সাধারন জ্ঞান

“Haunting of hill house” এর মত জীবন কাটানো কিছু পরিবার

শেরলি জ্যাকসন উপন্যাস “Haunting of hill house” আমাদের Crain পরিবারের গল্প বলে যারা দেশের সবচেয়ে ভয়ানক ভুতুড়ে বাড়িতে বাস করত। এখন, বড় হয়ে যাবার পরেও তারা এখনো তাদেরকে তাদের ভয়ঙ্কর অতীত তাড়া করছে যা থেকে তারা মুক্তি পায়নি । সম্প্রতি উপন্যাসের আলোকে একটি সিরিজ নির্মান করেছে NETFLIX , যা দেখার পরে অনেকেই ভয় পেয়েছেন বলে চারিদিকে খবর চাউর হয়েছে।

উপন্যাসের পাতায় লেখিকা কথাসাহিত্যের মাধ্যমে Crain পরিবারের সাথে ঘটা ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। আজ আমরা এমন কিছু পরিবারের কথা আপনাদের জানাবো যারা বাস্তব জীবনেই সেই ভয়াবহতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। আজ আমরা সেই পরিবারগুলোর কথা আপনাদের জানাবো যারা নিজ বাড়ি থেকে হয়েছেন বিতারিত, পিছে ছেড়ে গিয়েছেন নিষ্ঠুর ভয়ের ছাপ।

Smurl (স্মার্ল) পরিবার

১৯৭৪ সালে জ্যাক – জ্যানেট দম্পতি পেনসেনভানিয়ার ওয়েস্ট পিটসন এর চেস স্ট্রিট এ আসার পর তারা একটি বাড়িতে উঠে যা নতুন করে সংস্কার করা লাগবে। এই দম্পতি তাদের ৩ মেয়ে এবং জ্যাকের বাবা-মা সহ সেই বাড়িতে ১৩ বছর ছিল যার প্রতিটি রাত ছিল ভয়ানক।কিছুদিন পর স্বাভাবিক ভাবেই জ্যাকের অসুস্থ মা মারা যান।

জ্যানেট এর ভাষ্যমতে সে বেশ কয়বার ঘুমন্ত অবস্থায় সেই বাড়িতে অবস্থানকারী আত্মা দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে।রাতে গোঙ্গানির এবং ফিস ফিস করে কথা বলার শব্দ শুনতে পেতেন এই দম্পতি। জ্যানেট প্রথমে ভেবে নিয়েছিল তার মৃত শ্বাশুড়ি তাকে কিছু বলছেন। জ্যাক স্মার্ল বলেন, তিনিও অনেক রাতে বই পড়া বা টিভি দেখার সময় সেই বাড়িতে অবস্থানকারী আত্মা দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের পারিবারিক কুকুরকে সেই বাড়ির দেয়ালে আছড়ে মেরে ফেলা হয়।ছাড়াও রাতে নানা রকম ঝামেলা হতো যেমন ফ্যান সিলিং থেকে পড়ে যাওয়া, চেয়ার নড়া চড়া করা ইত্যাদি।

প্রেত্মাত্মা গবেষনাকারী এড এবং লরেন ওয়ারেন সেই বাড়িতে চারটি আত্মা কে শনাক্ত করেন যারা হলেন একজন বৃদ্ধ মহিলা, একজন যুবতি মেয়ে এবং একজন পুরুষ , আর এরা একটি প্রাইম শয়তান কতৃক পরিচালিত হত। ১৯৮৭ সালে স্মার্ল পরিবার সেই বাড়ি ছেড়ে চলে যায় আর রেখে যায় ভয়ানক ১৩টি বছর।

Perron (প্যারন) পরিবার

১৯৭০ সালে প্যারন পরিবারের সাথে ঘটা ভুতুড়ে ঘটনা গুলো এতটাই ভয়াবহ ছিল যযে সেই ঘটনার উপর ভিত্তি করে ২০১৩ সালে The Conjuring সিনেমা তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৭০ সালে ক্যরোলিন এবং রজার প্যারন পরিবার তাদের ৫ সন্তান সহ রোড আইল্যান্ডের ১৭৩৬ সালে নির্মিত “ওল্ড আরনন্ড স্টেট” নামের একটি ফার্মহাউজে এসে বাস করতে শুরু করে। যাদের কাছ থেকে তারা ফার্ম হাউটি কিনেছিল তারা এই প্যারন দম্পতিকে সাবধান করে দিয়েছিল -”পরিবারের বেচে থাকার স্বার্থে হলেও, রাতের বেলা ঘরের লাইটগুলো জ্বালিয়ে রাখবেন।”

