Now Reading
স্বচ্ছ কাঁচের মত প্রাণী



স্বচ্ছ কাঁচের মত প্রাণী

আমাদের এই পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রকার প্রাণী বসবাস করে। আর বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রকার নতুন নতুন প্রজাতীর প্রাণীর সন্ধান আবিষ্কার করে চলেছে। আমরা সাধারণ মানুষ, বিজ্ঞান এর আবিষ্কার করা অনেক প্রকার প্রাণী সম্পর্কে জানি, আবার অনেক প্রকার প্রাণী সম্পর্কে জানি না। তবে আমার ধারনা, আমরা সাধারণ মানুষ বেশিরভাগ বিজ্ঞানর সন্ধান করা প্রাণী সম্পর্কে আমাদের অজানা। আমাদের এই পৃথিবীতে অনেক প্রাণী আছে যারা সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে, পৃথিবীতে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে, প্রাণী গুলো নিজেদের শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তন করেছে। তাই আজকে আমি এমন কিছু প্রাণী নিয়ে আলোচনা করবো, যেই প্রাণী গুলো সময়ের সাথে সাথে তারা, নিজেদের শরীর এমন পরিবর্তন করেছে, এখন এই সব প্রাণী গুলোকে দেখলে মনে হয় তারা স্বচ্ছ কাঁচের তৈরি।

১। কাঁচ ব্যাঙ ( Glass frogs ) : আমরা সকলই ব্যাঙ নামের এই প্রাণীটিকে চিনি। এবং আমরা আমাদের বাংলাদেশেই বিভিন্ন প্রকার ব্যাঙ দেখে থাকি। আজকে আমি আপনাদের এমনই একটা ব্যাঙ এর কথা বলবো, যার নাম কাঁচ ব্যাঙ বা ( Glass frogs )। এই ব্যাঙটা দেখতে এতটাই স্বচ্ছ যে এর শরীরের ভিতরে যা কিছু আছে তা স্বচ্ছ দেখা যায়। দেখে মনে হবে বাইরে থেকেই আপনারা ওর দেহের ভিতরের সবকিছু, যেমন হৃৎপিণ্ড, যকৃত ইত্যাদি দেখে ফেলেছেন। এজন্যই এই ব্যাঙ এর নাম কাঁচ ব্যাঙ ( Glass frogs ) । এই ব্যাঙের পেটের দিকের চামরা খুবই স্বচ্ছ হয়ে থাকে। এরা আমাদের দেশের গেছো ব্যাঙ এর মতো এবং এরা খুব ছোট হয়ে থাকে মাত্র এক থেকে তিন ইঞ্চি।

২। কাঁচপাখা প্রজাপতি(Glasewinger Butterfly): প্রজাপতি সবারই পচ্ছন্দের। আমাদের দেশে বিভিন্ন রং এর প্রজাপতি দেখা যায়। আমি যেই প্রজাপতির কথা আজ বলবো তার নাম কাঁচপাখা প্রজাপতি(Glasewinger Butterfly)। নামেই যখন কাচপাখা এদের ডানা তো স্বচ্ছ হবেই। এদের শিরার কোষগুলো কাচের মতো স্বচ্ছ। এদের বিচরণ মধ্য আমেরিকা থেকে মেক্সিকো পর্যন্ত। এদের একটা স্প্যানিশ নাম আছে, espejitos যার অর্থ হল ‘ছোট আয়না’। এদের পাখার চারদিকে অস্বচ্ছ একটা সীমানা আছে তাই রক্ষে, নাহলে ওদের তো দেখাই যেত না। প্রাপ্তবয়স্ক প্রজাপতির দল অনেক সময় দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেয় নতুন বাসস্থানের খোঁজে।

৩।কাঁচ অক্টোপাস ( Glass octopus ): ছদ্মবেশ ধারণে প্রাণী জগতে সবচেয়ে কৌশলী হলো অক্টোপাস। সেকেন্ডের দশ ভাগের তিন ভাগ সময়ে নিজের শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে এরা। নিজেকে অদৃশ্য করার ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাণির একটি গ্লাস অক্টোপাস (ভিত্রেলেলোনেলা রিচার্ডি)। প্রাণিটি তার জেলির মতো নরম-আঠালো শরীরকে প্রয়োজনে ৪৫ সেন্টিমিটার (১৮ ইঞ্চি) পর্যন্ত প্রসারিত করে। বিপদ দেখলে এটি পরিপাকতন্ত্র এবং চোখ ও এর অপটিক স্নায়ু ছাড়া সম্পূর্ণ শরীরটিকে শত্রুদের কাছে প্রায় অদৃশ্য করে ফেলে। এদের চামড়া স্বচ্ছ হওয়ায় বিজ্ঞানীরা বের করতে পেরেছেন যে, এদের চোখের অপটিক লোবে অনেক লম্বা লম্বা স্নায়ুতন্তু আছে। তাই এরা অনেক প্রখর দৃষ্টিশক্তি অধিকারী হয়। এদের দেখতে হলে তোমার দৃষ্টিও অনেক স্বচ্ছ হতে হবে।

৪। কাচের স্কুইড ( Glass squid ): কাচের স্কুইডের প্রায় ৬০টির মতো প্রজাতি আছে। এদের অনেকগুলোই পুরোপুরিভাবে স্বচ্ছ। এরা জীবনের অধিকাংশ সময় কাটায় অগভীর পানিতে, যেখানে সূর্যালোক পাওয়া যায়। গ্লাস অক্টোপাসের মতোই গ্লাস স্কুইডের দেহও কাচের মতো স্বচ্ছ। এছাড়াও প্রাণীটি বিশেষভাবে আলো প্রতিসরণ করতে পারে, তাই শিকারি প্রাণী থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে থাকে গভীর সাগরের প্রাণীটি। ক্রান্তীয় সাগরের ২০০ মিটার গভীরে এদের বসবাস। সবচেয়ে বিস্ময়কর এদের আকৃতি। প্রাপ্তবয়স্ক একটি গ্লাস স্কুইড দৈর্ঘ্যে ৩০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এর পরিপাক গ্রন্থিগুলো সবসময়ই দৃশ্যমান থাকে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, স্কুইড বিশেষ প্রক্রিয়ায় যে আলো সৃষ্টি করে তা বিস্ময়করভাবে চারদিকের অন্য আলোর সঙ্গে মিশে যায়। তখন এমন একটি বিভ্রম তৈরি করে যা দেখে মনে হয় আলোটি চতুর্দিক থেকে আসছে। এতে প্রাণিটির একটি ছদ্মবেশ তৈরি হয়।

5। ভূত চিংড়ি( Ghost shrimp ): প্রায় স্বচ্ছ এই জলজ প্রাণীটির আবরণ এতটাই স্বচ্ছ যে অনেক সময় গ্লাস অ্যাকুরিয়ামের ভিতরে এদের খুঁজেই পাওয়া যায় না! দেখে মনে হয় যেন অ্যাকুরিয়ামই দেখছি, এতটাই স্বচ্ছ এই চিংড়ির দেহ। পৃথিবীর দুর্গম অনেক নদী ও হ্রদে এই বিচিত্র প্রজাতির চিংড়ি দেখতে পাওয়া যায়। গোস্ট চিংড়ি মূলত উত্তর আমেরিকা থেকে এবং 1850 সালে প্রথম বর্ণিত হওয়ার পর হোম অ্যাকুয়ারিয়ামগুলিতে জনপ্রিয় হয়েছে। এরা যখন রঙিন খাবার খায় কেবল তখনই এদের দেখতে পাওয়া যায়। যে খাবারগুলো ওরা খায় সেগুলো স্পষ্ট দেখা যায় বাইরে থেকে! সাধারণত এরা সবুজ উদ্ভিদ খেয়ে থাকে, তাই রঙটাও সবুজই দেখা যায় ওর দেহের ভিতর।

৬। সালপাস (Sea salp ): এই প্রাণীটিকে প্রথমে দেখলে মনে হবে জেলি ফিশ। স্বচ্ছ এই প্রাণীগুলো মুক্তাবস্থায় ভাসতে থাকে। জেলি ভর্তি দেহ নিয়ে এরা সাঁতরায়। সাঁতরানোর সময় পানি শরীরের ভেতরে নিয়ে যায়, আবার বের করে দেয়। ওরা আসলে সাঁতরানোর সময়ই খাওয়া-দাওয়া করে।
পৃথিবীর প্রায় সব সাগরেই এদের দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু দক্ষিণ দিকের সাগর গুলোয় একটু বেশি দেখা যায় এদের।

About The Author
MD BILLAL HOSSAIN
MD BILLAL HOSSAIN
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment