সাধারন জ্ঞান

Dunkleosteus : সমুদ্রের এক দুর্ধষ বিভীষিকা।

সমুদ্রসীমায় পরিভ্রমনকারী এর এক ভয়ানক দানব এর নাম Dunkleosteus (ডাঙ্কলি ওস্টিওস)। এই প্রাগঐতিহাসিক প্রানীর সম্পর্কে খুব কম মানুষ ই জানে ।  প্রায় ৩৬০ মিলিয়ন বছর আগে সমুদ্রের জলসীমায় রাজ করতো এরা এবং Arthrodira গোত্রের সবচেয়ে শেষের দিকে প্রানী এরা ছিল।

যাইহোক, আজকের সময়ে এই অসাধারন প্রানীর ভয়ানক ফসিলগুলো আমাদের বুঝিয়ে দেয় প্রাগঐতিহাসিক প্রানীগুলো কতটা আশ্চর্যজনক ছিল।  কেমন ছিল  Dunkleosteus ? কিভাবে জলজ সীমানার মাংসাশী ত্রাস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল সে? আজ আমরা সেগুলো নিয়েই কথা বলব।

Dunkleosteus নিজের শিকার কে নিজের মাথা দিয়ে বাড়ি দিয়ে চুর্ণ বিচুর্ণ করতো। এর পুরো মাথা জুড়েই ছিল খুব শক্ত হাড় এবং মুখের সামনের দিকে সাপের মত কেবল মাত্র দুটো ধারালো Fang বা বিষদাত ছিল। এবং এই দুই দাতে অসুরিক শক্তি ছিল। ধারনা করা হয় বয়স বাড়ার সাথে থাকে এদের দাতের আকৃতি বৃদ্ধি পেত এবং এদের ক্ষুধাও বাড়তে থাকত।

এর বিষ দাতগুলো নিজে নিজেই ধারালো হত। আপনারা যদি কখনো কুঠার বা চাকু শান দিয়ে থাকেন তাহলে হয়ত এতক্ষনে বুঝে গেছেন কিভাবে Dunkleosteus  নিজের তার শান দিত। এটি যখন তার মুখ বন্ধ করতো উপরের পাটির দাতের কিনারা নিচের পাটির দাতের কিনারার সাথে ঘষা লেগে ফ্রিকশন এর কারনে দাত তীঘ্ন হত। কোন কারনে যদিও দাত ভেঙ্গে যেত তাহলে নতুন করে দ্রুত আরো শক্তিশালী দাত উঠত। এ জন্য Dunkleosteus রা ভয়ানক বেশি ছিল কারন তারা শক্ত প্রতিপক্ষ বাচাই করত যাতে দাতে হারাবার আশংকা থাকে, কারন নতুন দাত আরো শক্তিশালি হবে।

সম্প্রতি শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ার এর গবেষকরা মিউজিয়ামে রাখা Dunkleosteus এর ফসিল এর উপইর পরীক্ষা করে এর কামড়ের ওজন পরিক্ষা করেন। ফলাফল দেখে তারা নিজেরাই শিহরিত বোধ করেন। একটি Dunkleosteus এক কামড়ে প্রতি বর্গ ইঞ্চি স্থানে ৮০০০ পাউন্ড এর সমমান বল প্রয়োগ করতে পারতো।  আজকের দিনের জলদানব হোয়াইট শার্ক এই শক্তির বল মানে প্রতি বর্গ ইঞ্চি স্থানে ৪০০০ পাউন্ড বল প্রয়োগ করতে পারে। ।

Dunkleosteus যে কোন শিকার কে নিজের মুখের ভেতর শুষে নিতে পারত। যেহেতু বড় জীব হওয়াতে এরা কম দ্রুত সাতার কাটতো তো এদের প্রধান লক্ষ্য ছিল শিকার কে শুষে নেয়া। এক সেকেন্ডের ৫০ ভাগের এক ভাগ সময়ে এরা নিজেদের মুখ পুরো প্রসারিত করতে পারত এবং সব শক্তি দিয়ে শিকার কে ভ্যাকুয়াম সিস্টেমে নিজের দিকে টেনে নিত। 

Dunkleosteus যা পেত তাই খেত। খাবার ব্যাপারে এদের কোন বাছ বিচার ছিল না। এমনকি ধারন করা হয় এদের স্বভাব ক্যানিবালিস্টিক ছিল মানে এরা স্বজাতিকেও ছাড়ত না। বিজ্ঞানিরা Dunkleosteus ফসিল এর মাঝে চিড় খেতে পেয়েছেন এবং ফসিলের শক্তি সামর্থ অনুসারে চিড় ভাঙ্গার জন্য অন্য কোন Dunkleosteus দায়ী। তবে যা এরা খেতে পারত না তা  বের করে দিত। তখন ছোট জলজ অন্যান্য প্রানীরা সেগুলো খেয়ে নিত। 

Dunkleosteus রা সাধারনত ৩০ থেকে ৩৫ ফুট লম্বা হত। আর একটি পুর্নবয়স্ক Dunkleosteus এর ওজন ছিল ৩ টনের মত যা কিলার হোয়েল এর থেকেও বেশি। এই ভয়ানক আকৃতির জলদানব একসময় বৈশ্বিক সমুদ্র সীমার প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পরেছিল। আফ্রিকা , ইউরোপ এ ফসিল পাওয়া গেছে তাদের। নিউ ইয়র্ক, মিসৌরিতেও পাওয়া গেছে। এমনকি কানাডাতেও । বোঝাই যাচ্ছে এই দানবের কবল থেকে কোন অঞ্চল ই মুক্ত ছিল না।

কিভাবে হারিয়ে গেল এরা?

ধারনা করা হয় বিপর্যয় এসেছিল হ্যাংগেনবার্গ ইভেন্টের মাধ্যমে।সমুদ্রের অক্সিজেন লেভেল কমে গিয়েছিল ব্যাপক হারে আর এতে মারা পরেছিল এই দানবরা। কম অক্সিজেনে সাধারন প্রানীরা হয় বেচে থাকতে পারে। কিন্তু যখন আপনি ৩ টন অজনের একটি খাদক দানবের কথা ভাববেন, বেচে থাকার হার অতি সীমিত।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

রহস্যময়তায় ঘেরা ভৌতিক অরণ্যভূমি “বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল”

MP Comrade

সত্তর বছরে পোর্শের পথচলা

Kazi Mohammad Arafat Rahaman

সাম্প্রতিককালের বিমানে ঘটে যাওয়া অদ্ভুদ সব কাণ্ড যা আপনি মিস করে গেছেন!

MP Comrade

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy