Now Reading
১ম দফাতেই কি হোঁচট খাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া?



১ম দফাতেই কি হোঁচট খাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া?

শুরুতে ৫০টি রোহিঙ্গা পরিবারের প্রায় দেড়শ জনকে দিয়ে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল আজ বৃহস্পতিবার। কিন্তু প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের শেষ মূহুর্তে এসে গভীর অনিশ্চয়তা নিমজ্জিত হয়েছে। রোহিঙ্গারা জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থাকে বলছে তারা কেউই মিয়ানমারে ফিরতে ইচ্ছুক নয়। তাই তাদের অনুরোধ কাউকে যেন জোর করে পাঠানোর ব্যবস্থা করা না হয় এবং এই বিষয়ে তারা সরাসরি বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা বা ইউএনএইচসিআর এর সাথে কথা বলার অনুমতি চায়। গত কয়েকদিন ধরে ঐ ৫০টি পরিবারের উপর জরিপ করে ইউএনএইচসিআর তাদের একটি রিপোর্ট গত বুধবার বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং পুনর্বাসন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করে। রিপোর্টটিতে উল্লেখ ছিল, তালিকাভুক্ত দেড়শ শরণার্থীর একজনও মিয়ানমার ফিরে যেতে চায়না। তারা ‘যাবো না যাবো না’ বলে স্লোগান দিয়ে উত্তাল রেখেছে ক্যাম্প এলাকা।

গত ফেব্রুয়ারি হতে পর্যায়ক্রমে আট হাজার শরণার্থীর তালিকা তৈরি করে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বুঝিয়ে ফিরতে রাজী করিয়েছিল। যদিও বাংলাদেশ সরকারের এই দাবীর প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সবসময়ই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এদিকে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে শরণার্থী কমিশনার বেশ কবার কমিশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করেন। আর এই বৈঠকগুলো ছিল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরু হওয়ার প্রাক প্রস্তুতি। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করতে পারেনি সীমান্তের ঠিক কোন জায়গা দিয়ে শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে । তবে বিভিন্ন সূত্র হতে জানা যায়, প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরু হলে টেকনাফের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়েই হবে যার প্রস্তুতি হিসেবে সেখানে ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। ঘুমধুমের এই ট্রানজিট ক্যাম্পটি সীমান্তের শূন্য রেখা হতে আড়াই কিলোমিটার দূরে রাবার বাগান নামক একটি স্থানে স্থাপন করা হয়েছে । যেখানে সাময়িক ৩শ জন শরণার্থীর রাতে থাকার জন্য তৈরি করা হয়েছে ৬০টি কামরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত টেকনাফের উনচিপাং এলাকার ২২ নম্বর ক্যাম্পে তিনদিনের খাবার দাবার ও জরুরি প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করে মিয়ানমারে ফিরে যেতে জড়ো করা কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় ঐ ক্যাম্প হতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ২৯৮ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করার একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে তাদের বাসস্থানে ফিরে যেতে পারে তাই তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত এই পদক্ষেপ নস্যাৎ করতে তৎপর রয়েছে কিছু স্বার্থনেষী মহল। তারা বিভিন্নভাবে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে নানা ধরণের গুজব ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ভেতর একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে দেয়া হচ্ছে যে তারা মায়ানমার ফিরে গেলে নিরাপদ থাকবেনা। যদিও বিনা পরিশ্রমে ফ্রিতে দুবেলা অন্ন পাওয়ার এই সুযোগ তারা হাতছাড়া করতে চাচ্ছেনা। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সরকারের উপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে তারা কিছুতেই নিজভূমি মায়ানমারে ফিরে যেতে ইচ্ছুক নয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ম দফায় তালিকাভুক্ত যে ১৫০জন শরণার্থীকে প্রত্যাবাসন করার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে, তাদের অনেকেই শরণার্থী শিবির থেকে প্রত্যাবাসন এড়াতে পালিয়ে যাচ্ছেন। সুতরাং বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ তাদের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের উপর নজরদারি বাড়িয়ে দেয়ার। রোহিঙ্গাদের যতই আমরা শরণার্থী কিংবা আক্রান্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে ধরে নিই না কেন তাদের আচার আচরণ এবং স্বভাব আগ্রাসী ধরনের। ত্রান এবং সাহায্য তাদের আশানুরূপ ও মনপুত না হওয়ায় অনেক সময় তারা সাহায্যকারী সংস্থার লোকজন ও পুলিশের উপর আক্রমন চালিয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের উচিৎ যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের এই বিষ ফোঁড়া রোহিঙ্গাদের নিজ ভুমিতে প্রত্যাবাসন করিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার। অন্যথা অদূর ভবিষ্যতে এই রোহিঙ্গারা মিশে যাবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সাথে এবং তখন তাদের সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পরবে। ইতিমধ্যে টেকনাফ ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা ও বনাঞ্চল রোহিঙ্গাদের আগ্রাসনে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠিয়ে দ্রুত এসব খতিগ্রস্থ এলাকা পুনর্গঠনে মনোযোগ দিতে হবে প্রশাসনকে।

About The Author
MP Comrade
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment