ভ্রমন কাহিনী

থাইল্যান্ডের অপর নাম শ্যামদেশ ।

শ্যামদেশ কেন যে এমন নাম, তার কারণ জানা নেই । এই দেশকে সাদা হাতির দেশও বলা হয় । দেশটিকে সহজেই তিনভাগে ভাগ করে ফেলা যায় । উত্তরে জঙ্গল, পাহাড় আর প্যাগোডা , দক্ষিণে গভীর নীল পানির সমুদ্র,দ্বীপ আর প্যাগোডা এবং মাঝখানে ‘কনক্রিট জঙ্গল’ ব্যাংকক – ট্যুরিস্ট, প্রস্টিটিউট আর প্যাগোডা ।

আমি দুইবছর আগে একবার শ্যামদেশে এসেছিলাম । অদ্ভুত সুন্দর দ্বীপগুলির উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ঠিক করে রেখেছিলাম যে এখানে অবশ্যই একবার আসতে হবে । বাকেট লিস্টের একটা নাম কমানোর জন্য সযুথী ( যুথীসহ ) চলে এলাম।

প্রথমত, প্রচুর ভিড়, অসংখ্য মানুষ – এরকম জায়গা আমার ভীষণ অপছন্দ । বাঙালি থাইল্যান্ড বলতে বোঝে তিনটা জায়গা – ব্যাংকক, পাতায়া আর ফুকেটের বাংলা রোড । লিস্ট থেকে ব্যাংকক বাদ দেয়ার উপায় নাই, সুতরাং বাকি দুইটা বাদ দেয়া হল । অনেক তথ্য উপাত্ত গবেষণার পর অদ্ভুত সুন্দর একটা ছোট্ট শহর খুজে বের করা হল, যেখানে ট্যুরিস্টদের ভীড় নেই । চিয়াং রাই ।

চিয়াং রাই অনেকটা ভূটানের মত – ছোট্ট, ছিমছাম, পরিষ্কার এবং সুন্দর । ট্যুরিস্টরা নর্থ থাইল্যান্ডে যেসব জিনিস খুজে সবগুলোই আছে, আরো আছে অসম্ভব সুন্দর তিনটা টেম্পল – হোয়াইট টেম্পল, ব্লূ টেম্পল আর ব্ল্যাক টেম্পল । আমি দেশে ও বিদেশে অসংখ্য প্রার্থণালয় দেখা মানুষ, আমাকে মুগ্ধ করা সহজ নয় । কিন্তু আমি যখন থাইল্যান্ডে দেখার মত জিনিস খুজছিলাম, এই তিনটা টেম্পলের ছবি দেখে মনে মনে ঠিক করে ফেলেছিলাম – এখানে না আসলেই নয় ।

চিয়াং রাই শহরের মাঝখানে রয়েছে সোনালী একটা বিশাল কারুকাজ করা ঘড়ি – বিখ্যাত ক্লক টাওয়ার । পুরো শহরটা এই টাওয়ার ঘিরেই । টাওয়ারের মোটামুটি দুই কিলোমিটারের মধ্যে আছে সাতটা টেম্পল । সকালবেলা ব্রেকফাস্ট সারলাম থাও সুয়ে ( বিখ্যাত উত্তর শ্যামদেশীয় স্যুপ ), পেপের সালাদ আর ফ্রেশ ম্যাঙ্গো স্মুদি দিয়ে । এতো মজা পেলাম খেয়ে, যে মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছি, প্রতিদিন একবার হলেও এই জিনিস খেতে হবে ।

খাওয়ার পর্ব শেষ হলে স্কটিশ এক ভদ্রলোকের মোটরসাইকেল দোকান থেকে ভাড়া নিয়ে নিলাম স্কুটি । কোন শহর ভ্রমণের সবচেয়ে সহজ এবং কম খরচের পদ্ধতি এটা । হাতে গুগল ম্যাপ নিয়ে শুধু জায়গাগুলো খুজে বের করা ।

সর্বপ্রথমে যাওয়া হল বিখ্যাত ব্লু টেম্পলে ।

টেম্পলটা যে কতোখানি সুন্দর, এটা বলে বোঝানো খুবই কষ্টকর । কোন এন্ট্রি ফি নাই, কোন কড়াকড়ি নাই, পুলিশের অত্যাচার নেই । টেম্পলের মাঝখানের পুরো দেয়াল জুয়ে অসম্ভব সুন্দর ফ্রেসকো, তৈলচিত্র আর বুদ্ধের বিশাল একটা সাদা মূর্তি । অনেকক্ষণ করে প্রাণভরে সৌন্দর্য গিললাম । টেম্পলের সামনে নারকেলের আইসক্রিম খেলাম গোগ্রাসে, তারপর রওনা হলাম ব্ল্যাক টেম্পলের দিকে । মাত্র দশ মিনিট বাকি থাকায় ব্ল্যাক টেম্পলে ঢোকা হল না, আমরা রাওনা দিলাম আরও নর্থে, লম্বা ঘাড়ের রিং পরা আদিবাসীদের গ্রাম দেখার জন্য ।
যাওয়ার পথে সারি সারি পাহাড়ে সূর্যাস্ত দেখলাম, সবুজ মাঠের মাঝখানে একটু পর পর ঝকঝকে সোনালী প্যাগোডা । বিশাল রাস্তা, কিন্তু যানবাহন অনেক কম । আদিবাসীর মূলগ্রামে ঢোকা হল না, কিন্তু তাদের বাজার থেকে স্যুভেনির নিলাম । তারপর হটস্প্রিং দেখতে আরও উত্তরে চলে এলাম ।

‘হটস্প্রিং’ জিনিসটা হচ্ছে হঠাৎ মাটি ফুড়েঁ গরম পানি অথবা ফোয়ারা বেরিয়ে আসা । এই পানি প্রচন্ডরকম রিফ্রেশিং । পৃথিবীর কিছু কিছু শহরে এমনটা পাওয়া যায়, আমি বুদাপেস্টে দেখেছিলাম, ইস্তাম্বুলে আছে আর এখানে পেলাম । আমার পৌছাতে পৌছাতে প্রায় রাত হয়ে এল, সাথে এক্সট্রা কাপড় না থাকায় গোসল করতে পারলাম না, উষ্ণ, আঠালো পানিয়ে পা ডুবিয়ে ছিলাম আধাঘন্টা । তারপর একটানে শহরে, তারপর ডিনার সেরে হোটেলে আসার সময় নাইট বাজারে একটু শপিং, থাই নৃত্য দেখা এবং আগামীকালের ডিনার ভেন্যু নির্বাচন ।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ঘুরে আসুন বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত মাত্র ৫১০ টাকায়

Rohit Khan fzs

ক্ষয়িষ্ণু,মুমূর্ষু গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ

Raihan Tanvir

স্বর্গ ভ্রমণ

Suraiya Tumpa

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy