Now Reading
রহস্যে ঘেরা (ডেড সি)মৃত সাগরের অজানা কিছু তথ্য!



রহস্যে ঘেরা (ডেড সি)মৃত সাগরের অজানা কিছু তথ্য!

জর্ডানের ডেড সি নাম নিশ্চয় জানেন। ডেড সি বা মৃত সাগর এর নামটি হয়তো আপনাদের কাছে অদ্ভুত লাগছে । নামটা শুনলেই নিজের মধ্যে কৌতূহল জন্মায়। তাহলে জেনে নেয়া যাক ডেড সি সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।
ডেড সি এর একটি বিস্ময়কর বিষয় হল এর পানিতে কন প্রাণী বাঁচে না এবং কন মানুষ ডুবেও না বরং ভেসে থাকে। কি অদ্ভুত কেউ ডুবেও না আর কন প্রাণী বাঁচেও না, কি এমন রহস্য আছে ডেড সি তে। আর কেনইবা এর নাম ডেড সি বা মৃত সাগর দেওয়া হল।

আসুন তবে জেনে নেয়া যাক এর সম্পর্কে কিছু তথ্য।

আমরা জানি মৃত সাগরে কেউ ডুবে না। আমরা এও জানি মৃত সাগরে লবণের পরিমাণ বেশি। যার কারণে এর ঘনত্বও বেশি। এর ঘনত্ব ১.২৪ লিটার। লবণে রয়েছে ১৪% ক্যালসিয়াম, ৪% পটাশিয়াম, ৫০% ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড এবং ৩০% সোডিয়াম যা পানির প্লাবতা বৃদ্ধি করে। এই প্লাবতার কারণেই মৃত সাগরে মানুষ বা অন্য কিছু ডুবে যায় না।। এটি পৃথিবীর গভীরতম লবণাক্ত পানির হ্রদ। এর গভীরতা ১০০৪ ফুট বা ৩০৬ মিটার। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর সমুদ্রতটের ব্যবধান ১৪০১ ফুট বা ৪২৭ মিটার যা পৃথিবীর সর্বনিম্ন সমুদ্রতট। যদিও এটিকে মৃত সাগর বা ডেড সি বলা হয়ে থাকে।

কিন্তু অবাক করা বিষয় হল এটি আসলে কোন সাগরই নয়। মূলত মৃত সাগর একটি লবণাক্ত পানির হ্রদ। কিন্তু যেখানে কাস্পিয়ান সাগরের উপহ্রদ গ্যারাবোগেযকলের লবনাক্ততা ৩৫%, জিবুতির আসাল হ্রদের ৩৪.৮%, এন্টার্কটিকার ভান্ডা হ্রদের ৩৫%, এবং এন্টার্কটিকার ডন জুয়ান হ্রদের লবনাক্ততা ৪৪% সেখানে মৃত সাগরের পানিতে লবণের পরিমাণ শতকরা ৩৩.৭ ভাগ। এর দৈর্ঘ্য ৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৯ মাইল বা ১৫ কিলোমিটার।এটি অন্যান্য সাগরের তুলনায় ৯.৬ গুণ লবণাক্ত যার মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং অন্যান্য উপাদানের মিশ্রণ। তাই এর অপর নাম সল্ট সি। তীব্র লবনাক্ততার কারনে এ সাগরে কন প্রানির অস্তিত্ব নেই। অতিরিক্ত লবণ পানিকে প্রাণী বসবাসের অনুপযোগী করে তুলেছে।মূলত প্রাণীর অস্তিত্বহীনতার কারণেই এই হ্রদের নামকরণ করা হয় ডেড সি বা মৃত সাগর। যদিও ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। বর্ষাকালে পানির পরিমাণ বাড়লে লবনাক্ততা হ্রাস পায়। তখন কিছু ব্যাকটেরিয়ার জন্য বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। খাবারের লবণের তুলনায় মৃত সাগরের লবণের স্বাদ খুবই তিক্ত যা চর্মরোগ নিরাময়ে খুবই কার্যকরী। সোরিয়াসিস, সেলুলাইট, ব্রণ, ফুস্কুড়ি, খুশকি দূর করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরের ব্যথা ও মানসিক চাপ কমাতেও এই লবণের জুড়ি নেই।

এই হ্রদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এটি পিচ উৎপাদনের অন্যতম আধার। মৃত সাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে পিচ নির্গত হয় যা মিশরের মমি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতো। অস্বাভাবিক রকমের পিচ উৎপাদন ক্ষমতার জন্য গ্রীকরা এর নাম দিয়েছিল লেক অফ এসফালটাইটস বা পিচের হ্রদ। এর পানি কখনও হ্রদের বাইরে প্রবাহিত হয় না। এর তিনদিকেই ঘেরাও করা। একটি মাত্র পথ খোলা আছে যেখান দিয়ে অন্যান্য নদী বা ঝরনা থেকে পানি প্রবেশ করতে পারে কিন্তু বের হতে পারে না। এই হ্রদটিই হচ্ছে পটাশিয়ামের প্রাথমিক উৎস যা সারা পৃথিবীর কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। মৃত সাগরে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫০ মিলিলিটারেরও কম। স্বল্প বৃষ্টিপাত ও তপ্ত আবহাওয়ার কারণে এর জলবায়ু সারাবছরই শুষ্ক থাকে।

মৃত সাগর হচ্ছে একটি প্রাগৈতিহাসিক হ্রদ। ২ থেকে ৩.৭ মিলিয়ন বছর পূর্বেই এর ইতিহাসের সূচনা হয়। হ্রদটি ইসরায়েল, পশ্চিমতীর ও জর্ডানের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত।

এখানকার খনিজ ও লবণ সুগন্ধি ও প্রসাধনী তৈরীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাণী ক্লিওপেট্রা, যিনি সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত ছিলেন তিনি নিজেও রূপচর্চার ক্ষেত্র হিসেবে মৃত সাগরকেই বেছে নিয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে মৃত সাগরের তীরেই প্রসাধনী কারখানা গড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এখানকার আবহাওয়া অনেক রোগ সারিয়ে তোলার জন্য তো ভালোই, এই হ্রদের তীর সূর্যস্নান করার জন্যও যাকে বলে একেবারে মোক্ষম জায়গা। তাই জায়গাটি দিন দিক।

About The Author
Nurul Kawsar
Nurul Kawsar
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment