Now Reading
সাম্প্রতিককালের বিমানে ঘটে যাওয়া অদ্ভুদ সব কাণ্ড যা আপনি মিস করে গেছেন!



সাম্প্রতিককালের বিমানে ঘটে যাওয়া অদ্ভুদ সব কাণ্ড যা আপনি মিস করে গেছেন!

১। গত সেপ্টেম্বর ২০১৮তে হংকং কেন্দ্রিক বিমান সেবা প্রতিষ্ঠান ক্যাথি প্যাসিফিক (Cathay Pacific) তাদের একটি ফ্লাইটের বহির্ভাগে নাম ভুলের কারনে সারা বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিরোনামে পরিণত হয়েছিল। এতে প্রতিষ্ঠানটি বেশ অস্বস্তিতে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির বোয়িং ৭৭৭-৩৬৭ একটি এয়ারক্রাফটের বাইরে ভুল করে পেইন্ট করা ছিল “CATHAY PACIIC” যেখানে F ভুলে বাদ পড়ে যায়। এটা স্বাভাবিক একটা ঘটনা হতে পারত যদি পেইন্টের দায়িত্বে নিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ভুল করেও জানার পর তা সংশোধনের সুযোগ থাকত। কিন্তু বিষয়টি ধরা পরে ওয়াশিংটন ডিসিতে যখন বিমানটি ১৩,১২৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসে হংকং হতে, আর বিমানের এই রুটটি আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ দূরত্বের ১৫টি রুটের একটি। ক্যাথি প্যাসিফিক এর এই দায়িত্ব জ্ঞানহীন বিষয়ের কারণে তারা যথেষ্ট ইমেজ সঙ্কটে পড়ে যায়।

২। সাউথ ইষ্ট এয়ারলাইন্স গত অক্টোবর ২০১৮ তে লস এঞ্জেল হতে ডালাস যাওয়ার একটি ফ্লাইটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটের একজন পুরুষ প্যাসেঞ্জার কর্তৃক অন্য একজন নারী প্যাসেঞ্জার যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন যার ফলে তাকে আসন পরিবর্তন করতে হয়েছিল। এই জঘন্য ঘটনার জন্য সেই পুরুষ যাত্রী জাস্টিন রলে ব্রাফোর্ডকে ফ্লাইটের ক্রুদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে যে, প্রতিবার টেক অফের সময় সে তার হাত দিয়ে উক্ত মহিলার পা স্পর্শ করতেন। এমনকি অস্বস্তিতে পরা মহিলা যাত্রীটি বার বার তাকে এড়িয়ে যেতে চাইলেও পুরুষ যাত্রীটি ক্রমশ তার ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মহিলাটি তাকে সরাসরি বারণ করে দিলে পুরুষ যাত্রীটি তাকে বিভিন্ন প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত বাক্য বিনিময় করেন। তাই অপারগ হয়ে যখন মহিলাটি ফ্লাইট এটেনডেন্সকে তার সিট পরিবর্তনের অনুরোধ করেন তখনি প্রকাশ পায় ঘটনাটি। যখনি ফ্লাইট এটেনডেন্স এর কারন জিগ্যেস করতে পুরুষ যাত্রী ব্রাফোর্ডকে জিগ্যেস করে উল্টো সে ক্ষেপে যায়। এতে ফ্লাইট এটেনডেন্ট পাইলটকে বিষয়টি অবগত করে এবং পাইলট দ্রুত বিমানকে ল্যান্ড করিয়ে ঐ পুরুষ যাত্রীকে ফ্লাইট হতে নামিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বিমানে যাত্রীকে যৌন হেনস্থা এবং ফ্লাইট ক্রুর সাথে অসাধাচরন এর দায়ে ২০ বছরের সাজা হয় এবং অনাদায়ে ২৫০০০০ ইউএসডলার জরিমানা হয়।

৩। মার্কিন বিমানসংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স প্রায়ই বিতর্কের মুখে পড়ে তাদের কিছু কর্মকাণ্ডের জন্য। ২০১৭ সালে তাদের একটি ফ্লাইট থেকে এক যাত্রীকে মারধর করে জোড় পূর্বক নামিয়ে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ আসে। জোড় করে নামিয়ে দেয়ার দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে অপর এক যাত্রী । মাত্র ৫০সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে প্রকাশের পর জোরেশোরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে আমেরিকান বিমানসংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। ভিডিওটি প্রায় ১৬ হাজার বার রিটুইট করা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি বরাতে আরো জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এর বিমান ৩৪১১ শিকাগো ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কেন্টাকির লুইসভিলের উদ্দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রাক্কালে ইউনিফর্ম পরা তিন নিরাপত্তারক্ষী আসনে বসে থাকা এক যাত্রীকে টেনে জোড় করে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আসন থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামানোর সময় ওই যাত্রীর পোশাকের কিছু অংশ খুলে যায় এবং চোখের চশমা খুলে যায়। টানা হেঁচড়ার এক পর্যায়ে তাঁর নাক দিয়ে অনেকটা রক্ত বের হয়ে যায়। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিমানকর্মীদের বিরুদ্ধে বিমান থেকে এভাবে যাত্রীকে জোর করে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয় । তারা এর আগেও লেগিংস পরার দায়ে দুই নারীকে বিমান থেকে জোড় করে নামিয়ে দেয়।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীরা নিয়ম না মানায় এভাবে বিমান থেকে নামাতে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু কোন নিয়মটি ভঙ্গ করেছেন ঐ চিকিৎসক তা তারা স্পষ্ট করেননি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্টাকিতে অতিরিক্ত ক্রু মেম্বার পাঠাতে হয়েছিল তাই তারা ঐ চিকিৎসককে বিমান থেকে নেমে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু চিকিৎসক এর দাবী, রোগীর কাছে পৌঁছানো তাঁর কাছে অত্যন্ত জরুরি ছিল। এদিকে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। তারা দ্রুত যে তিন নিরাপত্তা কর্মী ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

৪। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মশার উপদ্রবে বিক্ষোভ বা অভিযোগ নতুন কিছু নয় বরং নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু এই মশা নিয়ে এবারে অভিযোগ উঠেছে ভারতের জনপ্রিয় বিমান পরিসেবা সংস্থা ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে। এক যাত্রীর মুখে মশার কামড়ের অভিযোগ পেয়ে উল্টো তাকেই ফ্লাইট হতে নামিয়ে দিয়েছেন মশা না তাড়িয়ে। সৌরভ রাই নামে এক যাত্রী ভারতের লখনউ বিমানবন্দর হতে ভোর ৬টার দিকে ইন্ডিগোর বিমানে ওঠেন। আর বিমানে ওঠার পর থেকেই তাকে মশা কামড়াতে শুরু করে, তিনি এর পরিত্রাণে বিমানকর্মীদের অনুরোধ করলেও তারা তাকে চুপ করে নিজের আসনে বসে থাকতে বলেন। এ নিয়ে ঐ যাত্রী এবং বিমানসংস্থার কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে এয়ারক্রুরা তাকে জোর করেই বিমান থেকে নামিয়ে দেয়। এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সৌরভ রাই নামের ঐ যাত্রী আর তাতেই ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলোধুনো শুরু করে দিয়েছিল সবাই। যদিও ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স তাদের বিবৃতিতে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে উস্রিঙ্খল আচরণের জন্য সৌরভ রাই নামের ওই ব্যাক্তিকে বিমান থেকে তারা নামিয়ে দেয়। তারা আরো অভিযোগ করে যে বিমানের কর্তব্যরত কর্মীরা ব্যবস্থা নেয়ার আগেই তিনি নাকি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং বিমানের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও তাকে শান্ত করা সম্ভব হয়নি। সৌরভ নাকি অন্য যাত্রীদেরও বিমানের ক্ষতি করার জন্য প্ররোচিত করছিলেন, এমনকি সে বিমান ছিনতাই এর হুমকি দেন। এই পরিস্থিতিতে যাত্রী সুরক্ষার কথা প্রাধান্য দিয়ে তাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেয়া ছাড়া তাদের আর উপায় ছিলনা।

৫। ২০১৬ এর এপ্রিলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আকাশে ঘটে যাওয়া অদ্ভূত ঘটনাটি যেন একটু আড়ালেই থেকে গেল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, কলকাতার আকাশ থেকে প্রায় ১০ মিনিটের জন্য রাডারে হারিয়ে যায় একটি দু’টি নয় ৮৫টি বিমান। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়, ২০১৬ এর এপ্রিলের ৮ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টায় আকাশে থাকা সবগুলো বিমান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে ১০ মিনিটের জন্য সংযোগ হারায়। রাডার হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে হঠাৎ সব বিমান এক নিমিষেই হারিয়ে যায়। যদিও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সকল যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক ছিল। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ বিমান কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ভিএইচএফ (Very High Frequency) লিঙ্ক চালু করে কিন্তু তাও অকার্যকর হয় এবং বিমানগুলোর সাথে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়। এদিকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি কলকাতার আকাশে থাকা হাজার হাজার যাত্রীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাটনা , বারানসি ও গয়ার এয়ারপোর্টে জরুরি বার্তা পাঠায়। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় আবারও সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। অদৃশ্য বিমানগুলো ১০ মিনিট বাদে আকাশে পুনরায় উদয় হল। বিমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিলেও পরবর্তীতে এটিকে যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবেই জানায়।

৬। আমেরিকার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনাগুলোর ভেতরে অন্যতম হচ্ছে ১৯৭৯ সালের ফ্লাইট ১৯১ এর বিধ্বস্ত হওয়া। রানওয়ে হতে উড্ডয়নের খানিক বাদেই দুর্ঘটনার পতিত হয় বিমানটি তাৎক্ষণিক মারা যান ২৫৮ যাত্রী ও ১৩ জন বিমান কর্মীর সকলে। এর কিছু বছর আগে ১৯৬৭ সালে একই নামের (১৯১) আরেকটি ফ্লাইট বিমান দুর্ঘটনার কবলে পতিত হলে সেখানেও মারা যায় বিমানটির পাইলট। এসব ঘটনা ঘটে যাওয়ার বেশ কয়েক বছর পর ২০১২ সালে ১৯১ সংখ্যাযুক্ত আরেকটি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটিতে পাইলটের পরিবর্তে বিমানের দায়িত্ব নিয়ে নেয় যাত্রীরাই। জনশ্রুতি আছে যে, পরপর তিনবার এমন ঘটনা ঘটার পরই কোন এয়ারলাইন্সই আর ১৯১ সংখ্যাটি ব্যবহার করতে চায় না!

৭। বিমান পরিসেবা সংস্থা হিসেবে এয়ার ফ্রান্স যথেষ্ট প্রসিদ্ধ এবং জনপ্রিয়। বিমানের অন্য দুর্ঘটনার চেয়ে এয়ার ফ্রান্সের একটি বিমান দুর্ঘটনার ব্যাপার একটু আলাদা। হঠাৎ করেই বিমানটির কো পাইলট বিমানটিকে উপরের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করেন যখন মেইন পাইলট সাময়িক সময়ের জন্য টয়লেটে যান। দুর্ঘটনা পরবর্তীতে ব্ল্যাক বক্সে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কো পাইলটের একটি ভয়েস রেকর্ড এমন ছিল যে, বিমানে আমার নিয়ন্ত্রণ আছে! তবে নিয়ন্ত্রণ থাকার পরও কেন বিমানটি বিধ্বস্ত হয় তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। যদিও মেইন পাইলট ককপিটে পৌঁছে দেখেন অবস্থা মোটেই নিয়ন্ত্রণে ছিল না। প্রায় ৩৮ হাজার ফিট উপরে নাক উঁচু করে থেমে থাকা বিমানটি খুব দ্রুতই ভুমিতে পতিত হয়! আর এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মারা যায় কয়েকশ মানুষ। এ ঘটনার পরও সেই কো পাইলটের আচরণ এবং তার রহস্যময় কণ্ঠ বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসে এখনো রহস্যই থেকে গেল।

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment