Now Reading
এরিয়া ৫১(Restricted Area)



এরিয়া ৫১(Restricted Area)

বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষ অনেক রহস্যের জাল উম্মেচন করেছে। শুধু পৃথিবী নয় মহাকাশের বিভিন্ন রহস্য প্রতিনিয়ত মানুষ উম্মেচন করে চলেছে। কিন্তু পৃথিবীতে এমন কিছু জায়গা বা স্থান রয়েছে , যার রহস্য এখনও উম্মেচন হয়নি। এই পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান রয়েছে, যেসব স্থানে মানুষ চাইলেও যেতে পারে না। এইসব স্থান নিয়ে মানুষের কৌতূহলের অভাব নেই।

এই রকম একটি জায়গার নাম এরিয়া ৫১। এই পৃথিবীর রহস্যময় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এরিয়া ৫১ এর আরও কিছু নাম রয়েছে যেমন ড্রিমল্যান্ড, প্যারাডাইস র‍্যাঞ্চ, হোম বেজ এবং ওয়াটারটাউন। এরিয়া ৫১ যুক্তরাষ্ট্রের নেভেডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান। কিন্তু ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই স্থানটির কথা স্বীকার করে নি। ১৯৮৮ সালে রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইট থেকে প্রথম বারের মত এরিয়া ৫১ এর একটি ছবি নেওয়া হয়। তারপর পৃথিবীর মানুষ এই স্থানটির ছবি দেখতে পায়, এবং মানুষ এই স্থানটি নিয়ে কৌতূহলী হয়ে পরে।

এরিয়া ৫১ প্রায় ২৬,০০০ বর্গ কিঃমিঃ জায়গা নিয়ে অবস্থিত। আর এই এরিয়ার ভিতরে কোন মানুষ বা যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। এই এরিয়ার চারপাশে টহল দেয় কালো চশমা এবং কালো কোট পরা বিশেষ নিরাপত্তা কর্মী। এরিয়া ৫১ এর উপর দিয়ে কোন সামরিক বা বেসামরিক বিমান বা অন্য কিছু চলাচল করতে পারেনা। এরিয়া ৫১ এর প্রবেশ পথে লিখা আছে এলাকায় প্রবেশ করার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করা হবে। অনেক কৌতূহলী মানুষ এরিয়া ৫১ এর ভিতর প্রবেশ করতে গিয়ে মারা গেছেন।

২০১৩ সালে প্রথম বারের মত আমেরিকার সরকার এরিয়া ৫১ এর কথা স্বীকার করে। CIA বা মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার একটি নথি থেকে প্রথম জানা যায়, এখানে U2 বিমানের পরীক্ষা মূলক উড্ডয়ন করা হয়েছিল। ধারনা করা হয় এখানে আমেরিকার পারমাণবিক বোমারও পরীক্ষা করা হয়েছিল।

অনেকে বলে থাকেন তারা এরিয়া ৫১ এ ফ্লাইং সসার দেখতে পেয়েছিলেন। এবং এমন কিছু বিমান দেখতে পেয়েছেন যেগুলা দেখতে অদ্ভুত আর যুদ্ধ বিমান থেকেও বেশি গতি সম্পন্ন।
একজন দাবি করেন তিনি এরিয়া ৫১ এ পদার্থ বিজ্ঞানি ছিলেন। তার নাম বব লাজার। তিনি দাবি করেন সেই জায়গাটি এতটাই গোপনীয় যে, ঐ প্রজেক্টে তিনি এবং তার অন্যান্য সহকর্মীদের যে বাসে করে নেয়া হয়েছিলো, তার জানালাগুলো বন্ধ ছিলো যাতে করে তারা যাতায়াতের রাস্তা মনে রাখতে না পারেন। এস-৪ এর বিমান ছাউনিতে লাজার এমন সব ফ্লাইং সসার দেখতে পেয়েছিলেন, যেগুলো কোনোভাবেই পৃথিবীতে তৈরি হতে পারে না বলে দাবী লাজারের। সেগুলোর শক্তি সরবরাহ করা হচ্ছিলো এন্টিম্যাটার রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে, জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিলো লালচে-কমলা বর্ণের একটি পদার্থ যার নাম ‘এলিমেন্ট-১১৫’। সসারটি এতটাই শক্তিশালী গ্র্যাভিটি ওয়েভ তৈরি করছিলো যে, সেটার উদ্দেশ্যে কোনো গলফ বল ছুঁড়ে মারলে সেটাও ফিরে আসছিলো!

লাজারের মতে, সামরিক খাতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করছিলো ইউএফও (আনআইডেন্টিফাইড ফ্লায়িং অবজেক্ট)! দুর্ভাগ্য বলতে হবে লাজারের। একবার বন্ধুদের নিয়ে তিনি লুকিয়ে সেসব সসারের টেস্ট ফ্লাইট দেখতে গিয়ে ধরা পড়ে যান। এরপরই তার চাকরি চলে যায়। তিনি আরও বলেন এখানে এমন কিছু পদার্থ নিয়ে গবেষণা করা হয়, যেগুলা আবিস্কারের ঘোষণা এখনও পৃথিবীতে দেওয়া হয়নি। এবং বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে ভিন গ্রহের প্রানিদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

অনেকের মতে চাঁদে অবতরণে ঘটনাটি মিথ্যা এবং এই ঘটনাটি ভিডিও করা হয় এরিয়া ৫১ এ। এ ধারণাটির প্রবক্তা কনস্পিরেসি লেখক বিল কেসিং। তার মতে, ষাটের দশকের শেষের দিকে নাসার বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন যে, তীব্র তেজষ্ক্রিয়তার জন্য চাঁদের বুকে অবতরণ করা কোনো মানুষ আর বেঁচে ফিরতে পারবে না! কিন্তু এতদিন ধরে চালানো এই প্রোগ্রামও বাতিল করা সম্ভব ছিলো না। তাই তারা আশ্রয় নেয় ইতিহাসের অন্যতম সেরা জালিয়াতির! এজন্য অ্যাপোলো-১১ জনগণের দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাওয়ার পরই গোপন একটি মিলিটারি এয়ারক্রাফটে করে ক্রুদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো পূর্বপ্রস্তুত একটি মুভি স্টেজে! এর কিছুদিন পরে সেখানেই স্থাপন করা সব ক্যামেরার সামনে অভিনয় করেন নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন। এরপর সেই ভিডিওই বিশ্বজুড়ে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয় নাসার পক্ষ থেকে। আর এই চলচিত্রে ব্যয় হয়েছিল ২৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

এরিয়া ৫১ এ যে আসলে কী আছে সেই সম্পর্কে জনগণের ধারণা বেশ কম। এই কম ধারণা থেকেই পরবর্তীতে জন্ম নিয়েছে নানা কল্পনার শাখা-প্রশাখা।

এই যেমন মাটির তলার বাঙ্কারটির কথা বলা যায়। কোনো কোনো কন্সপিরেসি থিওরিস্টের মতে, এরিয়া ৫১ এ মাটির নিচে বিশাল বাঙ্কার গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। আর সেখানেও রয়েছে প্রযুক্তির অত্যাধুনিক আশীর্বাদপুষ্ট বিমানের আনাগোনা। সেই বিমানগুলোকে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয় যাতে করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও সেগুলোর কোনো হদিস কেউ না পায়। কারো মতে সেই বাঙ্কারগুলো ৪০ তলা ভবনের সমান উঁচু! আবারো বব লাজারের শরণাপন্ন হওয়া লাগে বাঙ্কারের কথায়। তার মতে, এলিয়েনদের সেই স্পেসক্রাফটগুলো লুকিয়ে রাখা হয় পাহাড়ের নিচে। সেই বাঙ্কারের প্রবেশপথে রয়েছে বিশাল বড় দরজা যার ডিজাইন আশেপাশের মাটির মতোই করা। ফলে দূর থেকে দেখে একে পাহাড়ের অংশই ভাববে যে কেউ!

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment