ছোট গল্প

শেষ বিকালের গল্প

ভালোবাসা…
প্রতিটি মানুষের জীবনেই এমন একটা গল্প থাকে। কারো গল্প পূর্ণতা পায় আবার কারো গল্প অপূর্ণ থেকে যায়। রাশেদ আর অর্পার গল্প টিক এমন অপূর্ণ ভাবেই শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। কখনও যে আবার তাদের মাঝে কথা হবে তা হয়ত তারা দুজনের কেউই কখনই ভাবেনি ।কিন্তু সময়ের গতিপথে দুজনেই আজ আবার মুখোমুখি। হয়তো বিধাতার লেখনিতে এমনটাই ছিল তাইতো অনেক বছর পর অর্পার বেস্টফ্রেন্ড আর রাশেদের Colleague এর বিয়ের মাধ্যমে আজ দুজন আবার মুখোমুখি।

নীল শাড়ী পড়ে রাসেদের সামনে সেই অর্পা সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু পালটে গেলেও অর্পার জন্য রাসেদের অনুভূতি জেনো সেই আগের মতই আছে। হয়তো সময় পালটায় সম্পর্ক গুলোও ফিকে হয়ে যায় কিন্তু ভালবাসা গুলো থেকে যায় পুরনো অপরিবর্তনশীল। অর্পা ও তাকিয়ে রাসেদের দিকে কে জানে তারও হয়ত একই অনুভূতি হচ্ছে কিংবা অনেক দিন পর দেখে হয়ত অস্বস্তিতে পড়ে গেছে হতেই পারে।

সময় পালটে গেলেও আর্পা টিক জেনো আগের মতই আছে । সেই চেনা মুখ চেনা অভ্যাস গুলো রাসেদ কে সেই পুরনো দিন গুলো তে ফিরিয়ে নিয়ে জায় ।যে দিন গুলো ছিল রাসেদ এর কাছে অনেক মূল্যবান। যে দিন গুলর কথা রাসেদ হয়ত ভুল তে পারবে না কখনই ।অনেক বার তো ভুলতে চেষ্টা করেও পারেনি।আচ্ছা আর্পা কি পেরেছে সেই দিনগুলো কে ভুলতে ।যে দিন গুলো ছিল আমাদের অনেক একান্তের। একটিবারে জন্য ও কি মনে পরে না পুরনো সেই দিন গুলর কথা।

পুরো অনুষ্ঠান রাসেদ অর্পার দিকে তাকিয়ে জেনো পুরনো দিন গুলতে ফিরে পেয়েছে । মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে অর্পার দিকে হয়ত নিয়তির নিয়মে এটাই শেষ দেখা । বহু দিনের অনেক জমা কথা আজ হামেশায় বলতে ইচ্ছা করছে অর্পাকে কিন্তু কথা বলা কি টিক হবে যেখানে সম্পর্ক টাই আজ আর নেই।
কিন্তু অনেক বলতে ইচ্ছা করছে ।

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে শেষ বিকালে অর্পা দাড়িয়ে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ রাশেদ পাশে থেকে কেমন আছ তুমি?
আর্পা- ভালো, ..তুমি
রাশেদ -ভালো… তুমি ঠিক আগের মতোই আছ ফেসবুকের সেই ফরমালিটি মেন্টাইন করার মতনই প্রশ্ন করলে।
আর্পা-হুম,আমাদের কথা তো ফেসবুক থেকেই শুরু হয়েছিল তাই না বলো …?
রাশেদ- (একটু থমকে) হুম, তা ঠিক আর শেষও সেখানেই ।
আর্পা-অনেক কিছুর শেষ ইচ্ছা না থাকলেও করতে হয়।
রাশেদ – হয়ত, তুমিই ঠিক… সামনে একটা মামা অনেক ভালো ফুচকা বিক্রি করে যাবে..? তোমায় অনেকবার খাওয়াতে চেয়েও খাওয়ানো হয়নি।
অর্পা- (একটু হেসে) তোমার তো কখনও সময়ই হতো না দেখা করার। (বলে দুজনে হাটতে লাগল। হাটতে হাটতে
রাশেদ -শাড়ি পড়ে তোমায় অনেক সুন্দর লাগছে। আগে তো পড়তে না…?
অর্পা-হুম…তুমিও তো আগে চশমা পড়তে না।
রাশেদ- হ্যাঁ, কম্পিউটারে কাজ করতে করতে চশমাটা এখন সঙ্গী। তুমি এখন কি করছ? অর্পা- এইতো কলেজের English এর অধ্যাপিকা।
রাশেদ-বাহ…ভাল জীবন বিজ্ঞান নিয়ে পড়লেও তবে নিজের ইচ্ছাকেই পূরণ করতে পেরেছ শেষ অব্দি আচ্ছা মূর্খ কি এখনও ভুল English বলে…?
আর্পা- (রাশেদ এর দিকে তাকিয়ে) এখনও মনে আছে তোমার .. ও এখন একটা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে।
[মূর্খ আর্পার মামা তো ভাই। প্রকৃত পক্ষে ওর নাম আবির।আবির ছোটবেলায় ভুল ইংরেজী বলতো বলে অর্পা মূর্খ বলে ডাকত আবির কে ] কথা বলতে বলতে ওরা ফুচকার দোকানের কাছে চলে গেল। দুজনে দুটো পেলেটে ফুচকা খেতে খেতে হঠাৎ অর্পার কাশি উঠতেই রাশেদ তড়িঘড়ি করে পানি খাওয়াতে গিয়ে থামকে গিয়ে হাতে গ্লাসটা দিল যেন কোন সীমারেখা বেধঁ দিয়েছে কেও অর্পা অবাক হয়ে রাশেদের দিকে তাকিয়ে। মুহূর্তের মধ্যেই রাশেদ চুপচাপ ফুচকার টাকা দিয়ে হাটতে লাগল।

হঠাৎ অর্পা বলল- ছুটকির বিয়েতে তুমি আসো নি কেন..?
রাশেদ – কাজের অনেক চাপ ছিল তখন। তবে বিয়ের সাজে কেমন লাগছিল আমার বোন কে? অর্পা – এতো বোন বোন করছ তো নিজে এসে দেখলেই তো পারতে।
রাশেদ- তা হয়ত পারতাম তবে আমার উপস্থিতিতে তুমিও অনেক অসস্তিবোধ করতে।
অর্পা-(একটু থমকে ক্ষণদীর্ঘ শ্বাস ফেলে) হয়তো …তবে ছুটকি অনেক খুশি হতো।
রাশেদ- হুম…. অনেক রাগও করেছিল আমার বোনটা তাই না। খুব অভিমানী।
অর্পা- হুম…তুমি তো কখনও ওর দোষ..ই দেখতে না।
রাশেদ- আমার বোন তো কখনও কোন দোষ করতোই না, আমার মিষ্টি বোন।
অর্পা- হুম তোমার বোন তো মহান। কথা বলতে বলতে রাশেদের চোখে অর্পার হাতের কালো দাগটা লক্ষ্য করে বলল-তুমি এখনও বেখেয়ালী ভাবে কাজ করো তাই না।
অর্পা- কোথায়…না তো…? রাশেদ- রুটি করতে গিয়ে তোমার হাতের ছেকার দাগটা এখনও আছে। অর্পা-( হাতের দিকে তাকিয়ে বলল ও এই টা হয়তো দাগটার কথা নিজেই ভুলে গেছিল)
রাশেদ – হুম

একটু পড়েই সন্ধ্যা নেমে আসবে
অর্পা- আমার বাড়ি ফেরা দরকার। রাশেদ নিশ্চুপ সম্মতি জানিয়ে একটা রিকশা ডেকে দিল অর্পাকে আর যাবার আগে অর্পাকে বলল ভালো থেকো নিজের যত্ন নিয়। অনেক বছরের জমে থাকা অনেক কথাই রাশেদ আজ অর্পাকে বললেও শেষ বেলার আগেও বলা হয়নি অর্পা এখনও আমি তোমার অপেক্ষাতেই আছি আলতো করে বলা হয়নি ভালবাসি … অনেক বেশী ভালবাসি

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ভুতের গল্প – পোড়ামুখো

Mahmud Hasan

আমার উনি

Rihanoor Islam Protik

শেষ বেলায় প্রার্থনা

Sarmin Sultana

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy