Now Reading
ঠিকানা শুধু এক সমাধি সাড়ে তিন হাত মাটি



ঠিকানা শুধু এক সমাধি সাড়ে তিন হাত মাটি




বিশ্বাস করতেই মন চাইছেনা যে বাংলাদেশের রক মিউজিকের কিংবদন্তী, সুর ও গিটারের জাদুকর সবার প্রিয় আইয়ুব বাচ্চু আর বেঁচে নেই। আজ ১৮আগস্ট সকাল ৯.৪৫মিনিটে তিনি হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ  নিশ্বাস ত্যাগ করেন। চট্টগ্রামের পটিয়ার খরনা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৬২সালের ১৬ আগস্ট জন্ম নেন আইয়ুব বাচ্চু। তিনি নিজে তাঁর বহু টিভি ও পত্রিকার সাক্ষাৎকারে বলেছেন কিভাবে তাঁর সংগীত জীবনের  পথ চলা শুরু। আসুন এক নজরে দেখে নিই এই গুণী ব্যান্ড শিল্পীর সংগীত জীবন…


সংগীত জীবনে আইয়ুব বাচ্চুর পদার্পণ ১৯৭৭ সাল এবং তাঁর প্রথম গান হচ্ছে “হারানো বিকেলের গল্প”। জীবনের প্রথম ব্যান্ড লাইনআপ ছিল “ফিলিংস (১৯৭৮)। পরবর্তীতে ১৯৮০ সাল হতে এক দশক পর্যন্ত যুক্ত থাকেন সোলস ব্যান্ড এর সাথে। সোলস ছেড়ে ১৯৯১ সালে নিজেই গঠন করে ফেলেন তাঁর নতুন ব্যান্ড “লিটল রবিনস ব্যান্ড” সংক্ষেপে এলআরবি। পরে আইয়ুব বাচ্চু ব্যান্ডের সংক্ষিপ্ত রুপ ঠিক রেখে পরিবর্তন আনেন পরিপূর্ণ নামে, নতুন নাম হয় “লাভ রানস ব্লাইন্ড”।


তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম এর নাম রক্তগোলাপ বাজারে ক্যাসেট আকারে এসে ১৯৮৬ সালে। ব্যান্ড এর নিজস্ব নাম “এলআরবি” দিয়ে প্রথম অ্যালবাম বাজারে আসে ১৯৯২সালে। তাঁর একক অ্যালবামগুলি যথাক্রমে- রক্তগোলাপ (১৯৮৬), ময়না (১৯৮৮), কষ্ট (১৯৯৫), সময় (১৯৯৮), একা (১৯৯৯), প্রেম তুমি কি! (২০০২), দুটি মন (২০০২), কাফেলা (২০০২), প্রেম প্রেমের মতো (২০০৩), পথের গান (২০০৪), ভাটির টানে মাটির গানে (২০০৬), জীবন (২০০৬), সাউন্ড অব সাইলেন্স (ইন্সট্রুমেন্টাল, ২০০৭), রিমঝিম বৃষ্টি (২০০৮), বলিনি কখনো (২০০৯), জীবনের গল্প (২০১৫)।


এভাবে ব্যান্ডের অন্যান্য এ্যালবামের মধ্যে- এলআরবি (১৯৯২),  সুখ (১৯৯৩), তবুও (১৯৯৪), ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫), ফেরারী মন (১৯৯৬), স্বপ্ন (১৯৯৬),  আমাদের বিস্ময় (১৯৯৮), মন চাইলে মন পাবে (২০০০), অচেনা জীবন (২০০৩), মনে আছে নাকি নেই (২০০৫), স্পর্শ (২০০৮), যুদ্ধ (২০১২)।  ব্যান্ডের নিজস্ব ও একক এ্যালবাম ছাড়াও আইয়ুব বাচ্চু অনেক মিশ্র অ্যালবামে কাজ করেছেন যেসব গান শ্রোতাদের হৃদয় অসম্ভবভাবে নাড়া দিয়েছে এবং পেয়েছে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি আছে তাঁর বহু চলচ্চিত্রেও তাঁর গাওয়া গান পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।


তাঁর গায়ক হয়ে উঠার সংগ্রাম অনুপ্রাণিত করবে যেকোন বয়সের সংগীত অনুরাগীকে। পকেটে মাত্র ৬০০ টাকা নিয়ে ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম হতে ঢাকায় পাড়ি জমান আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর কাছে ঐ ৬০০ টাকা ছিল ৬ কোটি টাকার মতোই। উঠেছিলেন এলিফ্যান্ট রোডের একটি হোটেলে। যদিও ঢাকাতে তাঁর অনেক আত্মীয় সজন থাকতেন কিন্তু কারো বাসায় তিনি উঠেননি। গান চর্চার খরচ জোগাতে অনেক সময় অনাহারে কিংবা একজনের খাবার কয়েক বন্ধু মিলে খেয়ে তাঁকে দিন পার করতে হয়েছিল। অনেক অমসৃণ পথ একক প্রচেষ্টায় পাড়ি দিয়ে আজকে সকলের ভালবাসায় পরিণত হয়েছেন আমাদের আইয়ুব বাচ্চু তথা বাচ্চু ভাই… তিনি অমর হয়ে থাকবেন লাখো ভক্তের মণি কোঠায়, হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে।


চলবে…

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment