Now Reading
দুবাইয়ে জিয়া পরিবারের অবৈধ সম্পদের পাহাড়



দুবাইয়ে জিয়া পরিবারের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

বিভিন্ন মেয়াদে ক্ষমতায় এসে জিয়া পরিবার বারবার আলোচনায় এসেছে। কখনও ক্ষমতার অপব্যবহার, কখনও দুর্নীতি, কখনও দেশ-বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জন। বিতর্ক জিয়া পরিবারের সাথে লেগেই আছে। গঠনমূলক সমালোচনা ও সত্যতার প্রমাণ পাওয়ার পরও জিয়া পরিবার দেশের মানুষের কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে বিভিন্ন দেশে। গড়েছে অবৈধ সম্পদ।

আজকের রিপোর্টে থাকবে, জিয়া পরিবারের দেশের বাইরে অর্জিত নানা অবৈধ সম্পদের অজানা হিসাব।কোন কোন তথ্যমতে, দুবাইসহ ১২টি দেশে জিয়া পরিবারের অবৈধ সম্পদ আছে। সাথে আছে বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার ও দুবাইতে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি। সৌদি আরবে মার্কেটসহ অন্যান্য সম্পত্তি।

বেগম খালেদা জিয়া, তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর, টিভি চ্যানেলের সাক্ষাতকারে বলেছেন, জিয়াউর রহমান তাদের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারেন নি। তাই তারেক রহমান তার বাবার জামা-কাপড় ছোট করে গায়ে দিতো। তারেক রহমান কি এখনো জামা-কাপড় ছোট করে পরিধান করে? আসলে প্রয়োজন হয় না। কারণ দুবাইসহ ১২টি দেশে তাদের রয়েছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় রয়েছে জিয়া পরিবারের নাম। এই তালিকায় নাম আসার পর বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো এসব তথ্যের প্রমাণ পায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে জিয়া পরিবারের মোট প্রাক্কলিত সম্পদের পরিমাণ ১২০ কোটি দিরহাম। বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য প্রায় দুই হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়েই জিয়া পরিবারের সব সম্পদ। প্রমাণিত তথ্য অনুযায়ী, মুহাম্মাদ বিন রশীদ সিটি দুবাইতে বিলাসবহুল সোবাহ হার্টল্যান্ডে বেগম জিয়ার প্রয়াত ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নামে একের অধিক বিলাসবহুল বাড়ি আছে। দুবাই ওয়াটার ক্যানেলের কাছে যে দুটি বাড়ি আছে তার আনুমানিক মূল্য পাঁচ কোটি দিরহাম। বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে, প্রতিটি বাড়ির মূল্য প্রায় ১১৫ কোটি টাকা। জিয়া পরিবারের বিদেশে অর্জিত অবৈধ সম্পদ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ছেলেদের সম্পদ পাওয়া গেছে।বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার ও দুবাইতে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি এবং সৌদি আরবে মার্কেটসহ অন্যান্য সম্পত্তির বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’
এখানেই শেষ না, চতুর-চালাক তারেক রহমান মেয়ে জাইমা রহমানের নামে রিগ্যাল টাওয়ারে একটি এপার্টমেন্ট কিনে রেখেছে। এই সম্পদ বিএনপি শাসন আমল ২০০৪ সালে কেনা। তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ২০০৬ সালে তা রেজিস্ট্রি করানো হয়। আরও তথ্য অনুযায়ী, মেয়ের নামে তারেক জিয়া আরও অনেক সম্পদ কিনেছেন।
জিয়া পরিবারের সন্তানরা বিদেশে এতো টাকা পাচার করলো, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৪ দশমিক ৮৮ সিঙ্গাপুর ডলার সে দেশ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এরকম নানাভাবে অর্থ পাচারের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে, আইনের আওতায় আনা হবে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রতিটি সম্পদের একজন অভিভাবকের নামে উল্লেখ রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার নাম।
এইসব সম্পদ কেনা হয়েছে ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে। যা বলতে গেলে বিএনপি শাসন আমলেই কেনা।
জিয়া পরিবারের আরও সম্পদের খবর গোপন রয়েছে। কারণ অনেক দেশ এখন বিনিয়োগকারীদের পরিচয় গোপন করে রাখছে।
বিএনপি শাসন আমলে লাখো মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করতো। আর জিয়া পরিবার গরিবদের মাঝে ছাগল বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করে অবৈধ সম্পদ ও টাকার পাহাড় গড়েছে। এসব টাকা কার? দেশের টাকা। দশের টাকা। জনগণের টাকা।
শীঘ্রই একাদশ সংসদ নির্বাচন। আমরা কি জিয়া পরিবারকে আরেকবার সুযোগ দিবো? যাতে আরও দেশের টাকা বিদেশে পাচার করতে পারে। যাতে দেশকে বিক্রি করে দিতে পারে। দেশের মানুষকে উন্নয়নের নামে বোকা বানাতে পারে।

About The Author
Ahmed pabel
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment