Now Reading
পৃথিবীর বুকে বিষাক্ত ১০টি সাপ



পৃথিবীর বুকে বিষাক্ত ১০টি সাপ

সাপ দেখলে ভয় পান না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছেন। আবার অনেকের কাছে সাপ হচ্ছে পৃথিবীর সব থেকে ভয়ঙ্কর প্রাণী। সাপ দেখলে গা শিরশির করে উঠবেই। সাপের বৈজ্ঞানিক নাম হল Animalia।  এই সাপের মধ্যে কিছু আছে বিষহীন, আবার কিছু আছে খুবই বিষাক্ত। পৃথিবীর সব থেকে বিষধর সাপ কোনগুলো?  চলুন তবে জেনে নেয়া যাক –

 

১। ইনল্যান্ড তাইপেন
স্থল তাইপেন পৃথিবীর বিষধর সাপদের মধ্যে শীর্ষে। স্থল তাইপেনের বসবাস অস্ট্রেলিয়ায়। এ সাপ খুব হিংস্র হিসেবে পরিচিত। এদের বৈজ্ঞানিক নাম হল (Oxyuranus microlepidotus) এরা ক্ষুদ্র ও আশযুক্তহয়। গোখরা সাপ এর চেয়ে এর বিষ ৫০ গুন বেশি বিষাক্ত।

২। টাইগার সাপ
এ সাপের ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস। এ সাপও বিষধর সাপদের মধ্যে অন্যতম। এরা বিশেষ করে উপকুলীয় স্থান বেশি পছন্দ করে। টাইগার সাপ ের বৈজ্ঞানিক নাম হল (Notechis scutatus). এরা লম্বায় ৭ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এই সাপ বেশি হিংস্র নয়।

৩। কালো টাইগার সাপ
এরা সাধারনত দেড় মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। Black Tiger snake শুধুমাত্র তাসমানিয়া দ্বীপ এ পাওয়া যায়। এদের বৈজ্ঞানিক নাম (Notechis ater) এ সাপ ২০ থেকে ৩০ টি ডিম দেয়। এদের খাবার হচ্ছে ছোট স্তন্যপায়ী, ব্যাঙ ইত্যাদি। শুকনা জায়গা এদের পছন্দ।

৪।কোস্টাল/ উপকূলীয় তাইপেন
Coastal Snake এর বৈজ্ঞানিক নাম (Oxyuranus scutellatus) এরা বড় আকারের সাপ হয়,তারা সাধারনত ৪.৯ থেকে ৬.৬ পর্যন্ত লম্বা হয়। এদের দাঁতও বেশ লম্বা ও তীক্ষ্ণ হয়। এদের খাদ্য হচ্ছে ব্যাঙ, ইদুর,অ ছোট স্তন্যপায়ীরা। এদের শরীরের রঙ ক্রিম-হলুদ হয়।

৫। পূর্বাঞ্চলীয় বাদামী সাপ
Eastern Brown Snake ঘনবসতী অঞ্চলে এরা থাকতে পছন্দ করে। ইদুরের লোভে এরা প্রায় বের হয়। অস্ট্রিলিয়ার পূর্বাঞ্চলে এদের বসবাস। এর বিষ মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র ধ্বংস করে দেয়। এদের বৈজ্ঞানিক নাম হল (Pseudonaja textiles)

৬। চঞ্চু সামদ্রিক সাপ
Beaked Sea Snake আরেক নাম হল Hook-Nosed sea Snake. এর বৈজ্ঞানিক নাম হল (Enhydrina schistose). ইহা সামদ্রিক সাপদের মধ্যে অন্যতম বিষধর প্রজাতী। এদের নাকের কারনে এমন নাম দেয়া হয়েছে।
তারা দিনে এবং রাতে সজাগ থাকে। তারা ১০০ মিটার পর্যন্ত ডুবতে সক্ষম হয় এবং টানা ৫ ঘন্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। এধরনের সাপ প্রায় সাড়ে ৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়।

৭। বাদামী দাগের সাপ
এর বৈজ্ঞানিক নাম হল (Pseudonaja affinis). এদের গায়ে সাধারনত বাদামী , কমলা ও হলুদ রঙের ও হতে পারে। এরা ঘাষে কালো মাটিতে বসবাস করে। এ প্রজাতি দিনে গভীর মাটিতে আশ্রয় দ্বারা সক্রিয় হয়। তাদের খাদ্য হচ্ছে ব্যাঙ , সরীসৃপ ও ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী। এরা সাধারনত লম্বায় ২ মিটার পর্যন্ত হয়। এরা সাধারনত মানুষদের আক্রমন করেনা।

৮। মৃত অ্যাডার
Deth Adder এর বজ্ঞানিক নাম হল (Acanthophis antarcticus) এরা সাধারনত ১.৪ মিটার বা ৪ ফুট ৭ ইঞ্চি হয়। এদের মাথা ছোট হয়। এরা গাছের আড়ালে শিকারের জন্য লুকিয়ে থাকে। সাপ্টি দেখতে যতটা শান্ত মনে হয় ততটা শান্ত না সামনে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে আপনার উপর আক্রমণ করতে পারে।

৯। চ্যাপেল দ্বীপের কালো টাইগার সাপ
বিষধর এ সাপের বৈজ্ঞানিক নাম হল (Notechis serventyi) এরা টাইগার সাপের অন্য এক প্রজাতি। এরা লম্বায় ৬ ফুটের ও বেশি হয়। সাপটি খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে।

১০। গোয়ার্ডার
Gwardar পুরো অস্ট্রেলিয়া জুরেই এদের বসবাস। এদের বৈজ্ঞানিক নাম হল (Pseudonaja nuchalis) এর আরেক নাম হল পশ্চিমীয় বাদামী সাপ। এরা খুব দুর্ধর্ষ ও আক্রমণাত্মক। এদের বিষে একই সাথে রক্ত ও মস্তিষ্কের কার্যকরীতা নষ্ট করে দেয়।

About The Author
Nurul Kawsar
Nurul Kawsar
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment