বিশ্বের সেরা কয়েকটি Animal Robot

Kongkon KS

পৃথিবীর সবচেয়ে ১০ টি দামী সুপারকার

Kongkon KS

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: