Now Reading
জাভা স্প্যারো এবং কিছু কথা



জাভা স্প্যারো এবং কিছু কথা

নাগরিক যান্ত্রিকতা থেকে কিছুক্ষনের জন্য প্রকৃতির ছোয়া পেতে অনেকেই ঘরের কোনে বিভিন্ন প্রানী পালন করে থাকেন। একুরিয়ামে মাছ থেকে শুরু করে খরগোশ, গিনিপিগ, পাখি সহ বিভিন্ন প্রাণী।
তবে পাখিপ্রেমীদের কাছে জাভা স্প্যারো একটি আকর্ষনীয় নাম, যদিও এর আবাসস্থল ইন্দোনেশিয়ার জাভা, বালি এবং বাউয়িন অঞ্চলে তবুও এরা খুব ভালোভাবেই আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। জাভা স্প্যারোর বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Lonchura oryzivora. তবে এরা বর্হিবিশ্বে জাভা ফিঞ্চ নামে ও পরিচিত।

পাখিপ্রেমীদের কাছে এদের জনপ্রিয়তার অন্যতম একটি কারন হচ্ছে এদের আকৃতি। এরা আকারে মাত্র ১৫-১৭ সেন্টিমিটার। গায়ের রঙ এ সাধারণত সাদা, ধুসর, কালো বর্ণের মিশ্রন থাকে। এদের ঠোঁট কালো-গোলাপী এবং অনেকটাই মোটা ইংরেজি অক্ষর V এর ন্যায় । পা গোলাপি বর্ণের ও চোখের অক্ষিগোলক লাল বর্ণের । চঞ্চল প্রকৃতির এ পাখিগুলো সাধারণত দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, তবে আলাদাভাবে খাচায় ও পালন করা সম্ভব।

জাভা স্প্যারোর মধ্যে স্ত্রী এবং পুরুষ সনাক্তকরন খুবই কস্টসাধ্য। তবে জাভা পুরুষ পাখিগুলো ১-২ মাস বয়স থেকে গান করে । তাই খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করে পুরুষ পাখিটিকে সনাক্ত করে তার পায়ে রিং পরানোর মধ্যমে স্ত্রী-পুরুষ আলাদা করে চিহ্নিত করা যেতে পারে ।

জাভা সাধারণত প্রজননে অংশগ্রহণ করে ফেব্রুয়ারি থেকে অগাস্ট অর্থাৎ আট মাস। এ আট মাসের মধ্যে এরা তিনবার থেকে চারবার ডিম দেয়। প্রতিদিন সকালে একটি করে প্রতিবারে জাভা ৪-৬ টি ডিম দেয় (অনেকক্ষেত্রে ৮ টি পর্যন্ত দিয়ে থাকে) । এরা নিজেদের ডিমে নিজেরাই “তা” দেয় এবং খুব ভালো পেরেন্টিক আচরণ করে। টানা ১৪-১৮ দিন তা দেবার পর বাচ্চা ফুটে বের হয় । এক মাসের মধ্যেই বাচ্চাগুলো উড়তে শিখে যায়। বাচ্চা পাখিদের বয়স ছয় থেকে সাত মাস হলে এরা প্রজনন এ অংশগ্রহণ করে এবং একই জীবনচক্র অনুসরণ করে ।

খাচায় জাভা পালনের জন্য প্রয়োজন (প্রতিজোড়া হিসাবে) এক ফুটের একটি খাচা, একটি মাটির হাড়ি,একটি পানির পাত্র, একটি খাবারের পাত্র । খাচার উপরিভাগে বসার জন্য একটি দন্ড দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া একপাশে দড়ি ঝুলিয়ে দেয়া যেতে পারে । ডিম পাড়বার মাটির পাত্রে খড় নারিকেলের খোসার চূর্ন অংশ ইত্যাদি দিয়ে বাসা তৈরী করে দেওয়া যেতে পারে। এরা সকালে রোদ পোহাতে পছন্দ করে, এজন্য খাচাটির সেটাপ এমন জায়গায় করা উচিৎ যেখানে পর্যাপ্ত রোদ,আলো,বাতাসের চলাচল আছে।

জাভা বিভিন্ন ধারনের শস্যদানা খেয়ে থাকে যেমন ধান,সরিষা,ডাল,গম,বাদাম ইত্যাদি। তবে এসব ছাড়াও সিদ্ধ ডিমের কুসুম, দুধ, মধু, পাউরুটি, বিস্কুটের গুড়ো, ডিমের খোসা চুর্ণ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। তবে প্রজননের কথা মাথায় রেখে চর্বি জাতীয় খাদ্য কম খাওয়ানোই শ্রেয়।

ঠিকমত যত্নবান হলে এদের সাধারণত তেমন রোগবালাই হয় না। তবে শীতকালে যাতে খাচায় বাতাস কম এবং সকালে ও দুপুরে ভালো রোদ পায় এমন জায়গায় খাচার জন্য নির্বাচন করতে হবে নাহলে এদের ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয় তবে আক্রান্ত হলে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক খাওয়াতে হবে। তাছাড়া ভাইরাস থেকে জাভাকে দূরে রাখতে এসিডক খাদ্য যেমন লেবুররস / ভিনেগার ইত্যাদি দুই থেকে ৩ ফোটা খাবার পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।

বর্তমান বাংলাদেশে এ সৌখিন পাখিপ্রেমীদের কাছে এ পাখির জনপ্রিয়তা অনেক বেশী হওয়ায় জাভা বানিজ্যিকভাবে পালন করে ব্যাপক লাভবান হওয়া সম্ভব। জাভা পাখি হতে পারে একটি অতিরিক্ত উপার্জনের মাধ্যম। প্রতিজোড়া প্রাপ্তবয়স্ক জাভা স্প্যারোর বাজারমূল্য বর্তমানে ১৫০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত বসতবাড়ির ছাদে কিংবা ফাকা জায়গায় অথবা বড় কোন বারান্দায় ১৫-২০ জোড়া জাভা পালনের মাধ্যমে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাভ করা সম্ভব।
এভাবেই জাভা স্প্যারো পালনের মধ্যমে আপনি মানসিক অনন্দের সাথে সাথে অর্থিকভাবে ও লাভবান হতে পারেন ।

Comments
Leave a response

You must log in to post a comment