এর কিছুদিন পর পরই ঝামেলা শুরু হয়। ক্যারোলিন এর ঘুম একরাতে ভেঙ্গে যায় এবং সে একটি বৃদ্ধ , ধুসর মহিলাকৃতি দেখতে পান যার মাথা ঝুলছিল। অবয়বটি ক্যারোলিনকে বাসা ছেড়ে দিতে বলে। এমনকি ক্যারোলিন আর রজার দম্পতির সন্তানরাও একটি “”Manny”নামের বাচ্চার আত্মাকে দেখতে শুরু করে এবং যেটা জানালা দিয়ে বাচ্চাগুলোকে বাইরে খেলতে দেখতো। । এই দুই আত্মা ছাড়াও আরেকটি দুষ্ট আত্মা ছিল যে বাচ্চাদের পা ধরে রাতে বিছানা থেকে টেনে নামাতো এবং ভোরের দিকে পুরো বাড়ি পচা মাংসের গন্ধে ভরিয়ে দিত।
সেদিনের ছোট মেয়ে আন্ড্রে প্যারন এখন বড় হবার পর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন – “সেদিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজো ভয়ে কেপে ঊঠি। পাচটি বাচ্চা মেয়ে একটি দুষ্ট পুরুষ আত্মার হাতে পরার পর যা হতে পারে, সবই হয়েছে আমাদের সাথে। ”

Snedeker (স্নেকার) পরিবার

স্নেকার পরিবারের সাথে ঘটে যাওয়া ভয়াবহতার উপর নির্মিত হয়েছিল The Haunting in Connecticut মুভিটি। ১৯৮৬ সালে পরিবারের এলেন – ক্যামেরন দম্পতি তাদের তিন সন্তান আর ২ ভাতিজি কে নিয়ে সাউদিংটোন এর মেরিডিয়ান এভিনিউ এর একটি বাসায় উঠেন। ক্যামেরন বাসা ঘুরে দেখার সময় বেজমেন্টে একটি বক্সে মৃতদেহ সৎকার করার সরঞ্জামাদি পান এবং কিছুদিন পরেই তিনি জানতে পারেন বাসাটি একসময় ফিউনারেল হাউজ নামে পরিচিত ছিল।

তাদের বড় ছেলে কিছুদিনের মাঝে বাসায় আশুভ আত্মার দেখা পায় আর স্নেকার দম্পতি দুজনের সেই আত্মা দ্বারা শারিরিক ভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানান। প্রেত্মাত্মা গবেষনাকারী এড এবং লরেন ওয়ারেন সেখানে অশুভ সত্বার উপস্তিতি খুজে পান এবং এর কিছুদিনের মধ্যেই স্নেকার পরিবার বাসাটি ছেড়ে চলে যায়।

Lutz(লাটজ) পরিবার

১৯৭৪ সালের ১৩ নভেম্বর লং আইল্যান্ডের ওশান ড্রাইভের বাসিন্দা রোনান্ড বুচ ডিফেও জুনিয়র ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা তার বাবা-মা , চার ভাই বোনকে খুন করেন একটি .35 ক্যালিবারের রাইফেল দিয়ে। বুচ দাবি করে একটি ঐশ্বরিক শক্তি তাকে আদেশ দিয়েছিল তার পরিবারকে হত্যা করার জন্য যা অমান্য করতে সে পারেনি।

এক বছর পর জর্জ-ক্যাথেরিন লাটজ দম্পতি সেই বাড়িটি কম দামে কিনে নেন। প্রতিদিন রাতে ৩.১৩ তে নাকি জর্জের ঘুম ভেঙ্গে যেত , সেই সময় যখন বুচ তার বাবা-মা কে হত্যা করেছিল। তারা আরো দেখত শুকর এর মত একটি জন্তু লাল চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে আর বাচ্চাদের ঘাট নিজ থেকেই শুন্যে ভেসে যেত। লাটজ দম্পতির এই কথার উপর অবিশ্বাস করে তাদের লাই-ডিটেক্টর মেশিনে পরীক্ষা করা হয় কিন্তু প্রমানিত হয় যে তারা সত্য বলছে। পরবর্তিতে তারা সেই বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আজো বাড়িটি আমেরিকার অন্যতম ভুতুড়ে বাড়ি হিসেবে পরিচিত।

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

যে ১০টি কারণে আধুনিক ব্রিটেন বিশ্বের সেরা দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম

MP Comrade

সাগরতলের এক বুদ্ধিমান প্রাণীঃ ডলফিন

MasudRana

পেরুর রহস্যময় ‘ফুটন্ত নদী’ নামলেই মৃত্যু অনিবার্য

Sharmin Boby

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy