Now Reading
সমুদ্রের মাঝে এক বিস্ময়কর প্রাণী নীল তিমি



সমুদ্রের মাঝে এক বিস্ময়কর প্রাণী নীল তিমি

নীল তিমি আসলে অনেক অনেক বড় একটি প্রাণী। পানিতে এবং স্থলে দুটিতেই নীল তিমি সবচেয়ে বড়। এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত প্রাণী ছিল এবং আছে নীল তিমিই সবচাইতে বড়। এই প্রানিটি লম্বায় ৩০ মিটার বা ৯৮ ফুট এবং ওজনে প্রায় ১৮০ টন বা এর বেশিও হতে পারে। যা প্রায় ১৮০০০ (আঠারো হাজার) জন মানুষের ওজনের যোগফল। নীল তিমির জিব্বহার ওজন একটি হাতির সমগ্র ওজনের চেয়েও বেশি। এর হৃদযন্ত্রের ওজন প্রায় ২০০০ পাউন্ড। পুরুষ নীল তিমির চেয়ে স্ত্রী নীল তিমি কিছুটা লম্বা হয়। এরা সাধারনত ৭০ থেকে ৯০ বছর বাঁচে।

পানির নিচে এদের আসলে নীল লাগে, কিন্তু পানির উপরে যখন ভেসে উঠে তখন দেখা যায় এর শরীরে বিবর্ণ নীল রঙের ছোপ। এর চামড়া সিদ্ধ ডিমের মত মসৃণ এবং পিচ্ছিল।

নীল তিমিরা জীবনের বেশিরভাগ সময়ই আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে মহাসাগরে কাটায়। ওদের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন ক্রিল। একটি পূর্ণবয়স্ক নীলতিমি দৈনিক প্রায় ৮ টন ক্রিল খেতে পারে।

প্রাণীজগতে প্রাণীদের মধ্যে নীল তিমি সবচেয়ে জোরে শব্দ করতে পারে। নীলতিমির হুইসেলের শব্দ প্রায় ১৮৮ ডেসিবল। সাগরে নীল তিমির কণ্ঠস্বর ৫০০ কিলোমিটার দূর থেকেও শুনা যায়।

নীল তিমি এক নিঃশ্বাসে প্রায় ৩০ মিনিট থাকতে পারে। এরা ঘন্টায় প্রায় ৮ কিলোমিটার বা তার চেয়ে বেশি সাঁতার কাটতে পারে এবং তার গতিসীমা ৩০ কিলোমিটার উঠতে সক্ষম।

এরা স্তন্যপায়ী প্রানী। নারী নীল তিমি ৩ বছরে মাত্র একটি বাচ্চা দেয় এবং এবং গরবকালিন সময় ১১ থেকে ১২ মাস। একটি বাচ্চা তিমি তার মায়ের স্তন থেকে দৈনিক প্রায় ৬০০ লিটার দুধ পান করে। পৃথিবীর মাঝে নীলতিমিই দ্রুত বর্ধনশীল প্রানী।

সমুদ্রের গভীরে এদের বসবাস, মাঝে মাঝে এরা মধ্যবর্তী অঞ্চলেও সাঁতার কাটতে আসে।
দিনের মধ্যভাগে ঘুমানো নীলতিমির অভ্যাস।

About The Author
Nurul Kawsar
Nurul Kawsar
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment