Now Reading
বাংলাদেশ কি একটি উন্নত রাষ্ট্র?



বাংলাদেশ কি একটি উন্নত রাষ্ট্র?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের অনেক সূচক আছে । অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক – অনেকগুলো দিক দিয়েই একটা রাষ্ট্রকে বিচার করা যায়, সেটি উন্নত, উন্নয়নশীল না অনুন্নত ।
.

আমি এইটা মাপি পাবলিক টয়লেট দিয়ে ।

.

প্রতিবার ঈদে বাড়িতে যাবার সময়, সব বাসই কোন না কোন রোডসাইড রেস্টুরেন্টে স্টপেজ নেয় । জলখাবার সারার সাথে সাথে আর একটি কাজ যেটা করতে হয় সেটা হল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়া । আর এই সাড়া দিতে গিড়ে অসাড় হয়েছেন, এমন লোকের সংখ্যা সম্ভবত কম নয় ।
.

আপনারা কি কখনো বাংলাদেশের কোন পাবলিক টয়লেটে গিয়েছেন ?
.

আপনার মনে হতে পারে, দাড়ায়ে, বসে, উল্টায়ে পাল্টায়ে যতভাবে সম্ভব মানুষ হাগুমুতু করেছে, শুধুমাত্র যে জায়গায় করার কথা ছিলো, সেই জায়গাটা বাদে । তো আপনি সিঙ্গেল শট ফায়ার করুন, কিংবা ব্রাশ ফায়ার করুন আমার সমস্যা নাই, কিন্তু আপনার গোলা বারুদের রূপে – বর্ণে – গন্ধে যদি আমি আহত হয়ে যাই, যদি কমোডের পানিতে আপনার ফেলে যাওয়া টাইটানিক ভাসতে দেখে আমার বমি আসে, তখন অপু ডিশওয়াশের ভাষায় বলিতে ইচ্ছা করে,’ এই উন্নত দ্যাশ নিয়া আমি এখন কোথায় যাবো ?

এরই মাঝে কিছু লোক টয়লেটে আসে গোসলের প্রিপারেশন নিয়ে । সাধারণত রোডসাইড রেস্টুরেন্টগুলোতে এদের বেশি দেখা যায় । বাস থেকে নেমেই তারা সবজি দিয়া পরোটার অর্ডার দেন, তারপরে তাদের এ্যাটিচুড থাকে এইরাম – ‘পরোটার টাকা শালা হাইগা উসুল কইরালাবাম’ । এহেন কার্য সম্পাদনের পরে তারা ক্ষান্ত হন না, বেসিনে গিয়ে যে সীনের সৃষ্টি করেন তাহা দেখলে মনে হয় এই দৃশ্য না দেখলেই ভালো হত ।
.

আমি নিজের দেখা উদাহরণ দেই । প্রথমে তারা হন্য হয়ে সাবান খুজেন। এরপর শতব্যবহৃত সেই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে, মুখ পরিষ্কার করেন , দাত পরিষ্কার করেন, কান পরিষ্কার করেন । এরপর তাদের প্রচেষ্টা চলে হাত দিয়ে আলজিহবা টাচ করার, এহেন পর্যায়ে তারা ‘হাক থু ! হাক থুহ্ !’ জাতীয় শব্দ করেন, কেউ কেউ শেফার্ড কুকুরের ন্যায় গরগর ঘরঘর শব্দও করেন । তারপরে তারা সমস্ত শক্তি দিয়া ফুসফুস হতে সর্বশেষবিন্দু শ্লেষ্মা বের করে সেটা সশব্দে বেসিনে ফেলেন । তারপর পকেট থিকা একবচ্ছর না ধোয়া একটা রুমাল বের করে সেটা দিয়ে বগল সাফ করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হন ।
.

আই মিন, ‘সিরিয়াসলি ?’


.

পাবলিক টয়লেটগুলোর চারপাশে দেখা যায় কিছু কিছু লোক চোরের মত ভাবভঙ্গিতে পাথরের টুকরো বা টিস্যু নিয়ে ঘুরঘুর করছে । তাদের হাত পাজামার ভেতরে, তারা মাঝে মাঝেই উঠবস করছে, গলা খাখাড়ি দিচ্ছে । তারা নিজে সাফ হবার পরে টিস্যু বা পাথরখন্ডটি ফেলছেন মেঝেতে । কর্ম সম্পাদনের পরে তাদের পরিষ্কার হবার যে প্রয়াশ, তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা, কিন্তু এর সামান্যতম ইফোর্টও যদি তারা পানি ঢালার উপরে দিতেন, হাতের নোংরা টিস্যুটা ডাস্টবিনে অথবা প্যানে ফেলার উপরে দিতেন, তাহলে আমাকে কষ্ট করে এই বিশাল লেখাটি লিখতে হত না ।
.

আপনি হাগু করেন, ভালো কথা । আমরা সবাই করি । কিন্তু হাগুমুতু দিয়ে টয়লেটের দেয়ালে চিত্রকর্ম করার তো কোন মানে হয় না ভাই । আপনার পরিবার আপনাকে খাইতে শিখাইসে, জামাকাপড় পড়তে শিখাইসে, চুল আচড়াইতে শিখাইসে, কেউ কি কোনদিন হাগতে শিখায়নি ?
.

আপনাদের এহেন কর্মে জীবন দু:সহ হয় আপনার পরে যিনি টয়লেট ব্যবহার করবেন তার । আপনার শব্দে, গন্ধে, চিত্রে তাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় বিকল হয়ে যায় । আপনার কাজ তো শেষ, আরাম করে বেরিয়ে একটা বিড়ি ধরাবেন, কিন্তু সেই ভদ্রলোকদের আপনি একটা ভয়াবহ এক্সপিরিয়েন্স দিয়া গেলেন, হলোকাস্টের মত, চাইলেই তারা সেইটা সহজে ভুলতে পারবে না ।
.

আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, এইসব লোকদের জন্য সরকারকর্তৃক একটা সার্টিফায়েড কোর্স থাকা উচিত । ‘ ‘কিভাবে হাগু ও হিসু করতে হয় এবং তৎপরবর্তী পরিষ্কারকরণ’ । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে । বাথরুমের দেয়ালের ভয়াবহ চিত্রকর্মগুলির কথা বলছিনা, সেটা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার ।
.

সমস্যাটা কোথায় জানেন ? আমরা শুধু নিজেদের কথাই ভাবি । এটা ভাবিনা, পরেরজন আমার কারণে অসুবিধায় পড়বে । এটা ভাবিনা, আমি যে কষ্ট করে বাথরুম ব্যবহার করছি, একটু চেষ্টা করি আমার পরেরজন যাতে এই কষ্টটা না পায় । শুধু তাই নয়, আমরা আমাদের সন্তানদেরও এই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা শিক্ষা দিতে ভুলে যাই ।

 

About The Author
Sharmin Boby
Sharmin Boby
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment