Now Reading
মাশরাফির রাজনীতিতে আসা নিয়ে এত কথা কেন?



মাশরাফির রাজনীতিতে আসা নিয়ে এত কথা কেন?

ম্যাশকে নতুন করে পরিচয় দেয়ার কিছু নেই। ক্রিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে যে কজন খেলোয়াড়ের নাম শুনা যায় তাদের মধ্যে মাশরাফির নাম তুঙ্গে। মাশরাফির আনন্দে যেমন ভেসেছে গোটা দেশ ঠিক তেমনি তার কান্নায় কেঁদেছে গোটা জাতি। মাশরাফিকে ক্রিকেট প্রেমীরা এতটাই ভালবাসে যে আদর করে নামই দিয়েছে ম্যাশ। সে যাই হউক তার গুণগান গাইতে এখন আর ভাল লাগছেনা কেননা সে এখন রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে। রাজনীতিতো ভাল জিনিস নয় বলে অনেকের ধারণা! সুতরাং ম্যাশ কাজটা মোটেই ভাল করেনি! তার উপর নিয়েছে আওয়ামীলীগ এর নমিনেশন ফরম।

ভাই হইছে, এবার আসল কথায় আসি… রাজনীতি নিয়ে যাদের নাক সিটকানি ভাব আছে কিন্তু দিন শেষে তারাও রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝতে কিংবা রাজনীতির খবরাখবর পেতে মুখিয়ে থাকেন। রাজনীতি তো রাজার নীতি, হতে পারে গুটি কয়েক রাজনীতিবিদ কিংবা দলের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারনে মানুষ সাময়িক এই পদ্ধতি হতে আস্থা হারায়। কিন্তু এই রাজনীতি ব্যাতিত একটি সমাজ তথা দেশকে পরিচালনা করা যে মোটেও সহজ কাজ নয় তা সকলের কাছে অনুমেয়। এই রাজনীতির মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নের অংশীদার হওয়া সবচেয়ে সহজ এবং উত্তম। যাকে নিয়ে শুরুটা করেছিলাম, সেই মাশরাফি কিন্তু ১৬কোটি মানুষের আস্থায় পরিণত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম এর ক্যাপ্টেন হয়ে। আর এই আস্থা অর্জনে ম্যাশকেও যথেষ্ট মুল্য দিতে হয়েছে। দেশের জন্য পায়ের লিগামেন্ট এর সমস্যা নিয়েও ঝুকিতে খেলে গেছেন ম্যাচের পর ম্যাচ, আর গুরুত্বপূর্ণ সেসব ম্যাচগুলোতে জয় উপহার দিয়ে দেশকে আনন্দেও ভাসিয়েছেন। ২০০১ এর ৮ নভেম্বর টেস্ট ম্যাচ দিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। বিগত ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে দারুণ প্রতিভা, অদম্য সাহস, বুদ্ধি আর সাফল্য দিয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র রুপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এই অধিনায়কের নেতৃত্বে টাইগাররা প্রথমবারের মতো উঠেছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে এবং ২বার খেলেছে এশিয়া কাপের ফাইনালে। শুধু যে তিনি সফল অধিনায়ক তা কিন্তু নন, ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও তিনি যার ভাণ্ডারে আছে ২৫০টি উইকেট। সে যদি দেশের জন্য নিজেকে এভাবে উজাড় করে দিতে পারে তবে তার সামান্য ব্যাক্তিগত চাওয়া বা অধিকারকে আমরা কি নুন্যতম সম্মান দিতে পারিনা? অনেকেই বলছেন খেলা বাদ দিয়ে সে রাজনীতিতে জড়িয়েছেন, সেইসব মানুষরা এই খবর রাখেননা যে আগামী বিশ্বকাপ পর মাশরাফি অবসরে যাবেন তার ফিটনেস জঠিলতায় ধরুন। এখন বলতে পারেন অবসরে গেলেও তার রাজনীতি করার এমন কি প্রয়োজন হয়ে পড়ল! সোশ্যাল মিডিয়ার ঘুরে বেড়ানো এসব প্রশ্ন অহরহ। সত্যিকার অর্থে খেলোয়াড়ি জীবনের এই সাফল্য, নেতৃত্ব গুণ ও ব্যক্তিমানুষ হিসেবে নিজ এলাকা ও সমগ্র দেশে বিপুল জনপ্রিয়তা মাশরাফিকে তুলে দিয়েছে রাজনীতির মঞ্চে। আসুন তবে একটু জেনে নিই খেলার বাইরের মাশরাফি সম্পর্কে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্রে ভর্তি হন যদিও ক্রিকেট ব্যস্ততার দরুন পড়াশোনার ইতি টানতে পারেননি। মাশরাফির পরিবার শুরু হতেই আওয়ামী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চর্চা করে আসছে। তার বাবা গোলাম মুর্তজা একজন আওয়ামী ঘরনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে অনুপ্রাণিত ব্যাক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। যদিও মাশরাফি নিজে কিংবা তার পরিবার সেভাবে কখনো রাজনীতিতে নিজেদের জড়াননি। এলাকার উন্নয়নে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন’। তিনি প্রায়ই ছুটে জান নড়াইলে আর বেশির ভাগ সময় কাটান সেইসব বন্ধুদের সাথে যারা সমাজে সুবিধাবঞ্চিত। মাশরাফির স্বপ্ন, নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে গোটা নড়াইলকে বদলে দেয়ার। এমন নয় যে মাশরাফি এটা খেয়ালের বশে করছে, নিজের এলাকার উন্নয়নের এই পরিকল্পনা মনে এঁকেছেন যখন খেলোয়াড়ি জীবনে প্রতিটি সাফল্য তাকে একে একে ধরা দিচ্ছিল। তিনি উপলব্দি করলেন নিজ এলাকার জন্য এবার কিছু করা দরকার। সেই পরিকল্পনা ও মনের অদম্য ইচ্ছা হতেই প্রতিষ্ঠা করলেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তিনি নিজেই আর কোষাধ্যক্ষ করেছেন নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সর্বজন প্রিয় মির্জা নজরুল ইসলাম’কে। নড়াইলে দলমত-নির্বিশেষে মাশরাফি সব মহলে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব সুতরাং আওয়ামীলীগ এর মনোনয়নে তিনি নির্বাচন করলে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তেমন কেউ আর সুবিধা করতে পারবেননা। মাশরাফির স্বপ্ন, পুরো নড়াইলকে একদিন বদলে দেবে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন।’ সুতরাং নড়াইলকে বদলে দিতে মাশরাফির বর্তমান সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাতেই হয় কেননা সঠিক সময়ে তিনি রাজনীতির মঞ্চে অবতীর্ণ হয়েছেন। স্বাভাবিক বিএনপি কিংবা অন্য রাজনৈতিক দলগুলো আশাহত হতেই পারে দেশের এমন এক রত্ন আওয়ামীলীগের ভাণ্ডারে যুক্ত হওয়াতে। ফুটবলার আমিনুল ইসলাম, গায়ক মনির খান, আসিফ আকবর, বেবি নাজমীন, ন্যান্সি এমনকি নায়িকা ময়ূরী যখন বিএনপি থেকে নমিনেশন নেয় কই তখনতো এভাবে কেউ নেতিবাচক কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ায়নি! তাই আসুন মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাই আর দেশকে সামনে এগিয়ে নিই।

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment