Now Reading
পাশ্চাত্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের কালজয়ী দুই বিজ্ঞানী



পাশ্চাত্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের কালজয়ী দুই বিজ্ঞানী

হিপোক্রাটিসঃ

ওষুধ বিজ্ঞানের ইতিহাসে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে গ্রিস ও রোমের চিকিৎসকদের অবদান সুবেদিত। তাদের মধ্যে হিপক্রাটিস এর অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৪২৫ সালে গ্রিসের কস দ্বীপে জন্ম গ্রহন করেন। আর ক্রমে হয়ে উঠেন এক প্রভাবশালী ব্যাক্তিত্ত।
হিপক্রাটিস পেরিক্লেসের যুগে একজন প্রাচিন গ্রিক চিকিৎসক ছিলেন, যাকে চিকিতসাশাস্ত্রের ইতিহাসে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিদের মধ্যে একজন গণ্য করা হয়। হিপোক্রাটিসকে প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে গণ্য করা হয় যিনি বিশ্বাস করতেন যে, কুসংস্কার বা ঈশ্বর থেকে নয় বরং প্রাকৃতিক উপায়ে রোগের প্রকোপ ঘটে।


তার শৈলী দর্শন ও ধর্মীও রীতিনীতি থেকে পৃথক করে চিকিৎসাশাস্ত্রকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে প্রাচীন গ্রিক চিকিতসাশাস্ত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।
হিপোক্রাটিস এতোই বিখ্যাত যে তাঁকে ইউরোপ মহাদেশের বিজ্ঞানীরা “ফাদার অব মেডিসিন” (Father of Medicine) নামে অবিহিত করেন।
হিপোক্রাটিস নামটি ছিল তৎকালীন গ্রিসের খুব সাধারন একটি নাম। এ জন্য ইতিহাসবিদ্গন তার পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে তাঁকে “হিপোক্রাটিস অব কস” অথবা “হিপোক্রাটিস দ্যা গ্রেট” নামে অভিহিত করেন।
তাঁর লিখিত বইয়ের নাম “ম্যাটেরিয়া মেডিকো”। বইটিতে অসংখ্য গাছ-গাছড়াজাত ওষুধ, সেগুলো সেবনের প্রক্রিয়া, সেবনের বিধি ও মাত্রা ইত্যাদি রয়েছে। তাঁর এ বই তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পর পর্যন্ত মেডিক্যাল কলেজগুলোতে পড়ানো হতো। তিনি চিকিৎসকদের নৈতিকতার ওপর খুব জোর দিতেন। যে কারণে নবীন চিকিৎসকদের পেশায় প্রবেশকালে নৈতিকতার শপথ নেয়ার জন্য “হিপোক্রাটিক ওথ” রচনা করেন, যা আজো পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে অনুসরণ করা হয়।

 

ডিওসকোরাইডিসঃ

 

ডিওসকোরাইডিস ৩০ খ্রিস্টাব্দে তুরস্কে জন্ম গ্রহন করেন। এ মহান বিজ্ঞানী তুরুস্কে জন্ম গ্রহন করলেও পরবর্তীতে তিনি রোমে চলে যান। এবং সেখানে বিখ্যাত সম্রাট নিরোর প্রধান চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত হন। সম্রাট ও সেনাবাহিনীর সাথে তিনি বিভিন্ন দেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের চাইতে তিনি ভ্রমণরত সেইসব দেশের চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে তথ্য বিনিময়ে তিনি আগ্রহী ছিলেন। মুলত তিনি মানব সেবায় বেশি মনোনিবেশ করেন যার ফলে আজো মেডিক্যালের ছাত্ররা বিশ্ব জয়ী এই গবেষকের নীতি অনুসরণ করতে হয়।

ডিওসকোরাইডিস চিকিৎসাশাস্ত্রের উপর লেখা বইটির নাম “দ্যা ম্যাটেরিয়া মেডিকো”। তিনি বিভিন্ন দেশে ঘুরে সহস্রাধিক গাছ-গাছড়ার ছবি এঁকে এগুলোর ওষুধি গুনাগুনের কথা লিপিবদ্ধ করেন এই বইতে।
পরবর্তীতে তাঁর এ গ্রন্থ ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতে অনেক গুলো ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
তাঁর মৃত্যুর দেড় হাজার (১৫০০) বছর পর পর্যন্ত এই বইটি মেডিক্যাল ছাত্রদের পাঠ্য ছিল।

About The Author
Nurul Kawsar
Nurul Kawsar
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment