Now Reading
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে চীন ও রাশিয়ার পাল্টা চ্যালেঞ্জ



যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে চীন ও রাশিয়ার পাল্টা চ্যালেঞ্জ

বিশ্বের তাবদ শক্তিধর দেশগুলো একে অন্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রতিনিয়ত উন্নত করে চলেছে নিজেদের সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তি। বিশেষ করে তারা মনোনিবেশ করেছে পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে। আবার প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা পরমাণু অস্ত্র হামলা মোকাবিলায় তৈরি করেছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শক্তির বিচারে যেন কেউ কারো চেয়ে কম নয়। কম বেশি পৃথিবীর অনেক দেশই নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে স্বতন্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে শক্তির বিচারে বলা চলে এ মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন। মূলত পৃথিবীর প্রায় দেশই এ সকল দেশের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের চেষ্টা চালায়। চলুন জেনে নিই এমনি কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ সকল দেশ তৈরি করেছে যা অপ্রতিদন্ধি এবং প্রতিটি দেশের কাছেই সবচেয়ে তা বেশি গ্রহণযোগ্য।

THAAD হল যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। থাড বা Terminal High Altitude Area Defense (THAAD) হচ্ছে তিন স্তর বিশিষ্ট মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। থাড মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমেরিকান ডিফেন্স নেটওয়ার্কের অংশ যা তৈরি করে থাকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী সংস্থা লকহিড মার্টিন। থাড এ ব্যবহত রাডারটি হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থানান্তরযোগ্য এক্স ব্যান্ড রাডার। থাড মিসাইল ব্যাটারির প্রতিটিতে থাকে ৮টি মিসাইল যা একসাথে নিক্ষেপ করতে পারে, এর এক ব্যাটারিতে ৮টি লঞ্চার ভেহিকল থাকে। এটি সল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলকে ধ্বংস করতে বেশ কার্যকরী। শত্রু কোন দেশ থেকে যদি কোন মিসাইল নিক্ষেপিত হয়, থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা মহাশূন্যেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। তবে THAAD (Terminal High Altitude Area Defense) থাড এর মিসাইল গুলোতে কোন বিস্ফোরক ওয়ারহেড থাকে না এবং এই মিসাইল কাইনেটিক এনার্জি ব্যাবহার করে পরিচালিত হয়। থাড এর এর মূল কার্যপদ্ধতিই হল অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের থ্রেট মিসাইল ধ্বংস করে দেয়া। থাডের হিট টু কিল টেকনোলজি MIM-104 Patriot PAC-3 এর মতোই কার্যকরী। যদিও PAC-3 এর হেডে সামান্য বিস্ফোরক থাকে যা থাডে সংযুক্ত করা হয়নি। থাড মিসাইলের গতি ৮.২৪ ম্যাক যা সেকেন্ডে ২.৮ কি.মি.।

এদিকে থাডকে মোকাবেলায় চীন ও রাশিয়া বেশ তৎপর। তারা এর বিপরীতে তৈরি করেছে নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অামেরিকার শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চিন ডিএফ-২৬ নামের এমন একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল যা মার্কিন ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম। চীনের এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘এয়ারক্রাফট কেরিয়ার কিলার মিসাইল’ও বলা হচ্ছে যা সহজেই  মার্কিন এয়ারক্রাফট কেরিয়ারে আঘাত করতে বেশ কার্যকরী। এটি আঘাত হানার ফলে সৃষ্ট ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস এয়ারক্রাফট কেরিয়ারের কমান্ড সিস্টেমকে নষ্ট করে দিতে সক্ষম।

এদিকে রাশিয়াও তৈরি করেছে এস-৪০০নামের সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র যা ট্রায়াম্ফ নামে পরিচিত। রুশ আলমাস সেন্ট্রাল ডিজাইন ব্যুরো এটি তৈরী করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রতিটিতে ৮টি স্তর রয়েছে যার মাধ্যমে ৭২টি লাঞ্চারকে একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এমনকি ৩৮৪টি মিসাইলকে একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং একই সাথে ৩০০টি টার্গেটের উপর নজরদারি চালাতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় মিসাইল ব্যাটারি এক সঙ্গে ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম যার এক একটির পাল্লা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এরই মধ্যে চলে এসেছে এস ৪০০ এর উন্নত সংস্করণ ও পরবর্তী ভার্সন এস-৫০০। এটি সম্পূর্ণ একটি অত্যাধুনিক প্রমিথিউস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি পূর্বের এস-৪০০’এর চেয়ে অনেক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা দিয়ে একযোগে পৃথক ১০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যাবে। এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থেকে প্রতি সেকেন্ডে সাত কিলোমিটার গতিতে ছুটে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র তার নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম। যদি শত্রু পক্ষের কোন পরমাণু বোমাবাহী ক্ষেপণাস্ত্র একই গতিতে লক্ষ্যে আঘাত হানার জন্য ছুটে আসে তার প্রতিরোধেকারী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে এস-৫০০ এর গতিও একই হবে বলে দাবী করছে রুশ অ্যারোস্পেস ফোর্সেস। এস-৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা যেখানে স্থাপন করা হবে তার ৬০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার উচ্চতা দিয়ে ছুটে আসা লক্ষ্যবস্তুকে অনায়াসেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধ্বংস করে দেয়া যাবে। মস্কোর বর্তমান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এস-৫০০’এর সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।

 

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment