Now Reading
ঘরোয়া সহিংসতা



ঘরোয়া সহিংসতা

পেন্সিল নামক এক গ্রুপের এক পোস্টে এবং এর কমেন্টগুলোতে যেভাবে লোকজন বউয়ের হাতে খুন্তির বাড়ি মারা, চুল উঁচা করে বাঁধলে বাইদ্যানি ডাকা, ছোটো করলে অলক্ষ্মী ডাকা, বাপ মা বংশ তুলে কথা বলা এইসব ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এবং সেটা সহ্য করে টিকে থাকাকে গ্লোরিফাই করছে সেটা দেখে আসলেই চিন্তায় পড়ে গেলাম মেয়েরে বাঙালি ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারবো কিনা। মানে, ইনারাই তো গিয়া ভবিষ্যতে মেয়ের শ্বশুর শাশুড়ি হবেন, মেয়েরে খুন্তি দিয়ে বাড়ি মারবেন, উঁচা করে চুল বাঁধলে বাইদ্যানি বলবেন, চুল ছোটো করলে অলক্ষ্মী বলবেন, আবার এইটাও আশা করবেন যে আমার আদর যত্নে পালা মাইয়া উনাদের এইসব অত্যাচার সহ্য করবে। যাই হোক, মেয়েরে এই শিক্ষা দিচ্ছি যেন হাতে কেউ খুন্তির বাড়ি দিলে হাত মোচড়াইয়া সকেট থেকে খুলে নিয়ে চলে আসে। বাকিটা আমি দেখবো।

আর বাংলাদেশের যেসব নারী বিবাহিত, বিয়ের পরে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার, অথবা ভবিষ্যতে বিয়ে করতে যাচ্ছেন, দুইটা নাম্বার মুখস্থ করে রাখেন। একটা হলো ১০৯, যেটা স্পেশালি নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত কেইস হ্যান্ডেল করার জন্য। আরেকটা হলো ৯৯৯, ইমার্জেন্সি কেইস হ্যান্ডেল করার জন্য। কেউ হাতে খুন্তির বাড়ি, পিঠে লাঠির বাড়ি, মুখে জুতার বাড়ি দিলে সাথে সাথে ফোন করে ধরায়ে দেন। সেই সাথে লোক্যাল থানার ওসির নাম্বার জেনে রাখেন। ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে রাখেন। লাঠির বাড়ি, খুন্তির বাড়ি সহ্য করে সংসার টিকায়ে রাখার রোমান্টিসিজম্ পড়তে ভালো লাগে, নিজের জীবনে আসলে তখন বুঝবেন ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স আসলে কী জিনিস। সেই সাথে আপারা, স্বাবলম্বী হন। নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াইতে শিখেন। লাঠির বাড়ি, খুন্তির বাড়ি সহ্য করে সংসার “টিকায়ে রাখা” কোনো কৃতিত্বের বিষয় না। যে আপনার হাতে আজকে খুন্তির বাড়ি মারবে, কাল সে আপনার মাথায় শিল পাটা দিয়ে বাড়ি মেরে আপনাকে মেরে ফেলতেও পারে।

এটা একটা সত্য ঘটনা।

এক বড়ো ভাইয়ের মুখ থেকে শোনা। উনাদের গ্রামের একজন অবস্থাপন্ন ব্যক্তি ছিলেন, যার অভ্যাস ছিল বাসার অল্পবয়সী সাহায্যকারী মেয়েগুলোকে ধর্ষণ করা, আর মেয়েগুলো প্রেগনেন্ট হয়ে গেলে খরচ টরচ দিয়ে গর্ভপাত করতে বাধ্য করা। সে বিয়া করছে দুইটা। বাসায় বউ, বাচ্চা সবই মজুত। কিন্তু ওই যে স্বভাব? সেইটা যাবে কোথায়! যাহোক, আলুর দোষ ছাড়াও ওই লোকের আরো অনেক বদ স্বভাব ছিল। অন্যের জায়গা জমি দখল থেকে শুরু করে গ্রাম্য পলিটিক্স এর মাধ্যমে অমুকরে গ্রামছাড়া করো, অমুক মাইয়ারে দোররা মারো, এইসব কুকাম করতে তার জুড়ি ছিল না।

সমস্যা দেখা দিলো লোকটা মরার পরে। মৃত্যুর পরে কোনো একটা অনুষ্ঠান আছে যেখানে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে ভালো ভালো কথা বলা লাগে। সেটা জানাজার কথা বলছিল নাকি কুলখানির কথা বলছিল সেই বড়ো ভাই এটা আমি ভুলে গেছি। এখন ঘটনা হলো, এই লোকের এমন কোনো ভালো অভ্যাস কেউ মনে করতে পারতেছে না যে একটু মানসম্মান রক্ষা পায়। শেষ পর্যন্ত এক লোক উঠে দাঁড়ায়ে বললো, “অমুক সাহেব হাতখোলা মানুষ ছিলেন। নিজে যেমন লাল পানি খাইতেন, বন্ধুবান্ধবদেরও হাত খুলে খাওয়াইছেন। এছাড়া প্রতি ঈদে ভাইবোনদের কাপড় দিছেন। ভইনের সাথে ঝগড়া করায় বড়ো বউরে একবার চ্যালা কাঠ দিয়া পিটাইছিলেন”। মানে বুঝলেন তো বিষয়টা? সে যে এতগুলা মেয়েরে রেপ করেছে, তার মরার পরে এইটা আর কেউ বলে না। একটা লম্পট রেপিস্ট হইয়া গেল বন্ধুবৎসল, ভাইবোনবৎসল হাজী মুহম্মদ মহসিন।

তো বাচ্চারা, এই ঘটনা থেকে আমরা কী শিখলাম? বাঙালি মরার পরে নিতান্ত বদমাইশ তিলে খচ্চররেও দেবদূত বা ফেরেশতা বানায়ে দেয়।

প্রতিবাদ ছাড়া শাস্তি হয়না । প্রতিবাদ হউক ঘরে বাহিরে ।

About The Author
Sharmin Boby
Sharmin Boby
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment