কারেন্ট ইস্যু

বিএনপি-জামাত অনুসারীদের অনলাইন উন্মাদনার পেছনের কারন কি?

আপনি কি এর মধ্যে কোনভব্যা সরকারের পক্ষ নিয়ে ২/৪ টি কথা বলেছেন? অথবা, সরকারের পহিটিভ কোন স্টেপস নিয়ে কিছু শেয়ার করেছেন ফেসবুকে? অথবা যেকোন ধরনের ভাল কোন সংবাদ, দেশীয় অর্জন বা দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনে এধরনের কোন কন্টেন্টের কমেন্ট বক্স চেক করে দেখেছেন? বিশেষ করে ফেসবুকে? তাহলে আপনি ইতিমধ্যে জানেন আমি কিসের কথা বলছি। বাংলাদেশের অনলাইন সম্পূর্নরূপে দূষিত হয়ে যাচ্ছে অথবা গেছে এক সময়ের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তাদের বন্ধু সংঘঠন জামাত-শিবিরের অনুসারীদের কীবোর্ড দূষণে। ফেসবুকের নানাবিধ কন্টেন্টের কমেন্ট বক্স দেখলে তাদের দৌরাত্ম্য দেখতে পাওয়া যায়। বছর খানেক আগে এদের কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ থাকত শুধু মাত্র ফেইক একাউন্ট এবং পেজ খুলে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে। কিন্তু পরে বাংলাদেশী সাইবার যোদ্ধাদের কারণে তেমন সুবিধা করতে না পেরে তারা বেছে নিয়েছে মানুষের কমেন্ট বক্সকে – নানা ধরনের গুজব-প্রোপাগান্ডা আর অকথ্য-বিকৃত ভাষার কমেন্ট।

এরা কারা? সবসময় খেয়াল করবেন, একই রকমের একটি কমেন্ট শত শত মানুষ পোস্ট করছে। শত মানুষের কমেন্ট এক রকম হয় কিভাবে তাই না? ব্যাপারটা সহজ – হাজার হাজার ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট খুলে বসে থাকে এরা এরপর কোন কন্টেন্ট আসলে সব ভুয়া একাউন্ট গুলো দিয়ে কমেন্ট দিতে থাকে। সাধারণত যেকোন একটি ভাইরাল পোস্টের পঠন ৫/৬ টি কমেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ন কারণ প্রথম দিকের কমেন্টগুলো সবসময় ডিসপ্লে করে। কোন কন্টেন্ট সেটি ভিডিও হোক আর নিউজ হোক, পোস্ট করার সাথে সাথেই কন্টেন্ট না দেখে এরা প্রথমে কিছু কমেন্ট দিয়ে দেয় এরপর ভুয়া কিছু আইডি দিয়ে কমেন্টগুলতে লাইক দিয়ে রাখে যারে কমেন্টটা সবার উপড়ে থাকে আর এই কমেন্টে থাকে কোন ধরনের গুজব, গালি বা হুমকি। এগুলোকে একরকম অনলাইন সন্ত্রাসও বলা যায়। এদের কার্যকলাপ দেখলে আপনার অনেক সময় হবে এরা বদ্ধ উন্মাদ। আসলে তা না। এরা আসলে পেইড ওয়ার্কার যাদের কাজই হল এটি। কিছুদিন আগে এদের মধ্য থেকে একটা গ্রুপ আবার অনলাইনে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল কারণ এভাবে অনলাইনে কাজ করে এরা কোন টাকা পয়সা পায়নি তাই।

কিন্তু সব যে ভুয়া তাও না। কিন্তু আসল বিএনপি জামাত ইনুসারী আছে যারা প্রতিনিয়ত হুমকি, গালি আর বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। কেন এদের এই করুন হাল? অনেকেই বলছেন, হতাশা থেকেই তাদের এই অবস্থা। গত দশ বছরে বাংলাদেশে বিএনপি-জামাতের জনপ্রিয়তা এতটাই হ্রাস পেয়েছে যে বিএনপির বেশীরভাগ নেতা এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা চরমভাবে হতাশ। হত্যা, রাহাজানি, সন্ত্রাস, পেট্রোল সন্তাস, গ্রেনেড হামলা, নেতাদের অসংলগ্ন কথাবার্তা, বিএনপির নেত্রীর অশিক্ষিত হওয়া ইত্যাদি। এই লিস্ট টানলে আসলে অনেক বড় হয়ে যাবে। মাঠ পর্যায়ে রাজনীতি করতে গিয়ে এরা জনগণের তেমন কোন সাপোর্ট না পেয়ে বেছে নিয়েছে অনলাইনকে – নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর জন্য। আর তাদের জন্য থাকে নানা অংকের বাজেট এবং হয়তো অনেক ক্ষেত্রে কোন ধরনের পেমেন্ট করা হয় না কথা দিয়েও। মূল কথা, তারা প্রচণ্ড হতাশ। প্রচণ্ড হতাশাটাই রূপ নেই আক্রমান্তক নানা ধরনের কমেন্ট এবং গুজবে এবং এক পর্যায়ে তারা হয়ে যায় অনলাইন সন্ত্রাসী এবং করে বসে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড।

এদের কার্যক্রম এখান আর রাজনৈতিক পোস্টগুলোতে সীমাবদ্ধ নেই। একটি ধর্ষনের খবর প্রকাশ হলে সেখানে গিয়ে তারা কমেন্ট করে “খুব ভাল হয়েছে, মেয়ের চলাফেরা খারাপ ছিল” অথবা আরও খারাপ কিছু। দেশ বরেণ্য ব্যাক্তিদের এমনকি বিদেশী সেলিব্রিটিদের কাছে দেশের নাম ডোবাতে তাদের পোস্টের নানা কমেন্ট দেয় এরা। এধরনের মানুষগুলোকে আবার পাকিস্তানের নানা পেজে খুব পজিটিভভাবে একটিভ অবস্থায় দেখতে পাবেন। বেশীরভাগ কমেন্টেই এরা বলে বাংলাদেশ পাকিস্তান আবার এক হয়ে যাকম তাহলেই তারা খুশী – অনেকটা সরাসরি। বাংলাদেশ কেন এখন আর পাকিস্তান না এটা নিয়ে তাদের ক্ষোভের শেষ নেই। বিকৃত রুচির এসব মানুষের প্রোফাইল ঘাঁটলে তেমন কিছু পাওয়া যায় না বেগম খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া আর জিয়াউর রহমানের ছবি ছাড়া। তাদের বাস্তবতার অন্ধত্ব তাদের সাইকোপ্যাথে পরিণত করেছে। এদের একটি কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়, এরা আসলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে। তাই এখন প্রলাপ বকছে।

তাহলে কি করা যায় এদের? আসলে অনেকেই ধরা খাচ্ছে পুলিশের কাছে কিন্তু বাস্তবে এদের নিয়ে কিছু করার নেই। এত বড় একটা সাইকোপ্যাথের দলের মানসিক চিকিৎসা করানো বাংলাদেশের মত দেশের পক্ষে কি সম্ভব? এদের পুনর্বাসনের জন্য ব্যবস্থা নিলেও আসলে অনেক খরচ পরে যাবে? তো কি হতে পারে এদের সমাধান। আমার মনে হয় খুব সহজ – কোনভাবে এদের ইন্টারনেট এক্সেসটা বন্ধ করে দিতে হবে। মানসিক ভারসাম্যহীন বিকৃত এসব মানুষদের ইন্টারনেটে থাকার আসলে তেমন কোন অধিকার নেই। এরা সম্ভবত কোন ধরনের ফেসবুক গ্রুপের ভেতর একাত্মা হয়ে আছে। খুঁজে বের করতে হবে এসব লুকিয়ে থাকা ফেসবুক গ্রুপ গুলো। এরপর ব্যান করতে হবে সরকারী ভাবে অথবা গ্রুপগুলোকে মুছে দিতে ফেসবুক সার্ভার থেকে তাদের সহায়তা নিয়ে। বাংলাদেশে এখন অনেক ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয় এই ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে।

পরিশেষে, আশা করি মানসিক ভারসামাই হীন হতাশ এই বিএনপি-জামাতের অনুসারীরা খুব তাড়াতাড়ি সুপথ্যে ফিরে এসে দেশী অনলাইন পরিবেশকে দূষণ মুক্ত করবে।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

একজন চেস্টার বেনিংটন এর মৃত্যু আর তার কারন

Kazi Mohammad Arafat Rahaman

হঠাৎ করেই বেড়ে গেল বাংলাদেশ থেকে ভারতে জ্বালানি তেল পাচার!

MP Comrade

ঢাকার নাইট-ক্লাব ও ডিজে-পার্টি গুলোতে কি হচ্ছে এসব? প্রশাসন কেন নীরব?

Ferdous Sagar zFs

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy