Now Reading
জিয়া পরিবারের পা থেকে মাথা



জিয়া পরিবারের পা থেকে মাথা

বিএনপি বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল। কিন্তু কখন এই রাজনৈতিক দলের উৎপত্তি? যখন সারা বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে এতিম। দেশের সংকটকালীন সময়ে দেশকে শোষণ করার জন্য বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলের উৎপত্তি।

অনেকেই বলে থাকেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন। জিয়া এতই বিশ্বাসভাজন ছিলেন যে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের তিনি বলেছেন,

‘সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার হিসেবে আমি বিদ্রোহে সরাসরি যুক্ত থাকতে পারি না। কিন্তু তোমরা জুনিয়র অফিসাররা এই বিষয়ে এগিয়ে যাও’।
এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ১৯৭৫-এর ২০ মার্চ ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে জিয়া বৈঠক করেছিল। এই দ্বারা প্রমাণ হলো, জিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় তার সম্মতি জানিয়েছিলেন। বুঝতেই পারছেন, জিয়া বঙ্গবন্ধুকে কতটা ভালোবাসত!
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর টুঙ্গি পাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। মাত্র কয়েকজন মানুষ এসেছিলো জানাযার কাজ সম্পাদনের জন্য। শেষ গোসলটা দেওয়া হয়েছিলো ৫৭০ সাবান দিয়ে। রেডক্রিসেন্টের ত্রাণের সাদা কাপড় দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাফন পরানো হয়েছিলো। মানুষকে কবরের কাছেই যেতে দেওয়া হয় নি।
জিয়া তখন কোথায় ছিলো? ওনি তো বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতেন।
হত্যার পর তৎকালীন সেনা,নৌ, বিমানবাহিনীর চীফসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুকে দেখতে আসেনি। এমনকি জিয়াউর রহমানও। অথচ এই জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধু অনেক ভালোবাসত। জিয়াকে উচ্চপদে সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
জিয়া রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১২ জন সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দেশে কূটনীতিক মিশনে চাকরি দিয়েছিলেন। পুরস্কারও দিয়েছিলেন।
আপনারা যারা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাস করেন, তারা হয়ত এই কথাটি মানতে নারাজ। তাহলে আসেন একটু প্রমাণ দেখানো যাক।
একটি ইন্টারভিউতে বিখ্যাত সাংবাদিক এন্থনি মাসক্যারেনহাসকে বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক ও রশীদ বলেছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যা পরিকল্পনার কথা জানতো জিয়াউর রহমান।
সত্য কখনও গোপন রাখা যায় না। ইতিহাস এখন গুগলেও আছে। পাঁচ টাকার এমবি কিনে গুগলে এই ইতিহাস পড়ে নিতে পারেন।
ক্ষমতার লোভ জিয়াকে পাগল বানিয়ে দেয়। অল্প সময়ের মাঝেই জিয়া রাষ্ট্রপতি হয়। এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।
জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই বিএনপি প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর দেশের উন্নয়নের গতি কমতে থাকে। এভাবে তিনি বাংলাদেশকে কিছুদিন শোষণ করার পর ১৯৮১ সালের এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়া নিহত হন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রিয় মানুষ হয়ত চিন্তা করেছিলো যে দেশ এবার সঠিকভাবে এগিয়ে যাবে। কিন্তু বিএনপির হাল ধরে বহুবার জন্ম নেওয়া বেগম খালেদা জিয়া। আপনারা সবাই জানেন ওনার অনেকগুলো জন্মদিন। বেগম জিয়া এতই অকৃতজ্ঞ যে, ১৫ অগাস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়, সেদিন ওনি ভুয়া জন্মদিন পালন করে। অথচ এই বঙ্গবন্ধু না হলে জিয়াউর রহমানের পরিবারে আশ্রয় হতো না বেগম জিয়ার। সেই ইতিহাস বেগম জিয়া মনে রাখে নি, হয়ত ভুলে গেছেন। আপনারও ভুলে গেছেন?
জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া দুজনেই বঙ্গবন্ধুকে একবিন্দু শ্রদ্ধা দেখান নি। একজন হত্যায় সাহায্য করেছে, আরেকজন বঙ্গবন্ধুর হত্যার দিনকে জন্মদিন বানিয়েছেন।
বেগম খালেদা জিয়া, তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানের নিহত হওয়ার পর টিভি চ্যানেলের সাক্ষাতকারে বলেছেন, জিয়া তাদের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারেন নি। তাই তারেক রহমান তার বাবার জামা-কাপড় ছোট করে গায়ে দিতো।
তারেক রহমান কি এখনো জামা-কাপড় ছোট করে পরিধান করে? আসলে প্রয়োজন হয় না। বিএনপির মতো দল তো তার বাবা দিয়েই গেছে। দেশের হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা এখন জিয়া পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।
সাথে আছে বেলজিয়াম, মালয়েশিয়ায় ও দুবাইতে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি। সৌদি আরবে মার্কেটসহ অন্যান্য সম্পত্তি।
এই টাকা তো তাহলে বাংলাদেশের। ওনাদের তো কিছুই ছিল না।
বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার নামে অনেক মামলা। এরই মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এর দুর্নীতির জন্য বেগম খালেদা জিয়ার ১০ বছর জেল হয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হয়ত এবার তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের যোগ্যপুত্র তারেক রহমান যাবত জীবন কারাদন্ডে দণ্ডিত হয়েছে। কারণ তিনি ২১শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় বিশেষ অবদান রেখেছিলেন।
তাছাড়া বিএনপির এই প্রাণপুরুষের নামে আরও অনেক মামলা রয়েছে। মামলার বর্ণনা দিতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন।
বেগম খালেদা জিয়া জেলে আছেন ।তারেক রহমান দেশের বাইরে। দেশে ফিরে আসলে জনাব তারেক জিয়াকে জেলে যেতেই হবে।
জিয়া পরিবারের আরেক সন্তান আরাফাত রহমান কোকো। কোকোর নামেও ছিল অর্থ পাচারের অভিযোগ। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি তারিখে কোকো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
এইবারে জিয়া পরিবারের কেউই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। আর কখনও পারবে বলে মনে হয় না। দেশকে শাসন করার নামে জিয়া পরিবার আমাকে, আপনাকে শোষণ করেছে। আমাদের টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছে। এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
জিয়া পরিবার যে পাপ করেছে সে পাপ আজ তাদের পেয়ে বসেছে। কারণ পাপ বাপকেও ছাড়ে না। দেশের মানুষ একদিন জিয়া পরিবারের সব দুর্নীতির খোঁজ পেয়ে যাবে। একদিন জিয়া পরিবার আর আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। দেশকে বিক্রি করতে পারবে না। দেশের তরুণরা সেদিন নিজ পকেটের টাকা খরচ করে একটি জাদুঘর বানাবে। জাদুঘরের নামে হবে ‘জিয়া পরিবারের অপকর্মের জাদুঘর’। যেখানে জিয়া পরিবারের সকল অপকর্ম ও দুর্নীতির ইতিহাস লিখা থাকবে।

About The Author
Ahmed pabel
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment