Now Reading
হাজার তম রক্ত দান এর রেকর্ড করেছেন জেমস হ্যারিসন



হাজার তম রক্ত দান এর রেকর্ড করেছেন জেমস হ্যারিসন

অষ্ট্রেলিয়ার একজন রক্ত প্লাজমা দাতা যার অস্বাভাবিক প্লাজমা সন্নিবেশ রেসাস রোগ এর চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয় জেমস হ্যারিসন , দি ম্যান উইথ দ্যা গোল্ডেন ব্লাড নামেও পরিচিত।জেমস হ্যারিসন ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহন করেন । বর্তমানে জেমস এর বয়স ৮১ বছর ।২০১১ এর মে মাসে তিনি ১০০০ তম বারের রক্ত দানের মাইল ফলকে পৌঁছান। এই যাবৎ তিনি ২০ লাখের বেশি শিশুকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছেন, হ্যারিসন রক্তে এক দুর্লভ এন্টিবডি রয়েছে যা গর্ভাবস্থায় শিশুদের রেসাস নামের দুরারোগ্য এক ব্যাধি প্রতিরোধ করে!! তাঁর বয়স যখন ১৮ তখন থেকেই তিনি রক্তদান শুরু করেন । হ্যারিসন অবশ্য নিজেও জানতেন না যে তার রক্ত এত মূল্যবান!!প্রথমবার রক্ত দেবার সময় ডাক্তাররা আবিষ্কার করেন হ্যারিসনের রক্তে রয়েছে জীবন দানকারী এই এন্টি বডি যা এন্টি ডি হিসেবে পরিচিত ।১৪ বছর বয়সে বুকের একটা সার্জারির জন্য হ্যারিসন কে ১৩ লিটার রক্ত নিতে হয়েছিল বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে!!সুস্থ হবার পর পরই তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যতদিন বেচে থাকবেন ততদিন রক্তদান করে যাবেন!!

রক্তদান প্রসঙ্গে হ্যারীসন বলেন-

“যখন কেও আমাকে বলে,আপনি তো অনেক মহত কাজ করছেন,তখন আমার খুব লজ্জা লাগে!! কারণ আমার মনে হয়,আমি একটা কাজই করতে পারি,সেটা হল রক্ত দেয়া!!রক্তদানটাকেই আমি আমার একমাত্র প্রতিভা বলে মনে করি”। আমাদের খুব কাছের কারো রক্ত প্রয়োজন হলেই আমরা বুঝতে পারি এই কাজের মত উপকারি কাজ খুব দুরলব্য ।পৃথিবীতে এই মহৎ কাজটি করে যাচ্ছেন অনেকেই।আর এই কাজের গুরুত্ব ঠিক ততক্ষণ না আমরা বুঝতে পারি যতক্ষণ নিজের সাথে বা পরিবারে কারো সাথে এমন পরিস্থিতিতে না পড়ি অনেক কিছুরই মর্ম আমরা বুঝিনা।
তবে এটা জানা সত্ত্বেও যে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যে কোন সুস্থ মানুষ প্রতি চার মাস পর পর এক ব্যাগ অর্থাৎ ৩৫০ মিলিলিটার থেকে ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত দিতে পারে হ্যারিসন তা সাছন্দে করেছেন,অনেক সময় আমরা ভাবি নিজেদের কারো লাগলে তখন দিব,অন্যের জন্য রক্ত খরচ করার দরকার কি।জীবন বাঁচাতে বাঁচাতে
হ্যারিসন এর নাম গিনিজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এ উঠে গেছে।
রক্ত দান একটা মহৎ গুণ,এইটা নিয়ে এখন অনেকেই অনেক বিভিন্ন ওয়েভ সাইডে ব্লাড কালেক্ট করা যায় এপ্স তৈরি করেছেন।রক্তের দরকার হলেই আপনি এই এ্যাপে ঢুকবেন,রক্তের গ্রুপ দিয়ে সার্চ করলেই,এভেইলএবল ডোনারের সন্ধান পেয়ে যাবেন।
যারা এই মহৎ কাজ গুলো করেন তাদের কাছে একটা প্রশ্নের উত্তর আপনি কখনও পাবেন না, এই এত এত ভালো মানুষ আছে যারা অন্যকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্যা জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাই

About The Author
Sharmin Boby
Sharmin Boby
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment